চুরির বিদ্বান বড় বিদ্বান

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

চুরির বিদ্বান বড় বিদ্বান

আলম তালুকদার
🕐 ৬:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

চুরির বিদ্বান বড় বিদ্বান

যে চুরি করে সে চোর। যে ডাকাতি করে সে ডাকাত। অনেক চোরে চুরি করতে করতে ডাকাত হয়ে যায়। আবার অনেকে চুরি না করে কচু কাটতে কাটতে ডাকাত হয়ে যায়। দণ্ডবিধি মোতাবেক চুরি হয় গোপনে, আর ডাকাতি হয় প্রকাশ্যে! চুরি তাহাকেই বলে যাহা মালিকের অগোচরে হইবে এবং মালিকের বিনা অনুমতিতে আর অসৎ উদ্দেশ্যে হইবে।

চোরের একটি মধুরতম নাম আছে, তাহলো ‘নিশিকুটুম্ব’। আর এই নিশিকুটুম্ব নামে বাংলাসাহিত্যে একটি উপন্যাস আছে। লেখক মনোজ বসু। যারা চোর এবং চুরি কত প্রকার ও কী কী জানতে চান তারা বইটি পড়তে পারেন। চুরি যে একটা শিল্প, চুরি যে একটা গুরুমুখী বিদ্যা তার প্রমাণ বইটিতে জ্বলজ্বল করিতেছে! চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা, কখন? যখন ধরা না পড়ে।

আমি যখন পাবলিক লাইব্রেরির মহাপরিচালক ছিলাম তখন মাঝে মাঝেই বই চোর ধৃত হয়ে আমার সামনে হাজির করা হতো। তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বা কোনো কলেজের ছাত্র। কোনো ছাত্রীকে ধরিতে পারে নাই! তো একবার এক ছাত্রকে বমাল ধরে আনা হলো। তাকে বললাম কেন চুরি করিয়াছ? বইটি আমার খুব দরকার। কেনার টাকা নাই। আমি সব শুনে বললাম। আচ্ছা বেশ। বইয়ের দরকার, এই কারণে চুরি করিয়াছ।

তোমার চুরি করার যুক্তি আছে। কিন্তু তোমার কি জানা নাই বই চুরি করা অপরাধ নয় তবে ধরা পড়াই বড় অপরাধ! বই চুরি করিয়া যদি পালাইতে পারিতে তাহা হইলে অপরাধ বলিয়া গণ্য হইত না। কিন্তু ধরা পড়িয়া যাইলে কেন? এই ধরা পড়াটাই অপরাধ। ছেলেটি মনে হয় বিভ্রান্ত হয়ে গেল। অবাক তাকিয়ে থাকল। আমি তাকে একটা মোচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারপর আমি লাইব্রেরি থেকে বই ধার নেওয়ার পদ্ধতি চালু করেছিলাম। মার্ক টোয়েনও বই চুরি করে করে তার ঘর ভর্তি করেছিলেন। এক বন্ধু তাকে বলেছিল, কয়েকটি বইয়ের তাক হলেই তো বইগুলো সাজানো যায়।

জবাবে তিনি বলেছিলেন, বই যেভাবে আনা যায় তাক তো সেভাবে আনতে পারছি না! চোর এবং চুরি নিয়ে ভূরি ভূরি কাহিনী। কোনটা বাদে কোনটা লেখি!

এখন তো ডিজিটাল যুগ। চোরেরাও তাই। চুরি করতে যাচ্ছে আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এইমাত্র ঘরে ঢোকলাম। সব ঘুমাচ্ছে। টাকা গহনার বাক্স পাইছি। ঘরের মালিকের মোবাইলেও কোনো না কোনোভাবে সংযোগ হয়ে গেছে। তিনি পুলিশকে নক করলেন। পুলিশও ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিয়ে বাসায় এসে বমাল গ্রেফতার করে সোজা থানায় নিয়ে গেল। তো চুরি করা এমনিতে রিস্ক, তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া আরও রিস্ক!

একবার একদল চোর গেছে গাওসিয়া কাপড়ের দোকানে। তালা ভেঙে ঢুকেছে এক দোকানে। শাড়ির গায়ে দাম লেখা আছে। পাঁচ থেকে দশ হাজার। তা দেখে একজন বলল, দেখছস এই শাড়িটার দাম দশ হাজার মাত্র! শালারা তো ডাকাইত!

তো চুরি করার মধ্যেও একটা থ্রিল আছে। জীবনে একবারও চুরি করেনি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন বটে। ছোটবেলায় নির্দোষ সরল বিশ্বাসে অনেক চুরিই হয়তো করা হয়। যেমন আমি ১৯৭১ সালে বাবার পকেট থেকে তিরিশ টাকা চুরি করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের মাইনকারচরে গিয়েছিলাম।

এই রে আরেকটা আইছে। এক পুলিশের বউ পুলিশের পকেট থেকে ৫০০ টাকা মারিং করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খাইছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে তাকে ১০০ টাকা দিয়ে বলল, এই ১০০ টাকা নিয়া ছাইড়া দাও। হা হা হা। আরেক স্বামীর পকেট মারিং হয়েছে। প্রশ্নের ভাবে স্ত্রী বলছে, তুমি কি আমাকে সন্দেহ করছ? স্বামী বলল, না! পরিমাণ বেশি হলে না সন্দেহ করতাম।

এখন দেখা যাচ্ছে প্রায় সবকিছু হাইকোর্টে চলে যাচ্ছে। বাঙালিকে হাইকোর্ট না দেখালে আর চলেই না। এক পিক পকেটমারকে কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দশজন চাক্ষুষ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে। তারপরও সে কোর্টে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছে। বিচারক বিস্মিত হলে চোর বলল, আমি ১০০ জন সাক্ষী আনব, তারা যদি বলে আমাকে চুরি করতে দেখে নাই, তাহলে কি আমাকে খালাস দেবেন?

অনেকের রক্তের মধ্যে চুরির নেশা থাকে। চুরি না করলে তার শান্তি নাই। এই কারণে চুরির অভ্যাস চালু রাখার জন্য নিজের বাড়িতেই নিজে চুরি চুরি খেলা খেলে থাকে। তবে ভোট চুরিও যে পৃথিবীব্যাপী চালু আছে তা কেউ অবিশ্বাস করে না। এটা দিয়ে শেষ করি। এক বুড়ো ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে হাউমাউ কান্না করছে। তাকে এক নাতি প্রশ্ন করল, দাদা কান্দো ক্যান?

জবাবে বলল, আরে তোর দাদি পাঁচ বছর আগে মইরা গেছে, হেতাইনে বলে, আইজকা ভোট দিয়া গেছে! অল্পের জন্যি দেকা অইল না!

 
Electronic Paper