ও মন কর রে ভ্রমণ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

ও মন কর রে ভ্রমণ

আলম তালুকদার ১:৫৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

print
ও মন কর রে ভ্রমণ

আকাশপাতাল ভ্রমণ করা কোনো বড় ব্যাপার না! মনে মনে এক লহমায় বিশ্ব ভ্রমণ করাই যায়। তাও একবারের জন্য চক্ষু খুলতে হবে। প্রথমেই একটা জোকস আইসা গেল হে। দেওবন্দ পাস এক মওলানাকে এক গ্রামের গরিব বিধবা নিমন্ত্রণ করে খাবার দিয়েছে। সে শুনেছে তিনি চোখ বুজে তিন জাহানের সব দেখতে পারে। তাছাড়া খাবার দেওয়ার আগে মওলানা সাব হঠাৎ করে হুত হুত, যা যা ভাগ ভাগ করে কয়েকবার চিৎকার করেছে। বুড়ি জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘কাবা ঘরে একটা কুকুর ঢুকতেছিল, আমি দেখতে পেয়ে এখানে বসেই তাড়ালাম!’

বুড়ি এটা শুনে তাজ্জব বনে গেল। মনে মনে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাতের নিচে মোরগের রান লুকিয়ে, ভাতের ওপরে শাক দিয়ে খাবার দিয়েছে। শাক শেষ হয়ে গেলে তিনি হাঁক দিলেন, আউর কোচ হ্যায়? বুড়ি চুপ করে থাকে। কোনো তরকারি না পেয়ে মওলানা সাব রাগে অস্থির। হাঁক ডাকের পর বুড়ি বলল, ‘তা হুজুর কাবা ঘরের কুকুর দেখবার পারেন, ভাতের নিচে মোরগের রান দেখতে পাইলেন না?’

তো ভ্রমণ নানা কারণে ভ্রমণ হতে পারে। কেউ হানিমুনে, কেউ দর্শনীয় জায়গা দেখতে, কেউ বাণিজ্যের কারণে, কেউ পিকনিকে, কেউ শুধু বেড়াতেও যেতে পারে। এক নবদম্পত্তি গেছে হানিমুনে। বউ নিয়ে বাড়িতে এলে, মা বউমাকে দেখে চমকে বললেন, কি রে বাবু, এ কার বউ নিয়ে এলি?

বাবু বলল, মা আমি আমার চশমা হারিয়ে ফেলেছি। যাকে ধরতে পেরেছি তাকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছি।

জমল না। এক সুন্দরী ঘোষণা দিল- আমি একাই বিশ্ব ভ্রমণ করতে যাব, কেউ আমাকে টাচ করতে আসবে না! বন্ধুরা বলল, কীভাবে সম্ভব? তোর যা আকর্ষণীয় চেহারা আর ফিগার। ছেলেরা ছাড়বে?

সে জবাবে বলল, আলবত ছাড়বে। টাচই করতে পারবে না!

তা কীভাবে? কী করবে?

আমি কিছুই করব না, গলায় স্টিকার ঝুলিয়ে দেব- ‘আমি এডিস আক্রান্ত’!

এটাও মনে হয় সবাই জানেন। জমল না। এক বন্ধু দুঃখ করে বলছে, ‘আমার না ভ্রমণের ভীষণ সখ। কিন্তু টাকার অভাবে ভ্রমণ করতে পারছি না।’

শুনে একজন বলল, ‘আরে এইডা কোনো বিষয়ই না, গতবার আমার সুন্দরী বোনডা একটা বিশ^ ভ্রমণ করেছে, অনেক টাকাও নিয়ে এসেছে!’ হা হা হা।

ভ্রমণে যেমন মজা আছে, তেমনি আবার হ্যাপাও আছে। স্বামী-স্ত্রী বেড়াতে যাচ্ছেন। রেল স্টেশনে এলে বউ বলল, দেখো তো লাগেজ ঠিক আছে কি না? স্বামী গুনে বলল, ‘ঠিক আছে। চারটা।’

বউ বলল, ‘চারটা কই? আমি তো দেখছি তিনটা।’

‘আরে আমি তো তোমাকেসহ গুনেছি। ভ্রমণে তুমিও একটা লাগেজ!’

ডিজিটাল যুগে ভ্রমণে বেশ সুবিধা আছে। এসব সুযোগ বুঝে, জেনে আমার ব্যাচমেট বন্ধু আকম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বছরে পাঁচ ছয়বার ঢাকা থেকে বের হয়ে দেশে বিদেশে কয়েকজন সমমনাদের নিয়ে উড়ছে ঘুরছে, আবার ফিরছে। ফেসবুকে আমাদের ট্যান্টেলাইজ করছে। হিসাবকিতাব বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমি ভাবছি ও এত প্রাণশক্তি পায় কেমতে? ওর আদরের মেয়েরা সব বিদেশে। ও বড় একা! কারণ ও বড় একা। বন্ধুটির সহধর্মীও আমাদের প্রিয় ব্যাচমেট ছিল। সে এখন কেবলই ছবি, পটে আঁকা ছবি। ঘরে মন বসে না। সর্বদাই সে ভ্রমণে থাকে। চুল পাকে আর ভ্রমণ বিশারদ হয়ে আমাদের ডাকে। ভ্রমণের কী কী নিতে হয়, কী কী সঙ্গে আর হাতে রাখতে হয় তা না জেনে ভ্রমণ করতে গেলে মরণদশা হবেক। সম্প্রতি ওরা সুন্দরবন ঘুরে এসে বাঘ শিকারের গপ্প ফাঁদাইছে। বন্দুক ছাড়া, লাইসেন্স ছাড়া, ধমক ছাড়াই নাকি সাইফুল চৌধুরী বাগ/বাঘ মারিছে! কীভাবে?

সে বলতে থাকে, ‘শোনো তালুকদার, হয়ত বলবে চাপা মারছি। তুমি তো জানো আমি চাঁপাইয়ের লোক হলেও চাপা মারি না। বরং তোমাদের দোষ-ত্রুটি চাপাইয়া রাখি। বন দিয়া হাঁটছি। দেখি দশ হাত দূরে এক রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আমার দিকে কুতকুতি ভাব নিয়ে তাকাইয়া আছে। আমি তো ভিতরে ভিতরে কাঁপতাছি। বন্দুক-টন্দুক নাই। গুলি-টুলিও নাই! এমনকি লাইসেন্সও নাই! উপায়? ওর দিকে করুণভাবে তাকিয়ে বললাম, এই বাঘ বাবা, তুমি তো ন্যাংটা! এই কথা শুনেই না, কী আর বলব, লজ্জায়, বাঘটা মরেই গেল!’

জানি কেউ বিশ্বাস করবে না! কিন্তু এ দুনিয়ায় অনেক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে না? যদি ঘটে তাহলে এটা কি ঘটতে পারে না? শুধু বাঘ কেন, কোনো কোনো মানুষ কি লজ্জায় মরে যায় না!