মশা নিয়ে মশকরা

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মশা নিয়ে মশকরা

ড. ইমদাদুল হুদা মুকুল ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ০৪, ২০২০

print
মশা নিয়ে মশকরা

রাতে মশা দিনে মাছি
এই নিয়ে কলিকাতা আছি।
কবির এই উপলব্ধি এখন অক্ষরে অক্ষরে টের পাচ্ছি। শুধু ‘কলিকাতা’ শব্দটির জায়গায় ‘কোয়ারান্টিন’ শব্দটি হবে। এই হোম কোয়ারান্টিনের সৌজন্যে আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি মশা কী জিনিস। ভাগ্যিস, আম-কাঁঠালের ‘মধুর রস’-এর মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। তা না হলে কবির মত আমাদেরও একূল ওকূল দু’কূলই হারাতে হত। দিনের মাছির সঙ্গে রাতের মশা প্যাকড আপ হয়ে লাইফ হেল করে তবে ছাড়ত। এমনিতেই কোয়ারান্টিনে যে পেরেশানে আছি!

আমার কথাই ধরুন। স্বাভাবিক সময়ে সন্ধ্যার পর ঘণ্টা দুয়েকের জন্য বাসা থেকে হাওয়া হয়ে যেতাম। এতে নিজের গায়ে যেমন খানিকটা হাওয়া লাগত, তেমনি গিন্নিও খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন। সে-সময়টুকুর জন্য কিছু খুচরা ফাইফরমাশ খাটার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যাপারটা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু টেলিভিশনের রিমোটটার ওপর যে একচ্ছত্র দখল কায়েম করতে পারতেন তা তো হেলাফেলা নয়।

তারপর মনের সুখে জি-বাংলা থেকে স্টার জলসা, সেখান থেকে সনি, আবার সেখান থেকে জি-সিনেমা কিংবা সনি এসবে স্বাধীনভাবে পরিভ্রমণ করতে পারতেন। আমি বাসায় ফিরে নৈশভোজ সেরে অতি স্বল্প সময়ের জন্য টেলিভিশনের সামনে বসতাম, তারপর কালবিলম্ব না করে মশারির মধ্যে টুপুস করে ঢুকে যেতাম। কারণ শরীর থাকত ক্লান্ত। দুই এক পাতা পড়াশোনার প্রয়োজন থাকলে তা সেখানেই সেরে নিতাম। তাতে বেচারা মশকরা খুব বেশি একটা বাগে পেত না আমাকে।

কিন্তু এখন! সন্ধ্যা থেকে রাত বারোটা অবধি একটানা ছয় ঘণ্টা সময়। পুরো সময়টা তারা আমাকে কব্জায় পায়। এপাশ, ওপাশ, সেপাশ ঘুরে ঘুরে মনের আশ মিটিয়ে রক্তের স্বাদ গ্রহণ করে। মশারির ভেতর আর কাহাতক বসে থাকা যায়। যদি ঘুম না আসে। নিদ্রা দেবী তো সর্বদাই চায় ক্লান্ত শরীর। তা সেই ক্লান্ত শরীর আসবে কী করে যদি সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে ঠ্যাং তুলে বসে থাকি। তাছাড়া কপাল খারাপ হলে যা হয়! মশার চোখ যেন ঘুরে-ফিরে শুধু আমাকেই দেখতে পায়। পাশে যে জলজ্যান্ত একজন মহিলা বসে থাকে তার দিকে যেন নজরই পড়ে না।

দুর্দশা দেখে আমার অবুঝ ছেলে অবাক হয়ে বলে, মশারা শুধু আব্বুকেই কামড়ায়। অমনি আমার গিন্নি সুযোগটা নিয়ে বসে, মশা ক্ষুদ্র প্রাণী বলে কি আর ভালো-মন্দ বোঝে না। ঢের বোঝে। তোর আব্বু হল পাপী মানুষ, তাই মশারা শাস্তি দেয়। আত্মরক্ষার জন্য তৎক্ষণাৎ ঢাল পেতে দিই।

বলি, আসলে কী বাচা, এখানে প্রায় সব মশাই হচ্ছে মহিলা। এমনিতেই, মশারা বেশিরভাগ মহিলাই হয়, আর এখানে মাত্রাটা আরেকটু বেশি। আর এরা বেছে বেছে শক্ত-সামর্থ্যবান পুরুষদের পছন্দ করে। বিপরীত লিঙ্গের ওপর আকর্ষণ আর কি। এই যেমন ধর, জীন ভর করে মহিলাদের ওপর, আর পরী ভর করে পুরুষদের ওপর। কিংবা করোনার কথাই ধর, তারা কাদের বেশি ধরছে? নিশ্চয়ই পুরুষদের? আর তা ধরছে কারণ তারা মহিলা। নামটাই দেখ না- ‘করোনা’। মহিলা নাম না? মশা বল আর করোনাই বলÑ তা সে যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ষোল আনা!