রানা-সোহানার বিপদ

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রানা-সোহানার বিপদ

বিশ্বজিৎ দাস ৭:১৪ অপরাহ্ণ, মে ০৪, ২০২০

print
রানা-সোহানার বিপদ

ধীরে ধীরে চোখ মেলল বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের দুর্র্ধর্ষ স্পাই মাসুদ রানা।
একমুহূর্তের জন্য মনে পড়ল না কোথায় আছে ও। লন্ডন, দুবাই না নিউইয়র্কে। বিদেশে থেকে এই এক খারাপ অভ্যাস হয়েছে। ঘুম ভাঙার পর মনে পড়তেই চায় না- কোথায় আছে।

ঢাকায় আছে রানা। সকালে ঘুম ভাঙেনি, রানার মা বাসায় নেই। করোনার কারণে সরকারি ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছে।

মেসেঞ্জার অন করল ও। সোহানা লিখেছেÑ হাসপাতালে গেলাম। রিপোর্ট নিয়ে আশা করছি বিকেলের মধ্যে তোমার বাসায় আসব। কাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছে রানা। কীসের রিপোর্ট? সোহানা মা হতে চলেছে নাকি? ধুত্তোর! মাথা হ্যাং হয়ে আছে। আগে স্নান সেরে নিয়ে বের হই বাসা থেকেÑ ভাবল রানা। সোহানা আজ রান্না করে খাওয়াতে চেয়েছে। মাংস কেনার জন্য গিলটি মিয়াকে ফোন করতে হবে।

দুই.
গিলটি মিয়া দাঁড়িয়ে আছে লাইনে। দশ টাকা কেজি দরে চাল কিনবে। দু’মাস ধরে বেতন বন্ধ। কী খাই, কেমনে চলি তার কোনো খোঁজ রাখে বস! শুধু তো ফোনে আদেশ দিয়েই খালাসÑ মাংস নিয়ে বাসায় এসো। আরে বাবা, মাংস কিনতে যে টাকা লাগবে সেটা পাব কই!
হঠাৎ ওর চোখ পড়ল সামনে। সামনে দাঁড়ানো লোকটির আগের জনের পেছনের পকেটে উঁকি দিচ্ছে মানিব্যাগ! এদিক ওদিক তাকাল গিলটি মিয়া। কেউ দেখছে না তো।
মাথা ঝাঁকিয়ে ওসব চিন্তা দূর করে দিল।
একটু পর আবার চোখ গেল।
দূর ছাই! নিয়েই নিই মানিব্যাগটা। তারপর কী হবে দেখা যাবে।
পকেট থেকে মানিব্যাগটা সরাতেই লোকটা বোধহয় টের পেল।
পেছন ফিরে তাকাল।
‘তুই আমার মানিব্যাগ নিয়েছিস? ভালোয় ভালোয় ফেরত দে।’
‘আমি কেন তোর ব্যাগ নেব? তোর মত ফকিরের ব্যাগে মানি থাকলে এখানে লাইনেই দাঁড়াতি না।’
‘কী! আমি ফকির!’ দুম করে ঘুষি বসিয়ে দিল সে অন্য লোকটির মুখে।
দুজনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল। সেটা থামাতে এগিয়ে এল অন্যরা।
চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেল।
গিলটি মিয়া সেখান থেকে অনেক দূরে চলে এল। মানিব্যাগের মুখ খুলল।
মানিব্যাগ ফাঁকা।
সেখানে কোনো টাকা নেই!

তিন.
রানার পকেটে টাকা নেই। আছে ক্রেডিট কার্ড। গাড়ি নিয়ে রানা তাই চলে এল একটা ফাইভ স্টার হোটেলে। এদের জিমটা বেশ সুন্দর। রানার ইচ্ছেÑ দুপুর পর্যন্ত ব্যায়াম করবে। তারপর দুপুরে খেয়ে বাসায় ফিরে সোহানার জন্য অপেক্ষা করবে।
সোহানাকে ফোন করল। ধরল না ও।

চার.
সোহানার অস্থির অস্থির লাগছে।
গ্রাম থেকে চাচা এসেছেন। অসুস্থ।
তাকে নিয়ে সকাল থেকে এ হাসপাতাল ও হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছে।
শেষে সরকারি একটা হাসপাতালে চাচার রক্ত, লালা আর নাকের শ্লেষা পরীক্ষার জন্য নিয়েছে।
রোগী নেই।
তাই তাড়াতাড়ি রিপোর্ট দেবে বলেছে।
ক্ষিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে।

পাঁচ.
রানারও ক্ষিদে লেগেছে।
‘বস, এবার অনেকদিন পর এলেন জিমে। অসুস্থ ছিলেন না কি?’ রানার বুকের ওপর ভারি বার ডাম্বেল ওঠাতে ওঠাতে বলল বাবলু। জিম সহকারী।
ওজনটা একটু বেশি হয়ে গেছে।
‘কী বস, বললেন না তো?’
‘দেশে ছিলাম না রে। নিউইয়র্ক, ইতালি, লন্ডন ঘুরে গত সপ্তাহেই দেশে এসেছি।’
অমনি ফ্রিজ হয়ে গেল বাবলু।
ফিসফিস করে বলল, ‘আগে বলবেন না বস!’

ছয়.
‘আগেই বলে নেওয়া ভালো। আপনি আর বাসায় যেতে পারবেন না। আপনাকে আইসোলেশনে নেওয়া হবে। আপনার চাচা করোনা পজিটিভ। বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিন।’ সোহানাকে বলল ডাক্তার।
রানাকে ফোন করল ও।

সাত.
ফোন বাজছে।
বুকের ওপর ভারি ডাম্বেল বার নিয়ে শুয়ে আছে মাসুদ রানা।
‘বাবলু, ম্যানেজার!’
কেউ উত্তর দিল না। সবাই পালিয়েছে।