প্রবাসীর স্ত্রীর পদ্য-বচন

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

প্রবাসীর স্ত্রীর পদ্য-বচন

কামাল আহমেদ ৮:০১ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

print
প্রবাসীর স্ত্রীর পদ্য-বচন

স্বামী বহু বছর ধরে প্রবাসে আছেন।
স্ত্রীর রসদ, বিলাসভোগ, নাটাইবিহীন ঘোরাঘুরি, কিছুতেই সমস্যা হচ্ছে না। টাইম-টু-টাইম ফরেন টাকা ঘরে আসছে। স্ত্রীর স্বজনরাও এ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না। মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে রসবচনেও ঘাটতি নেই। কেবল দেশে আসতে চাইলেই নানা বাহানায় আরও কিছুদিন বিদেশে থাকার পরামর্শ দেন স্ত্রী।

থাক সেসব। করোনাকালে বিশ্বজুড়ে মহা-আতঙ্কে সবারই দিন যাচ্ছে। স্বামীর সামান্য সর্দিকাশি হতেই মনটা দুর্বল হয়ে গেল। ভাবলেন দেশে ঘুরে আসবেন। স্ত্রীর যখন বরাবরই তার দেশে আসায় আপত্তি। তাই স্বামী ভাবলেন স্ত্রীকে একটু রস করেই কথাগুলো বলবেন। স্ত্রীকে ছন্দে ছন্দে বলেন, ‘বউ, হঠাৎ কেন সর্দি কাশি, আসবো দেশে ফিরে/ দেখতে তোমায় মন উচাটন, হার কিনেছি হীরে।’

স্ত্রী মতলব বুঝে নিলেন। মনে মনে ভাবলেন তিনিও বুঝিয়ে দেবেন ছন্দ যে তিনিও জানেন। বললেন, ‘না এসো না, থাকো আরো, সময় হয়নি আসার/ কাছাকাছি বিপদ বেশি, একাই করো সময় পার।’

স্বামী ভাবলেন, কাজ হবে। আর একটু বলিÑ ‘বউ গো এখন করোনাকাল, থাকতে হবে পাশে/ যায় না বলা কার যে কখন কঠিন বিপদ আসে।’
স্ত্রী বললেন, ‘স্বামী, এখন করোনাকাল, থাকতে হবে দূরে/ যায় না বলা কে যে কখন কাছে ডেকে মারে।’

স্বামী চিন্তায় পড়ে গেলেন। ভাবলেন, আর একটু আহ্লাদে বলা যাকÑ ‘পরান পাখি বউ, তুমি আমার আমি তোমার/ সত্যি করে বল, আমি ছাড়া আপন কে আর।’

স্ত্রী ভাবলেন, স্বামী নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত। ঘাটের মরার সঙ্গে বেশি ভাব দেখানোর দরকার নেই। বললেন, ‘সর্দি তোমার কাশি তোমার, ভাব করো না আর/ বিদেশ থেকে লওয়া, করোনা যে সঙ্গী তোমার।/ মণিমুক্তা, হীরের হার করোনাকেই দিও/ তোমার দুয়ারে দিলাম কাঁটা, আমায় ভুলে যেও!’