মচমচে খোলস

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মচমচে খোলস

গোলাম মোর্তুজা ৭:৩১ অপরাহ্ণ, মে ০৪, ২০২০

print
মচমচে খোলস

কালচার আছে দেশে। আসে নানান ভাবাবেশে। সুর হয় অসুর আবার অসুর হয় সুর। শুধু খোলস পরিবর্তনে। পরিবর্তন আনে নানা জনে। নাইপুর গ্রামের খাসিয়া কলেজপড়–য়া। মনে মনে ভাবে। রাজনীতি করবে। কলেজে করেছে তাই দু’একবার হাতাহাতির লড়াই। গড়ে তোলে খাসিয়া গ্রুপ। রাজনীতি কালচারের স্বরূপ। কলেজে এল একদিন, বড় নেতা ফারদিন। পরিচয়ের পর্বে।

বলেন বড় নেতা গর্বে, ‘আসো শহরে। নেতা হবে বহরে। একবার দেখো। কালচার শেখো।’ নেতার কথায় খাসিয়া। প্রাণ ফিরে পায়। পড়া যায় গোল্লায়। পড়াশোনা কলেজেই চালায়। কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে। বের হল শহরে হর্ষে হর্ষে। নেতার সঙ্গে করে দেখা।

নেতা বলে, ‘তুমি কে খামাখা?’ নেতা যখন চড়ল পাজেরো গাড়িতে। খাসিয়া তখন বলল হাঁটতে হাঁটতে, ‘আমি খাসিয়া। নেতা একবার দেখেন ভাবিয়া। আসতে বলেছিলেন শহরে। জীবন ভরাবেন কালচারে।’ খাসিয়ার কথা। বুঝতে পারে নেতা। ভাবেন লাগাবেন কাজে। ফাঁকি দেওয়ার সমাজে। নেতা বলেন হেসে হেসে, ‘পরীক্ষা নিলাম তোরে খেসে।

গাড়িতে চড়।’ ড্রাইভারকে বললেন, একটু সর। একদিন রাত দুপুরে। নেতা ঢুকলেন জলসা ঘরে। খাসিয়া ওরফে খেসে বলল ড্রাইভারকে জশে, ‘স্যার এসব কী করে? চার-পাঁচটা মেয়ে নিয়ে ঘরে।’ ড্রাইভার বলে হাত নেড়ে। খেসে যায় একটু সরে, ‘এত বড় মানুষের দ্বারে, দুপাঁচটা বান্ধবী থাকতেই পারে।’ খাসিয়া ওরফে খেসের হাতে এখন সিগারেট। হয়েছে সে ড্রাইভারের সাবলেট।

নেতা মাতাল রঙমহলেতে। এবার দুজনে ধরে নিল বাড়িতে। বাড়ির নেত্রী হায়। এখনো আসে নাই। সারাদিন কাজ আর কাজ। সাজে নানান সাজ। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম লেগেই থাকে। অনেক সময় বন্ধুরা রেখে যায় তাকে। এমনিতেই খুব কড়া। আচরণেও সবার সঙ্গে ছ’কড়া ন’কড়া।

খাসিয়ার চেহারা। একদিন দেখেন ম্যাডাম পিয়ারা। বলেন, ‘কে তোমায় জোটালো? দেখে তো মনে হয় ভালো। আজ আমার সঙ্গে যাবা। পরিধানের পোশাক ছাড়বা। টাকা নিয়ে যাও। পোশাকে নিজেকে সাজাও।’ খাসিয়া পড়ল ঘোর বিপদে। কার সঙ্গে যাবে আমোদে। নেতা ডাকল। বলল, ‘আজ অনেক কাজ।

দেখব টাকার ভাঁজ। আছে মিটিং। বড় নেতাদের সঙ্গে সিটিং। দেশের ভাবনা। সবারই জানা।’ নেতার কথা শুনে খাসিয়া কথা বলে গুনে, ‘ম্যাডামের সঙ্গে যেতে হবে রাতে। বলেছেন আমাকে বাসায় থাকতে। কী করব স্যার বলেন। না হয় চলেন।’