বউ-শাশুড়ির গেরিলা যুদ্ধ

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১১ মাঘ ১৪২৬

বউ-শাশুড়ির গেরিলা যুদ্ধ

আলম তালুকদার ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

print
বউ-শাশুড়ির গেরিলা যুদ্ধ

মজার বয়ান হলো, আজকে যে বউ আগামীদিনে সেই তিনি শাশুড়ি। যেই না শাশুড়ি হলো, ওমনি তার শ্বাস উড়িউড়ি করতে শুরু। মূলত ক্ষমতা আর মমতার দ্বন্দ্ব তাতে নেই সন্দেহ! একবার এক মা মেয়েকে দুঃখ করে বলছে, জীবনে বউ হয়েও শান্তি পেলাম না, আবার শাশুড়ি হয়েও না। এই যুদ্ধ কম-বেশি সব পরিবারেই আছে।

অনেকে আজকাল ছেলে বিয়ে দিয়ে তাদের আলাদা করে দেন। থাক বাবা যৌবনে বউয়ের সমান আর স্বামীর সমান কেউ নাই! বয়স হলেই টের পাইবা!

বউ শাশুড়ির মধ্যে সমস্যাটি কী আমার মনে হয় অধিকার। ছেলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় হতে পারে। নাও হতে পারে। তো একটা ছাড়ি!

বউ কাঁদছে। শাশুড়ি বলছেন, ও বউ কাঁদছ কেন
‘মা, আমি কী পেত্নির মতো দেখতে’
‘মোটেই না।’
‘চোখ দুটি কি বরিশালের বড় আমড়ার মতো’
‘কে এসব বলে’
‘আমার নাকটা কি পাকোড়ার মতো’
‘না তো!’

‘আমি কি মোষের মতো মোটা’
‘কে বা কারা এসব মিছা কথা বলে’
‘তাই যদি না হবে তাহলে পাড়ার লোকে আমাকে দেখলেই কেন বলে, ঠিক একেবারে শাশুড়ির মতো! কেন বলে মা’
আবার একটা আসছে! শাশুড়ি খুবই সোজা সরল। নতুন বউকে বলছে- ‘বউ তুমি আমার মেয়ের মতো। আমি তোমার মা। কোনো সমস্যা নাই।’

এই কথা বলার পর কলিং বেল। বউ দরজা খুলছে। শাশুড়ি জিগায়- ‘কে এল মা নতুন বউ বলল, নতুন ভাইয়া এসেছেন!’
বর্তমানে যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। শ্বশুর-শাশুড়ি বলতে গেলে নির্বাসনে! কিন্তু গ্রামে এখনও বিদ্যমান আছে। শহরের মানুষ এখন একক পরিবারে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। গ্রাম দেশের কথা যখন এল, তখন গ্রামের দাম্পত্য জীবনের একটা জোকস হয়ে যাক। এটা আশির দশকের ঘটনা। ভিসিআরের যুগ। বিয়ের ছয় মাস পরে এক স্বামী শহরে গিয়ে ব্লু ফিল্ম দেখে বাড়িতে ফিরে বউকে বলল, ‘তাড়াতাড়ি বিছানায় আসো। আইজকা তোমারে ইংরাজি স্টাইলে আদর করবাম।’

গ্রামের সহজ সরল মেয়ে ইংরাজি আদর শুনে ভয় পেয়ে গেছে। শীতের রাত। বউ খালি শাশুড়ির পেছনে পেছনে ঘুরঘুর করে। ঐদিকে পোলায় ডাকে। তো শাশুড়ি বলে, ‘তোমারে ডাকে যাও না ক্যা!’
বউ বলে, ‘ডর করে মা।’
‘কেন’

‘আপনের পোলায় কইতাছে ইংরাজি আদর করবাইন।’
তো শাশুড়ি অভিজ্ঞ। তিনি পোলারে ডাইকা বলেন, ‘ঐ হারামজাদা, বাপ-দাদা চৌদ্দগুষ্ঠী যেভাবে বউরে আদর করছে হেইভাবে আদর করবি। তোর আর ইংরাজি আদর করবার লাগব না। বুঝলি যাও মা যাও।’

আরেকটা আইছে। বিয়ের দুই বছর পর। বউ কাজ করে আর শাশুড়ি মাকে খুশি খুশি ভাব নিয়ে বলে, ‘মা, আপনের বাপে কইছে শাড়ি দিব।’

‘ভালোই তো, শাড়ি দেওনের সময় হইয়া গেছে।’
বেশি বেশি খুশি দেইখা বলেন, ‘আচ্ছা বউ মা, এই শাড়ি দেওনের কথাডা কখন স্বীকার করছে’
বউ একটু লজ্জা পায়। কথা বলে না। অভিজ্ঞ শাশুড়ি বলেন, ‘রাইতের বেলা, আদরের আগে না পরে কইছে’
বউ ছোট্ট করে বলে, ‘আদরের আগে।’

শাশুড়ি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘তাইলে দিব না গো, তাইলে দিব না। ও তো ওর বাপেরই পোলা! ওর বাপ এইরম কত কইছে!’
হা হা হা। আচ্ছা সময় শেষ হয়া যাইতাছে। একক পরিবারের বউ-শাশুড়ির ডায়লগ দিয়ে শেষ করি। টাকা ছাড়া বেশি লেখার কী দরকার একমাত্র মায়ের একমাত্র পুত্র। বিয়ে করেছে, চাকরি করে। ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়িতে বউসহ মাকে নিয়ে আছে। ছেলে চাকরিতে চলে গেলে বউয়ের সঙ্গে শাশুড়ি গল্পটল্প করে। কীভাবে ছেলে মানুষ করেছেন। বিধবা হয়ে কেমন কঠিন যুদ্ধ করতে হয়েছে। নয়মাস পেটে ধারণ করে কত না কষ্ট সহ্য করেছেন! তো মাঝে মধ্যেই শাশুড়ি পেটে রাখার কথা বলে, ওজনের কথা বলে, বারবার ওজন আর ওজন। একদিন বউ আর কিছু না বলে থাকতে পারল না।

বউ আস্তে আস্তে বলতে থাকে- ‘আপনার কথা ঠিক আছে। কিন্তু মা, আপনার পেটে যখন ছিল, তখন উনি কত কেজি ওজনের ছিল একবার বিবেচনা করুন। আর আজকে আপনার ছেলের ওজন কত জানেন পাক্কা নব্বই কেজি! এই নব্বই কেজি ওজনের ভার এখন আমাকে প্রায় প্রতিদিন বহন করতে হয়! একটু হিসাব করে কথা বললে হয় না মা’

আধুনিক সময়ের বউমার এ কথা শুনে মা অবাক হয়ে বেবাক থেকে বউমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আজও ঐভাবে তাকিয়ে আছেন!