বাড়িওয়ালা বিভ্রাট

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

বাড়িওয়ালা বিভ্রাট

মাহবুব নাহিদ ২:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
বাড়িওয়ালা বিভ্রাট

গ্রামের একমাত্র ছেলে হিসেবে ডাক্তার হয়েছে নওশাদ। কিছুদিন আগে বিয়ে করেছে। এবার বিয়ের পর প্রথম গ্রামের বাড়ি এসেছে। খুব বেশি কোনো কাজ না থাকলে বাজার ঘাটে যায় না সে। গ্রামের মানুষের বাড়তি প্যাঁচাল শুনতে ইচ্ছা করে না। আবার তার মধ্যে আছে গ্রামে নাম ছোট করার সংস্কৃতি। যার নাম কাশেম তাকে ডাকবে কাশু। হাশেম হলে ডাকে হাশু। নওশাদকে নশু বলেই ডাকে। সে তাই বাজারঘাটে খুব একটা যায় না।

বউ নিয়ে বাজারঘাটে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। সে ডাক্তার মানুষ, বউ তার ডাক্তার। ওসব নামে ডাকলে সম্মান মোটেও থাকবে না। একদিন খুব বিপদে পড়ে বাজারে যাওয়া লাগল। লুকিয়ে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। রাশেদুল চাচা দেখে ফেলেছে। গ্রামের সবচেয়ে বকবকানি লোক।

দেখেই বললেন, ‘কি রে নশু, কেমন আছিস’
‘জি চাচা, ভালো আছি। আপনি’
‘ভালো আছি। তোর ডাক্তারি কেমন চলছে’
‘জি চাচা, ভালো।’
‘বাড়িওয়ালার খবর কী’
‘বাড়িওয়ালার আর কী খবর। সে আছে তার মতন, আমি আমার মতো।’
‘মানে কী এক বাসায় থাকো না!’
‘তা থাকি। সে ওপরতলায় থাকে। আমি নিচতলায়।’
‘সম্পর্ক ভালো না’
‘ভালো হওয়ার কী আছে প্রচুর জ্বালাতন করে, অসহ্য একটা মানুষ।’

বাড়ি ফিরতে ফিরতে কানে খবর এল, সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে তার বউয়ের কথা। তার বউ নাকি ভালো না। জ্বালাতন করে। অন্য ঘরে ঘুমায় এসব। নওশাদের তখন হুঁশ ফিরল। অনেকদিন গ্রামে থাকে না বলে গ্রামের কালচার ভুলে গেলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। গ্রামে তো বউকে বাড়িওয়ালা বলে!