উপহার বিড়ম্বনা

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

উপহার বিড়ম্বনা

অপু চৌধুরী ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

print
উপহার বিড়ম্বনা

আতেলা এখন লকডাউনে আছে, পাশের বাসায় করোনা সংক্রমিত হওয়ায় কয়েকটা ঘরের কোনো সদস্যই আগামী ১৪ দিন আর বের হতে পারবে না। এর মধ্যে ঈদ উৎসবও শেষ হয়ে যাবে, খুব অস্থিরতায় দিন কাটে আতেলার, কারণ একটা পোশাকও কেনা হয়নি। মদনের সঙ্গে তার মুখোমুখি শেষ আলাপ হয়েছিল এক মাস আগে। তাদের পরিকল্পনা ছিল এবার ঈদে তারা জমিয়ে শপিং করবে আর দুজন মিলে চুটিয়ে বেড়াবে। মদন আতেলার সদ্য প্রেমিক। ইহা মদনেরও নতুন প্রেম, কী প্রগাঢ় ভালোবাসা একের প্রতি অন্যের!

আতেলাকে কল দেয় মদন। রিসিভ করে না। সে ভেবে পায় না মদনকে কী বলবে! যদি লকডাউনের কথা জেনে মৃত্যুভয়ে সম্পর্ক ভেঙে দেয়! কারণ আতেলা শুনেছে, করোনা হলে তো কেউ কারো কাছে আসে না। আতেলা জীবনের প্রথম প্রেমের এমন মৃত্যু চায় না। মদনের কল দেওয়ার কারণ হল, আতেলাকে ঈদ উপলক্ষে একটা জম্পেশ জামা উপহার দেওয়া নিয়ে তার পছন্দ জেনে নেওয়ার। মদন ভাবে আতেলা হয়ত অভিমান করেছে তার ওপর। তাই সিদ্ধান্ত নিল, যেকোনো উপায়ে একটা নতুন ডিজাইনের নতুন নামের জামা কিনে আতেলার ঘরে পাঠাবে এবং তা ঈদের আগেই। আতেলার মান ভাঙবে। মোবাইল মেসেজে জানায় গিফটের কথা, আতেলা মনে মনে খুব খুশি হয় কিন্তু রিপ্লাই দেয় না। ওকে ইমুজি পাঠায়, এতেই মদন খুশি।

চারিদিকে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ। কীভাবে জামা কিনবে! অবশেষে উপায় খুঁজতে এক বন্ধুর সঙ্গে সব শেয়ার করল। বন্ধু, ফেসবুক খুলে দেখাল তাকে, ‘খেলা আপুর শপিং মল’ নামের ফেসবুক পেজ। ঠিক তখনই খেলা আপু লাইভে ছিলেন এবং বিভিন্ন রকম পোশাকের বিজ্ঞাপন করছিলেন। বন্ধু, মদনকে বুঝিয়ে দিল, যিনি কথা বলছেন তিনিই অর্ডার মতো টাকা বিকাশে পরিশোধ সাপেক্ষে পণ্য পাঠিয়ে দেয়। মদনের আনন্দ ধরে না! শুরু হয় কথোপকথন। মদনের কথামতো খেলা আপু এক্কেবারে নতুন হালফ্যাশনের তিনটি জামা দেখাল, একটার নাম করোনা, দ্বিতীয়টার কোভিড আর তৃতীয়টার নাম ভাইরাস। মদন পড়াশোনা তেমন না জানলেও ইতোমধ্যে এসব শব্দের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছে। মদন ভাবে নামগুলোতে যেমন নতুনত্ব রয়েছে তেমনি আকর্ষণ আছে, আতেলার জন্য ‘করোনা’ নামের জামাটি জব্বর হবে। দরাদরি করে নিজের জন্যও একটি ‘ভাইরাস’ শার্টের দামসহ ৫,০০০ টাকা বিকাশ করে দেয়। তিন দিন পরে মদনের ঠিকানা বরাবর পৌঁছে গেল ‘করোনা-খেলা আপুর সেরা ঈদ কালেকশন’ লেখা একটি প্যাকেট। কত আশা মদনের, করোনা-ভাইরাস পোশাক পরে দুজন খুব মজা করে ঘুরে বেড়াবে।

খুশি মনে জামার প্যাকেটটা আতেলাকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। রাস্তাঘাটে মানুষজন তেমন নেই। আতেলার বাড়ির সামনে পৌঁছাতেই দশ/এগারো বছরের এক বালককে দেখে মদন ডেকে নেয়। জিজ্ঞেস করে, বাবু, তুমি কি আতেলাকে চেনো?

বালক উত্তর দেয়, হুম। কিন্তু এখানে লকডাউন চলছে। তাকে ডেকে দেওয়া যাবে না। আপনিও ঢুকতে পারবেন না, তাড়াতাড়ি চলে যান।
মদন বলে, ঠিক আছে তাহলে প্যাকেটটা উনাকে একটু পৌঁছে দিও।

মদন চলে গেল। দুষ্টু বালকটা দেখল প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘করোনা’ আর প্রেরক লোকটার গায়ে পরিহিত শার্টে লেখা ছিল ‘ভাইরাস’। সে চিৎকার করে উঠল- ভাইরাস করোনা এনেছে! ভয়ে প্যাকেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে ঘরে ঢুকে যায়। পরের দিন সকালে মদন বাড়ির ছাদ থেকে দেখতে পায় সেই জামাটি গায়ে দিয়ে এক মেয়ে হেঁটে যায়, মদনের মনে আনন্দের ঝড় ওঠে। স্বাভাবিক কারণে রাস্তায় আর কেউ ছিল না। মদন দৌড়ে এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতেই থাপ্পড় মারতে উদ্যত হয় আতেলার বাড়ির দারোয়ানের মেয়ে!