বদের বড়ি বদে আলম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

বদের বড়ি বদে আলম

রবিউল ফিরোজ ৬:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

print
বদের বড়ি বদে আলম

নূরুল হক চেয়ারম্যান এসেছেন গ্রামে। সঙ্গে এসেছে অনেক সঙ্গী-সাথী। চেয়ারম্যান সাহেবের দেহখানি যেমন নাদুসনুদুস তেমনই তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি যখন বক্তব্য দিতে শুরু করেন তখন লোকজন বিড়ালছানার মতো আচরণ করে। বিরোধীরা ভয়েভীতিতে হয় জড়সড়। ভরা মজলিশে ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে পড়ল বদে আলম। ওকে দেখেই শুরু হলো গুঞ্জন। কে একজন বলে ফেলল, বদে আলম এখানে ক্যান?

কথাটা কানে যায় বদে আলমের। সে কথা বলার জন্যে উসখুস করে। ডানে বামে বসার জায়গা খোঁজে। কিন্তু সব চেয়ার দখলে চলে গেছে চেয়ারম্যান বাহিনীর। তাছাড়া গ্রামের মাতব্বররাও দিব্যি চেয়ারে বসে বিড়ি টানছে। কেউ তাকে একটা চেয়ার এগিয়ে দেয় না। রাগ হলেও করার কিছু নেই। বাধ্য হয়ে মাটির ওপর বিছানো চাটাইতে বসে পড়ে বদে আলম। সে চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলে, চিয়ারমিন সাব, আপনে কইতাছেন, গণতান্ত্রিক দ্যাশে সকলেই নাকি সমান। তাইলে আপনাগো বসার চিয়ার আছে, আমার নাই ক্যান?

ওর কথায় চেয়ারম্যান শশব্যস্ত হয়ে আয়োজকদের তাড়া দিয়ে বলে, কে আছিস, ওরে একটা চেয়ার দে। চেয়ার পেয়ে আয়েশ করে বসে বদে আলম। এবার সে সিগারেটের দাবি করে। কিন্তু হাতে এসে পৌঁছে তামাক পাতার বিড়ি। বদে আলম আবার আসন ছেড়ে লাফ পারে- ‘এইডা কি গণতন্ত্রের দ্যাশ হইল? একজন খাবে বেনসন সিগারেট আরেকজন খাবে মফিজ বিড়ি। এইসব দুর্নীতি আমরা মানি না, মানব না।’

লোকজন এখন চেয়ারম্যানের কথা না শুনে বদে আলমের গলাবাজি শুনছে। রাগে চোখমুখ লাল করে গজরাতে থাকে চেয়ারম্যান সাহেব। সেদিকে খেয়াল নেই বদে আলমের। সে বলতেই থাকে, ‘আমরা অপরাধ করলে বিচার করো, ধরো, মারো। তোমাগো বিচার কে করবে? মানির মান তো বুঝো না। বুঝবেই বা ক্যামনে- পেটে শিক্ষা-দীক্ষা থাকলে তো!’

চেয়ারম্যান সাহেব এবার চড়চড় করে ক্ষেপে বলে ওঠেন- ‘শালারে ধর!’ জোরসে দৌড় লাগায় বদে আলম। দৌড়ায় আর বলতে থাকে, ‘আমারে ধরা এত সোজা না। সত্যি কতা কওয়ার জন্যিই তো আমারে কেউ দেকতে পারে না। আমি হইছি বদের বড়ি বদে আলম।’