জুতাকাণ্ড

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

জুতাকাণ্ড

হামীম রায়হান ২:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
 জুতাকাণ্ড

সেন্টু ভাই কলেজ ছেড়েছেন বছর কয়েক হল। কলেজ ছাড়লেও কলেজের মায়া ছাড়তে পারেন নি। মায়ার বশে কলেজে তাকে আসতেই হয়। কলেজের একমাত্র বড় ভাই তিনিই। বিপদাপদে ছাত্র-ছাত্রীদের একমাত্র ভরসা সেন্টু ভাই। কলেজে তার বিরাট একটা ফলোয়ার গ্রুপ রয়েছে। যারা সেন্টু ভাই বলতেই পাগল।

সেন্টু ভাই কলেজে আসবেন। সবার সামনে একটা জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেবেন। তারপর সবাইকে নিয়ে আদর্শ মিষ্টি ভাণ্ডর থেকে বাকিতে মিষ্টি খেয়ে সেই বিল কোনো নেতার কাঁধে তুলে দেবেন। এই হল কাজ। তাই দিন দিন সেন্টু ভাইয়ের ভক্ত বাড়ছে। কলেজের আশপাশে সেন্টু ভাইয়ের ছবি সংবলিত বড় বড় পোস্টার।

সেদিন ছিল কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান। সেন্টু ভাইয়ের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হবে। তাই সকাল সকাল ভাই কলেজে চলে গেলেন। কলেজে ছাত্র-ছাত্রী তেমন এখনো আসেনি। ভাই গেট দিয়ে ঢুকবেন এমন সময় ঘটল অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। হঠাৎ ভাইয়ের দু’ফিতার স্যান্ডেলের একপাটি গেল ছিঁড়ে! ছিঁড়ল তো ছিঁড়ল, একদম জন্মের ছেঁড়া!

এখন কী হবে! কোনো সাগরেদ আসেনি এখনো। কয়েকজন নতুন ছাত্রী এসেছে গেটে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। এদের সামনে এ অবস্থায় পড়লে কলেজে হাসাহাসির বন্যা বয়ে যাবে। কেউ মান্য করবে না। দ্রুত বুদ্ধি বের করলেন। জুতো জোড়া হাতে নিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলেন গেটের দিকে। যেন কাউকে পিটিয়ে এসেছেন! সবাই ভয়ে রাস্তা ছেড়ে দিল। ভাই রিকশা নিয়ে সোজা বাড়ি চলে গেলেন।

সাগরেদরা ফুল নিয়ে উপস্থিত কিন্তু ভাইয়ের দেখা নেই। ফোনও ধরছেন না। একপর্যায়ে ভাই রিসিভ করে ফিসফিসিয়ে বলেন, ‘এমপি সাহেবের সঙ্গে শহরে জরুরি মিটিংয়ে আছি। যেতে পারব না। এরপর মন্ত্রীর বাসায় যাব দাওয়াতে। তোরা চালিয়ে নে!’

ফোন কেটে মুচিকে বলেন, ‘তাড়াতাড়ি সেলাই করো। বাসায় ফিরতে হবে।’