করোনা ভাইরাসের দিনগুলোতে প্রেম

ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

করোনা ভাইরাসের দিনগুলোতে প্রেম

শিমুল শাহিন ১:৫৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

print
করোনা ভাইরাসের দিনগুলোতে প্রেম

শহরজুড়ে সাধারণ মানুষের ভেতরে বেশ অস্থিরতা কাজ করছে। সবাই আতঙ্কিত- করোনা ভাইরাসের ভয়ে! কেউ হাঁচি বা কাশি দিলেই এমনভাবে সবাই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে যে সে বিশাল এক পাপ করে ফেলেছে!

কী এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সবাই! এরকম পরিস্থিতিতে সবাই যখন ব্যতিব্যস্ত মাস্ক, স্যানিটাইজার নিয়ে- তখন আমি সেসব বাদ দিয়ে ভাবছি নীতুর কথা! নীতু আমাদের ডিপার্টমেন্টেরই জুনিয়র। বেশ কয়েক বছর থেকেই সে আমাকে অনেক পছন্দ করে। আমাকে সে কী কারণে এতটা পছন্দ করে তা অবশ্য আমি জানি না। কখনো ওর কাছে জানতেও চাইনি।

আমি অনেকটা বেখেয়ালি আর চালচুলোহীন ছেলে, অথচ এমন একটা ছেলের প্রেমে পড়ে বসে আছে নীতুর মতো সুন্দরী একটা মেয়ে- ভাবা যায়? বেশ কয়েক বছর ধরেই ওর পছন্দের বিষয়টা আমাকে বিভিন্নভাবে জানানোর চেষ্টা করেছে, সেটা বুঝতে পেরে স্বভাবতই ইগনোর করেছি। কিন্তু ও হাল ছাড়েনি, বাধ্য হয়ে দ্বারস্থ হয়েছিল আমার কাছের বন্ধু-বান্ধবীদের। ওদের সে নানানভাবে বোঝাত। আর আমার বন্ধু-বান্ধবীরা এসে আমায় নীতুর হরেক রকমের গুণকীর্তন শুরু করত।

আমি যতই ওদের ফাঁক গলে বের হওয়ার চেষ্টা করতাম, ততই ওরা আমায় চেপে বসত। এইতো সেদিন বান্ধবী নুহা রেগেমেগে বলেই বসল, ‘তুই কেমনে নীতুকে পাত্তা দিস না? তোর সাত পুরুষের ভাগ্য যে নীতুর মতো মেয়ে তোকে পছন্দ করে!’

আমিও অনেক ভেবে দেখলাম। খামখেয়ালি তো অনেক করলাম, এবার একটু থিতু হওয়া দরকার। আর নীতু মেয়েটা দেখতেও নেহাত মন্দ না, পারিবারিকভাবেও ওরা বেশ সমৃদ্ধ।

আচার ব্যবহারেও খারাপ কিছু কখনো চোখে পড়েনি! তাইতো কাল রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম নীতুকে ‘হ্যাঁ’ করে দেব! ওকে ফোন দিয়ে ডেকেও এনেছি, একটা রেস্টুরেন্টে এখন বসে আছি দুজনে! নীতু বেশ সলাজে মাথা নিচু করে বসে আছে। অনেকক্ষণ দুজন চুপচাপ বসে থাকার পরে মৌনতা ভাঙলাম আমি। বললাম, ‘আমাকে অনেক ভালোবাসো, তাই তো?’

নীতুর সম্ভবত এ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করাই ছিল! সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘হ্যাঁ, অনেক ভালোবাসি!’

‘আমার সব বন্ধু-বান্ধবীদের তুমি বলেছ, আমায় ছাড়া বাঁচতে পারবে না! এটা ঠিক?’

‘জ্বি, এটাও ঠিক।’

শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়াটা আর প্রকৃতিতে নেই, বেশ গরমও পড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়টায় প্রায় প্রতি বছরই আমার জ্বর, সর্দি পরিচিত একটা ঘটনা। এবারও ঠিক তাই হয়েছে। আমার শরীর খারাপ বুঝতে পেরেই কিনা নীতু বলল, ‘আপনার শরীর খারাপ?’

বললাম, ‘হ্যাঁ, কয়েকদিন থেকেই জ্বর! সর্দি আর কাশিও আছে।’ নীতু কী বুঝল বুঝলাম না, হঠাৎই ভ্রু কপালে তুলে ও বললো, ‘আপনি একটু বসুন, আমি একটা কাজ সেরে আসছি!’

ঘণ্টাখানেক পেরিয়ে গেল নীতুর ফেরার নামগন্ধ নেই! এক জায়গাতেই ঠাঁয় বসে আছি তখন থেকে।

রেস্টুরেন্টের লোকজনও বারবার এসে তাগাদা দিচ্ছে বিল পরিশোধ করে উঠে যাওয়ার জন্য! নীতু ফিরছে না কেন জানার জন্য ওকে ফোন দিলাম। ওর ফোন অফ পেলাম! ফেসবুকে ঢুকে মেসেঞ্জার অন করতেই দেখি টুং করে একটা মেসেজ এল, তাতে লেখা, ‘আমায় মাফ করবেন, আপনার সঙ্গে সম্পর্ক করাটা সম্ভব হচ্ছে না!’