ফেসবুক ওয়ার্কার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

ফেসবুক ওয়ার্কার

ইউনুছ আলী ১:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

print
ফেসবুক ওয়ার্কার

আবুল ত্রিশ বছর বয়সী এক উচ্চ বিলাসী যুবক। মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর হন্যে হয়ে চাকরি খোঁজে। কত চেষ্টা, কত তদবির! কিন্তু কাজ হয়নি। চাকরি নামক সোনার হরিণ ধরা দেয়নি। একপর্যায়ে বন্ধুবান্ধবের পরামর্শে ফেসবুকে কিছু বাণী ও গল্প-কবিতা পোস্ট করতে শুরু করে। উদ্দেশ্য অল্প কিছুদিনের মধ্যে লেখক হয়ে ওঠা। তারপর একটি বই প্রকাশ করে বিক্রয়লব্ধ টাকা দিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে করা! প্রথমে কম কম পোস্ট করলেও এক পর্যায়ে এলোপাতাড়ি পোস্টাতে শুরু করে।

বন্ধুবান্ধবরা তার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। অনেকেই লাইক-কমেন্ট করা ছেড়ে দিয়েছেন। কেউবা করে দিচ্ছেন আনফ্রেন্ড। এ অবস্থায় একদম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে আবুল। শুরু করে নতুন পদ্ধতিতে যাত্রা। লাইক-কমেন্ট চেয়ে এখন বন্ধুবান্ধবকে ইনবক্সে অনুরোধ করে। এতে কিছুটা লাইক-কমেন্ট বাড়লেও সে আশাবাদী হতে পারে না। বিষণ্নতা বেড়েই চলছে। একপর্যায়ে সবার পরামর্শে পিতা-মাতা আবুলকে বিয়ে দেবেন মনস্থির করেন।

বাবা বলেন, তোমার মা অসুস্থ। কাম-কাজ করতে কষ্ট হয়। চাইছিলাম তোমাকে...!
-বিয়ে নাকি?
-হ্যাঁ!
-ঠিক আছে। আমার আপত্তি নেই।
শুরু হল খোঁজাখুঁজি। কিন্তু একটু সচেতন পরিবারের কেউ আবুলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয় না। আবুল যে বেকার! হঠাৎ একটি পরিবার এল বরকে দেখতে।
কনের বাবা তাকে প্রশ্ন করেন- বাবা, তুমি কী কাজ করো?
--ফাদার, আই এম এ ফেসবুক ওয়ার্কার!
সম্ভাব্য মেয়ে জামাইয়ের একটি কথায় অশিক্ষিত শ্বশুরমশাই অভিভূত হয়ে পড়েন। জামাই তার কেস বুক ওয়ার্কার! দ্রুত বাড়িতে এসে বউয়ের সঙ্গে আলাপ করলেন তিনি- শোনো জরিনার মা! আমার মেয়ে খুবই ভাগ্যবতী। জামাই ব্যাটা থানায় কেস-টেস নিয়ে কাজ করে। আমাদের তো অনেক শত্রু। কাজে লাগবে ছেলেটিকে। চলো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিই ওর সঙ্গে!