তফাৎটা যখন বলায়!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

তফাৎটা যখন বলায়!

মুহিত আহমেদ জামিল ৩:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

print
তফাৎটা যখন বলায়!

মা-বাবারা সন্তানদের যা বলেন
ষসারাদিন মোবাইল ফোন টেপাটিপি করস। মোবাইল তোকে ভাত খাওয়াবে?
ষনবাবজাদা! ঘুম ভাঙল আপনার? সারা জীবন কি ঘুমিয়েই কাটাবেন?
ষঅমুকের ছেলে এই করছে, তমুকের মেয়ে সেই করছে, তুই কী করলি?
ষতোর ভবিষ্যৎ তো খুব অন্ধকার। কিছুই করতে পারবি না জীবনে!

পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার পর-
ষছেলে হলে : রিকশা কিনে দেব। সামনের মাস থেকে রিকশা চালাবি। অনেক হয়েছে, তোর আর পড়াশোনার দরকার নাই।
মেয়ে হলে : বিয়ে দিয়ে দেব। এভাবে পড়াশোনা করে কিছুই করতে পারবি না।
ষআচ্ছা, পড়িস না। বইটা তো কমপক্ষে খুলে দেখতে পারিস।
ষতুই আমাদের বংশের কলঙ্ক।
ষঅপদার্থ কোথাকার। কিছুই ঠিকমতো করতে পারিস না। তোকে নিয়ে আর পারি না!

সন্তানদের ব্যাপারে মা-বাবা অন্যদের যা বলেন
ষভাবি, আমার ছেলেটা খুব ভালো। অনেক বেশি ভদ্রও। রাস্তাঘাটে সবসময় মাথা নিচু করে হাঁটে।
ষচাচি, ছেলের কথা আর কী বলব, পড়াশোনায় মারাত্মক রকমের ভালো। এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। অমুক ইউনিভার্সিটিতে তমুক সাবজেক্টে পড়ালেখা করে। এ সাবজেক্টে পড়ার চান্স সবাই পায় না।
ষজি চাচা, পড়ালেখার বাইরেও সে পত্রিকায় লেখালেখি করে। কমেডি করে, ভিডিও বানায়। ছেলেটা অনেক ট্যালেন্ট। দোয়া করবেন।
ষছেলেটা আমার হীরের টুকরো। মাঝে মাঝে চিন্তা করে কূলকিনারা করতে পারি না, এই ঘরে এত ভালো একটা ছেলে কীভাবে জন্মাল!
ষনা, আমার ছেলে মোটেই ওরকম না। কোনো বদভ্যাস নেই ওর। না খায় সিগারেট, না পান-সুপারি, এমনকি চা-টা পর্যন্তও খায় না।
ষআর বলবেন না, এই ছেলেকে নিয়ে আর পারি না। সারাদিন পড়ালেখা করে। কত বলি, দিনরাত এত পড়ালেখা করিস না, পাগল হয়ে যাবি। তাও শুনতে চায় না। তার নাকি সবসময় পড়লেখা করতে ভালো লাগে। পাগল একটা!
ষমাঝেমাঝে আফসোস করি, এত বড় হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত ওর ব্যাপারে কেউ এসে একটাও অভিযোগ করল না। ছেলেমানুষ, কোথায় এটা-সেটা দুষ্টুমি করবে, তা না। এত ভালো হতে হবে কেন!

মোরাল অব দ্য স্টোরি : মা-বাবারা সবসময় ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে বাড়িয়েই বলতে পছন্দ করেন। সেটা হোক না সন্তানের সঙ্গে কিংবা অন্য যে কারও সঙ্গে। অতএব, মা-বাবার বকাঝকায় সন্তানরা মন খারাপ করবেন না, আবার অন্যদের কাছে নিজের প্রশংসা শুনেও খুশি হবেন না!