অনলাইন ক্লাসে

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

অনলাইন ক্লাসে

আল সানি ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

print
অনলাইন ক্লাসে

লকডাউনের কারণে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। ক্লাসের মোটামুটি সবাই বেশ একটিভ। হঠাৎ মামুনের ছোট ভাই এসে কান্না শুরু করল, স্পিকার অন থাকার কারণে স্যার বেশ বিরক্ত হয়ে বলে উঠলেন- ‘ক্লাস শুরু হওয়ার আগে দরজা আটকিয়া বসবা, কেউ যেন বিরক্ত না করে।’ মামুন ব্যাপারটা দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার পর স্যার আবার ক্লাস শুরু করলেন। হঠাৎ স্যারের বউ স্যারের পাশে এসে বলা শুরু করলেন, ‘সারাদিন ল্যাপটপে বাচ্চাদের মতো কী করো? কাঁচা বাজার নেই, বাজারে যাও একটু’। আমরা সবাই একযোগে হা হা করে হাসা শুরু করলাম; তবে স্পিকার বন্ধ থাকার কারণে স্যার অবশ্য শুনতে পাননি!

দুই.
লকডাউনে বাসায় বসে থাকতে থাকতে বেশ বিরক্তি লাগতে শুরু করল। এক বান্ধবীকে কল দিলাম। অনেক কথা শেষে ও বলে উঠল, ‘দোস্ত, মেকআপের সব প্রোডাক্ট শেষ, কিনে দে।’
আমি বললাম, ‘দাম কত?’
‘ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ১১০০, সানস্কিন ৬৫০, টোনার ৭৫০ টাকা...।’
‘এক ডজন করে না কিনে ১ পিস করে কিনলেই তো দাম কম লাগে।’
আমাকে অবাক করে দিয়ে ও বলে উঠল, ‘এগুলো এক ডজনের দাম না, এক পিসেরই দাম।’
এ কথা শোনার পর ৩৫ টাকার সাবান ব্যবহার করা আমি আর কিছু বলার সাহস পাইনি।

তিন.
ইলেক্টিকাল ম্যাথের ক্লাস চলছে অনলাইনে। ম্যাম একটা অঙ্ক শেখাচ্ছেন আমাদের। খাতায় অঙ্ক করে করে আমাদের দেখাতে লাগলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত অঙ্কটা আর মিলল না। আমরা বললাম, ম্যাম, অঙ্ক তো মেলেনি। ম্যাম নিজের ভুল শোধরানোর জন্য বলে উঠলেন, ‘এভাবে করলেও হবে, মিলার দরকার নেই।’ আমাদের এক বান্ধবীর নাম মিলা। ও অনলাইন ক্লাসে বেশ পরে যোগ দিয়েছে, দিয়েই শুনতে পেরেছে ‘মিলার দরকার নেই’। ও হয়ত ভেবে নিয়েছে, দেরিতে জয়েন করার কারণে ম্যাম রাগ করে বলেছেন ওকে দরকার নেই। তাই একনাগাড়ে সরি বলতে লাগল। আমরা যারা ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পেরেছি তাদের হাসি দেখে কে!