টাপুরটুপুর টুপুর টুপুর

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

টাপুরটুপুর টুপুর টুপুর

অভিজিত বড়ুয়া বিভু ৮:১২ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

print
টাপুরটুপুর টুপুর টুপুর

চারদিকে এখন এক আওয়াজ। আলোচনায় নাচ শুধু নাচ। আরে ভাই কেউ না কেউ নাচল। তাতে কী এমন হল। নাচ নিয়ে এত নাচানাচি কেন? -আরে ধুর। না জেনে না বুঝে চিল্লাচিল্লি করিস না তো। তুই দেখলে তো একদম...। যাই বলিস কাজটা কিন্তু ভালো করেনি। এভাবে কেউ নাচে নাকি। ছি ছি ছি!

-কে নাচল। ছেলে না মেয়ে? মেয়ে নাচলে যেমন তেমন। ছেলে নাচলে তো...!
-বল থামলি কেন? ছেলেরা কী নাচে না! ছেলেরা নাচলে কী হয়?
-ছেলেরা নাচলে মেয়ে হয়। হাঁটাচলার ভঙ্গি পাল্টে যায়। সঙ্গে কথার ভঙ্গিও। হাত নেড়ে কোমর দুলিয়ে ভাব প্রকাশ করা শুরু করে দেয়।
-মন্দ বলিসনি। নাচল তো তিন ছেলে। তিন ছেলের নাচ নিয়েই তো যত আলোচনা। গেরুয়া কাপড় গায়ে হিন্দি গানে কেউ কী উন্মাদের মতো নাচে?
-ভনিতা না করে খুলে বলবি কারা নাচল? কেন নাচল?
-তোকে বলব না। তোকে দেখাব। মোবাইল ফোনে...।
-মোবাইল ফোনে? আরে ধুর। আজেবাজে জিনিস দেখাইস না তো। দেখব না। এসবে রুচি নাই।
-তুই তো দেখছি বড্ড বেরসিক। তোকে কি এমন কোনো নাচ দেখাব যা তুই আগে দেখেছিস। এমন নাচ দেখাব যা তুই আগে কখনো দেখিসনি।
-দেখি...। এ কী রে! এ যে দেখছি ঠাকুর। উনারা নাচল। হিন্দি গানের তালে তালে নিজেদের ভিডিও নিজেরা করতে করতে নাচতে পারল! নাচতে নাচতে কাপড় পর্যন্ত...? এই তিন ঠাকুরকে চিনিস?
-আমি চিনলে তো তোরও চেনার কথা! চিনি না বলেই এত আলোচনা।
-টাপুরটুপুর টুপুর টুপুর ।
-ওই পাগল থামবি? দেখামাত্র তুইও দেখছি নাচানাচি শুরু করে দিলি। ঐ দেখ পাড়ার ছেলেরা আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে। এ তো দেখছি ভাইরাল হয়ে গেল রে। টাপুরটুপুর টুপুর টুপুর বললেই সবাই বুঝে ফেলে।
-টাপুরটুপুর টুপুর টুপুর...।
-আবার! তুই দেখছি ইজ্জত মারবি।
-আরে ধুর। আমি কি আর স্বল্প বসনে নাচছি রে। হিন্দি গানের মানে আমি বুঝি। নাচের গান গাইছি। নাচছি না। যেটুকু জানি...।
টাপুরটুপুর টুপুরটুপুর... টুপুর।