বলা সহজ মানা কঠিন

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বলা সহজ মানা কঠিন

আলম তালুকদার ৭:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

print
বলা সহজ মানা কঠিন

ঘরেই থাকেন। বলা যতটা সহজ মানা ততটা সহজ মনে হচ্ছে না। সারাজীবনের নিয়মনীতি এক করোনা এসেই সব উলটপালট করে দিল রে! আর কাহাতক? প্রায় দুই মাস কেমনে কেমনে চলে গেল? এখন অনেকটা সেই জ্যোতিষের হাত দেখার মত। একজন বিয়ে করে গুলিস্তানের ফুটপাতের এক জ্যোতিষকে হাত দেখাল! সে হাত দেখে একটু ভাব নিয়ে বলল, হুম, বিয়ের প্রথম ছয় বছর খুবই কষ্টে যাবে।

তারপর কী হবে?
জ্যোতিষ বলল, তা বলতে পারব না তবে ‘সইয়া যাবে’!
তাই তো দেখছি, আস্তে আস্তে সইয়া যাচ্ছে।

এখন মধ্যবিত্ত পরিবার আছে মাইনকা চিপায়! ব্যয় আছে আয় নাই। শ্রমিক শ্রেণি তো মহা মাইনকা চিপায়! কী করে কী খায়? অবস্থা অসহায়! এই অসহ্য অসম্ভব সময় আমাদের পার হতে হচ্ছে।

তার মধ্যে অনেক পরিচিত প্রিয়জন করোনাক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে গেলেন। তাদের জানাজায় সামিল হতে পারলাম না! এসব কষ্টও আমাদের সইতে হচ্ছে। আগামীতে কী হবে তাও বলা যাচ্ছে না। তবে মানুষ তো আশায় আশায় বাঁচে। আমরাও যতদিন আছি, আশায় আশায় বাঁচি। না রে ভাই, আমার সিরিয়াস বিষয় ভালো জমে না।

মানুষ এমন একটা প্রাণী প্রিয়জনকে হারানোর পরে, দু’একদিন পর হলেও তাকে হাসতে হয়! হাসতে না পারলে সে অসুস্থ হয়ে যাবে, না হয় পাগল হয়ে যাবে। এই করোনাময় সময়েও হাসির জোকস তৈরি হচ্ছে। গতকাল আমার এক কলিগ, রানা জামান এক জোকস পোস্ট করেছেন। সেটা মেরে দিই। একজনের দেহে করোনার সিন্টম আছে মনে হল। তো এখন সে চিন্তা করল সিস্টেম অনুযায়ী যদি যাই মেলা ঝামেলা। এখানে না ওখানে। লাইনে দাঁড়ান। আরো কত কী? কাজেই সে এক ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার মুখের সামনে একটা জোরে হাঁচি দিয়ে পলাতক হয়ে বাসায় এসে চুপচাপ বসে রইল। ডাক্তার সাহেব দ্রুত পরীক্ষা করে রিপোর্ট পেলেন। ঐ লোক তো খোঁজখবর রাখছিল। তো ডাক্তারের রিপোর্ট, নেগেটিভ। ব্যস হয়া গেল। তার আর পরীক্ষার দরকার আছে? একে বলে বাঙালির বুদ্ধি! অনেকের ধারণা করোনা নিয়ে সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা। সরকারের আদেশও জনগণ ঠিকমত মানছে না। সেই বাপ-বেটার গাধা নিয়ে বাজারে যাওয়ার মতন কাহিল লাজুক অবস্থা। সে গল্পে যাচ্ছি না। বরং খুশবন্ত সিংয়ের একটি জোকস বলি।

চার শিখ বাল্যকালের বন্ধু। তারা ব্যবসা করার জন্য যৌথ উদ্যোগ নিয়ে পেট্রোল পাম্পের ব্যবসা শুরু করল। গ্রাহক তো একটাও আসে না! বলেন তো কেন?

ওরা এতই বুদ্ধিমান যে পাম্পের সাইনবোর্ড লাগিয়েছে বিল্ডিংয়ের দোতলায়! ব্যবসা লাটে! তারপর তারা ঐটা বাদ দিয়ে একটা ভাড়ায়চালিত টেক্সি ক্রয় করে ব্যবসা শুরু করলো। কিন্তু কোনো যাত্রী তাদের গাড়িকে সিগনাল দেয় না! কেন বলুন তো?

কারণ, চারজন গাড়িতেই বসে থাকে যে! হা হা হা। তারপর একদিন সদর রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। কিছুতেই ইঞ্জিন চালু হয় না! কিছুক্ষণ পরে পথচারী একজন বলল, আরে ভাই নেমে গাড়িটা ধাক্কা দিলেই তো চালু হয়। এই বুদ্ধি পেয়ে তারা গাড়ি থেকে নেমে ধাক্কানি শুরু করল। কিন্তু গাড়ি চালু হবে তো দূরের কথা, আগায়ও না পিছায়ও না। বলেন তো কেন?

বুদ্ধিমানরা বিষয়টা অবশ্যই ধরে ফেলেছেন। ওরা তো শিখ সরদার! ওদের বুদ্ধি আপনাদের মত সোজা সরল নয়। ওদের বুদ্ধি হলো যৌথবুদ্ধি। এই কারণে গাড়ির সামনে দুজন আর পিছনে দুজন গাড়িটা ঠেলছিল! এই কারণে গাড়ি নট নড়নচড়ন! তো আমাদের করোনাময় সময়ের গাড়ি কিন্তু থেমে নেই। রোগী বাড়ছে, রোগী মরছে! আমাদের বুদ্ধি নিশ্চয়ই ঐ শিখদের চেয়ে উত্তম।