গোপাল-ভাঁড়ের দ্বিতীয় বিয়ে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

গোপাল-ভাঁড়ের দ্বিতীয় বিয়ে

শফিক নাহোর ১:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

print
গোপাল-ভাঁড়ের দ্বিতীয় বিয়ে

সকাল বেলা চা খাওয়ার জন্য সুবাস কাকার দোকান, তা না হলে ব্রিটিশ সোহেলের দোকান। এ দু’ দোকান ছাড়া এ তল্লাটে কোনো চায়ের দোকান নেই। ব্রিটিশ সোহেলের দোকানে গ্রামের মুরব্বি ধাঁচের লোকজন চা খায়। এলাকার চায়ের দোকানের গল্প শুনে মনে হয়, সমস্ত পৃথিবীর জ্ঞানী গুণী মানুষ এ চায়ের দোকানে বসে আরাম আয়েশ করে চা খাচ্ছে। আমার আবার বিড়ি ফুঁকার অভ্যাস থাকায় ব্রিটিশ সোহেলের দোকানে ইচ্ছে করে বসি না মুরব্বি লোকজন থাকে। তাছাড়া পরিচিত লোকজনের সামনে বিড়ি ফুঁকলে অস্বস্তি মনে হয়। সুবাস কাকার দোকানটা নির্জনে হওয়ার কারণে আমরা বন্ধু মহল রেগুলার কাস্টমার হয়ে গেছি। তবে মাঝে-মধ্যে ঝামেলা হয় বন্ধু গোপাল ভাঁড়কে নিয়ে।

রাজীবের নাম সত্যিকার অর্থে গোপাল ভাঁড় না। রাজীব সবসময় একটু বেশি খায়। গাঢ় জিনিস খাবে। যেমন সুবাস কাকার দোকানে টি ব্যাগ দুটা লাগবে। সুবাস কাকা তো একটা কাপে একটা টি ব্যাগ দেয়। রাজীব বলে রাখে- বন্ধু, তোর চা বানানো হলে, টি ব্যাগটা আমাকে দিস। আমার আবার গাঢ় চা ছাড়া ভালো লাগে না। কোনো কিছু খাওয়ার সময় একটু বেশি তার লাগবেই। এ জন্য সে অনেক উপাধি পেয়েছে রাক্ষস পর্যন্ত।

কোনোকিছু কিনে আনে বন্ধুদের সবার টাকা দিয়ে। সে একাই ডবল নিয়ে খাবে। বেহায়ার মতো আবার বলবে- আমার মা আমাকে আদর করে গোপাল নামে ডাকে।
সোহান প্রশ্ন করল, কেন?

-আমি একটু বেশি খাই তো, তাই।

বাকি সবাই মিটমিট করে হাসছে। রাজীব চোখ-কান বুজে খেয়ে যাচ্ছে। হিন্দুপাড়া বা অন্যকোনো অনুষ্ঠানে রাজীব সবার আগে থাকবে। খাওয়া আছে যেখানে রাজীব আছে সেখানে। রাজীব, প্রথমে একটা খাবার হোটেল দিয়েছিল। ব্যবসায় লস দিয়ে এখন সার বিষের দোকান দিয়েছে।

ব্রিটিশ সোহেল সেদিন গোপাল ভাঁড়কে দেখে বলল, ভাই, ভুলে কিন্তু আবার বিষ খেয়ে ফেলবেন না। আপনার তো খাবার দেখলে কোনোকিছু ঠিক থাকে না।

রাজীব মুচকি হেসে বলে- ব্রিটিশ সোহেল, তোর বিয়ে তো আমি খেয়ে মরতে পারব না।

-কেন রাজীব ভাই? ব্রিটিশ মানুষের কি বউ থাকে! ব্রিটিশরা তো এ দেশে থাকতে পারেনি। সোহেল ব্রিটিশের নামের আগে এ বিশেষ পদবি দিয়েছে, আমাদের অসম বন্ধু কৃপণ কাকা জনি। লুঙ্গির ভাঁজে টাকা নিয়ে আসবে। চা খেয়ে চলে যাবে, পরের ওপর দিয়ে, আজ তিন বছর ধরে দেখছি। খ ড ৮৭৪১ সিরিয়ালের পাঁচশ’ টাকার নোট। লুঙ্গির ভাঁজে রাখতে রাখতে লুজ মোশন মানুষের মতো অতি দুর্বল হয়ে গেছে নোট। তবুও খুচরা করেনি!

বন্ধু মহল ছাড়া বিশেষ কেউ জানত না। ইদানীং বাজার কমিটির সবাই তাকে গোপাল ভাঁড় নামে ডাকে।

সদ্য চিতই পিঠার দোকানি হাজেরার সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছে ইদানীং গোপাল ভাঁড়খ্যাত আমাদের বন্ধু রাজীবের। বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি চিতই পিঠার দোকানে পাঁচ-সাতবার যাওয়া হয়। কখনো বাকি কখনো নগদ অর্থে।

খাবারের লোভ সামাল না দিতে পেরে একসময় সে চিন্তা করল হাজেরার যেহেতু কেউ নেই তাকে বিয়ে করলে ভালো হবে। অন্ততপক্ষে প্রতিদিন চিতই পিঠা খাওয়া যাবে। পরের দিন সন্ধ্যায় চিতই পিঠার দোকান বন্ধ! বউ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করবে, ঠিক এমন সময় আগের বউ বলে উঠল, মেয়েটি কে?

‘আমার কোনো দোষ নেই। রাগ কোরো না, বউ। প্রতিদিন চিতই পিঠা খাওয়া যাবে হাজেরার হাতে!’