সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়

গোলাম মোর্তুজা ১:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

print
সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়

যার আছে যুক্তি- তাই প্রযুক্তি। খারাপি তো আছে সুপ্তি। এটাই সময়ের নিক্তি। ভাবনার করিডোরে মিলিয়ে সুরে স্বরে ছ্যাকড়াপুর গ্রামের সাবান (সবাই উনাকে ব্যবহার করে বলেই এমন নাম) একেবারে নাদান। তবে উনি যুক্তি দিয়ে কাজ করেন। গ্রামকে নিয়ে ভাবেন-গড়েন। আবার কখনো-সখনো ভাঙা গলায় গানও ধরেন। গ্রামের এক মোড়ে ঢোপ নিলেন গড়ে। আহারে আহারে গ্রামেরে সবাই চায় তারে।

একদিন খ্যাপা আওয়াজের সঙ্গে ফোন বাজল রাতে। সাবান হাসলেন। ইয়েস বাটন চাপলেন। বললেন, ‘কী বলেন ঠিক করে বলেন। লটারি পেয়েছি, আনন্দে ভাসছি। কত টাকা পাব? আর কত টাকা দেব?’ সাবানের মাথা চক্কর দিল- লাভের অংক কষল। পাঁচ হাজার পাঠালে পাবে এক লাখ- সে তো অবাক। হওয়া কঠিন সবার। জীবনের বদলে যাবে বাঁক। সাবান লোক হিসেবে দিল খোলা। বিষয়টি নিয়ে করলেন না হেলা। এতো জীবনের সুযোগ নয়ত গুজব। তাই সাবান নিজেকে অন্যদের থেকে করে আড়াল। গোপনে গোপন নম্বরে দিল টাকা। এবার উনি ফাঁকা। সাবানকে এক লাখের নেশা ডাক দেয় হেঁকে। ফোন আশা নম্বরেই ফোন দেয় অনেকেই। ফোনের ভেতরে থাকা মানুষ বারবার ওড়ায় কথার ফানুস। ‘কাক্সিক্ষত নম্বরে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। একটু পর আবার চেষ্টা করুন, ধন্যবাদ।’


একটু পরপর সাবানের কাছে লোক আসে বারবার। সাবানসহ জন চারেক ফোন দেয় বারেক বারেক। ফোন থেকে একই আওয়াজ- দুঃখ প্রকাশের তোয়াজ। হায় রে ওয়াজ। সাবানের মাথায় হাত। ব্যথার রাত। পাঁচ হাজার টাকার শোকে কুপোকাত। চারদিক সরগরম। এক চাচা এলেন নরম। বললেন দারুণ আলাপে দশ মিনিট ধরে খ্যাপে খ্যাপে। ‘বাছাধন, কাজ করলে বাঁকা, এখন মনে কর পরানের সদকা। মন খারাপ করলে, জীবন কী আর যাবে সুহালে। কিরা কাটো মনে, বলবে জনে জনে, আর হবে না কেউ বোকা, খেওনা প্রযুক্তির ছ্যাঁকা।’

বিলক্ষণ চাচ্চা, বলে বড়ই সাচ্চা। সাবান পেল না এক লাখ, হ্যাকার করলো বাজিমাত। গ্রামের সবাই সচেতন, তবুও প্রযুক্তিতেই অবচেতন। দু’মাসের মাথায় পাশের গ্রামের সিকা ভাই। জিতল দু’লাখ। বিনিময়ে খরচ মাত্র হাজার সাত। আবার খপ্পরে হ্যাকারের। সিকা খুশিতে বাগবাগ। দু’লাখের স্বপ্নে ভাবল সাতপাঁচ। হারাল টাকা। ভাঙল স্বপ্ন আঁকা। এভাবেই চলছে সব- জীবনের আবভাব।