ঠেলার নাম মেলা!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

ঠেলার নাম মেলা!

অয়েজুল হক ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

print
ঠেলার নাম মেলা!

হাফিজুর অবশেষে একপ্রকার বাধ্য হয়েই বাণিজ্য মেলায় যায়, যেতে হয়। কবিতার মতো বললে- যেতে নাহি মনে চায়, বউয়ের ঠেলায় যেতে হয়। বিগত উনিশ দিন একনাগাড়ে সীমার মুখে একটাই কথা, মেলা শেষ হয়ে আসছে। শেষ হয়ে আসছে। ভাবখানা এমন যেন ভিনগ্রহ থেকে এলিয়েন বা বিরল প্রজাতির প্রাণী অদ্ভুত সব পণ্য নিয়ে জড়ো হয়েছে। মেলা শেষ হয়ে গেলে এ পৃথিবী নামক গ্রহে এসব পণ্য আর পাওয়া যাবে না। শেষমেশ বউয়ের কাছে পরাজিত হয়ে মেলায় হাজিরা দিতে হয়। ছুটির দিন, আবার মেলা শেষের দিকে। উপচেপড়া মানুষের ভীড়। ঠেলা খেতে খেতে স্রোতের মতো কখন যে প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে টের পায়নি। পেছন থেকে ঠেলা তারপর দুই হাতের প্রচণ্ড ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়ার মতো অবস্থা। হাফিজুর পেছন ফিরে তাকাতেই আগুন চোখা এক মেয়ে ঝাঁজাল গলায় বলে, ছাগল নাকি

-কেন আমার কি চার পা দেখছেন, লেজ আছে বাজে কথা বলেন কেন! 

মেয়েটা থাপ্পড় দিতে উদ্যত হলে পেছনের আরেকটা মেয়ে থামিয়ে দিয়ে বলে, এ ভীড়ে গেটের সামনে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলে চলে।
সীমাকে দেখা যায় না। গেট পেরিয়ে মানুষের ভীড়ে কোথায় হারিয়ে গেছে কে জানে! সীমা থাকলে তাকে দিয়ে দু’কথা শুনিয়ে দেওয়া যেত। হাফিজুর মিনমিনে গলায় বলে, ঠেলায় ঠেলায় মেশিনের মতো ভেতরে চলে এসেছি। ঠেলা পর্ব শেষ বুঝতে পারিনি। চোখে-মুখে বিরক্তি নিয়ে মেয়ে দুটো পাশ কাটিয়ে চলে যায়। তাদের যক্ষা রোগ থাকলে জীবাণু ভরা কাশি হাফিজুরের মুখে মেরে সম্ভবত বেজায় খুশি হতো। হাফিজুর সীমাকে খুঁজে বের করার প্রাণান্তকর চেষ্টা হিসাবে দু’বার কল করে। রিং বাজলেও রিসিভ করে না। অগত্যা বিক্ষিপ্তভাবে এদিক ওদিক হাঁটে। আবার পেছন থেকে জোরাল ঠেলা। এখন সে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নেই। পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে একজন সুদর্শনা তরুণী। মেয়ে দেখেই কেঁপে ওঠে। আবার কী হয় কে জানে! মেয়েটা ভয় দূর করা মুচকি হাসি দিয়ে বলে, সরি।
হাফিজুর খুশিতে গদগদ হয়ে বলে, আপনার মুখে মধু বর্ষিত হোক।
-বর্ষিত হলে যেন খাঁটি মধু বর্ষিত হয়।
-আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না।
-আমি এমনিতেই ছোট, তারপর শীতে কিছুটা ছোট হয়ে গেছি। মেলার ঠেলা চাপ খেয়ে প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে যাচ্ছি। খামোখা ধন্যবাদ দিয়ে আরও ছোট করার প্রচেষ্টা না করাই ভালো।

মেয়েটা দারুণ হাসে। হাসিতে মায়া আছে। বলে, আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলেন।
-তাই নাকি! সীমা তো কোনোদিন বলেনি!
কথার ভেতর সীমা হাজির। চিৎকার করে বলে, এই হচ্ছে...! বউ রেখে প্রেম...।
হাফিজুর তো তো করে বলে, আমি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি আর...।
সীমা মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলে, চুপ। একদম চুপ। আমি সব দেখেছি। সটকে পড়ে প্রেম বাড়ি চলো, আজ তোমাকে উচিত শিক্ষা দেব। মেয়েটা সীমার চিৎকার শুনে পড়িমড়ি করে সরে পড়ে। হাফিজুর অনুভব করে মেলার এ ঠেলা সামলানো সহজ হবে না!