অলসের বিলাস

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

অলসের বিলাস

মোস্তাফিজুল হক ২:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
অলসের বিলাস

উত্তরপাড়ায় হাবুল লোকটা ছিল ভীষণ অলস। কখনোই কোনো কাজকর্ম করত না। পৈতৃক সম্পত্তি বেচে উদরপূর্তি করে দিন কাটায়। এ নিয়ে তার বউ প্রায়ই রাগারাগি করত। তখনও সে চুপ করে থাকত। বেশি কথা বললে ওর হয়রানি লাগে। এদিকে শুয়ে-বসে খেয়ে জমিজমা বেচা শেষ। আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি বিড়ি টেনে শারীরিক অবস্থাও করুণ। থাকার ঘরও ভীষণ নড়বড়ে।

তবুও সে ঘর ঠিক করে না। কে এত পরিশ্রম করে এক বৈশাখে আকাশ কালো করে ভয়ঙ্কর গতিতে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। সবাই নিরাপদ আশ্রয় নিলেও সে ঘরের ভেতর থেকে বের হল না। ওর হাঁটতেও ভালো লাগে না। অবশেষে ঝড়ে ঘর পড়ে গেল। বউ কেঁদে কেঁদে বলল, ‘সোয়ামী গো, কই তুমি কথা কও!’ হাবুল বলল, ‘চুপ কর। বিড়ি ধরাইছি। আগে টাইনা লই। থাহার ব্যবস্থা হইলে আমারে ডাহিস।’

এরপর থেকে হাবুল ও তার বউ ভাঙা ঘরেই আছে। ও যেহেতু কিছুই করে না, তাই ওর বউ পরের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে। বউ প্রাপ্ত খাবার নিয়ে আসে, ওটাই দুজনে মিলে খায়।

একদিন দুপুরে হাবুলের বউ বাড়িতে নেই। এমন সময় একটা কুকুর ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। সে চেয়ে চেয়ে দেখল।

হাবুলের পেটে খিদে। তাই ভেংচি দিয়ে কুকুর তাড়ানোকে কষ্টকর মনে করলো। কুকুরটা আস্তে আস্তে মুখের কাছে চলে এল। তবুও একটু নড়ল না। মনে মনে ভবল, ‘বউডা নাই, কুত্তাডা কেডায় খেদায়!’ শেষমেশ কুকুরটা এক পা উঠিয়ে রেচনকার্য সমাপ্ত করলে হাবুল রেগে বলে- ‘বউডার যে কী অইছে, কোনো কামের না! আমার কুনো খুঁজই রাহে না!’