গোহারা কাহারে কয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

গোহারা কাহারে কয়

আলম তালুকদার
🕐 ২:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

গোহারা কাহারে কয়

যেহেতু রম্য সেহেতু বলি, গো মানে যাও এবং হেরে আইস হে! আবার গরুর মতো হেরে যাওয়া! গরুদের ইতিহাসে জয় নেই আছে শুধু পরাজয়। অবলা প্রাণী হেরে গেলেও যা হঠাৎ জিতে গেলেও তা। তার কোনো কিছুতেই যায় আসে না। তো একটা আসিয়া গেল আর কি। এক বন্ধু তার বন্ধুদের খুব গর্ব করে বলছে- এই দ্যাখ আমার পায়ের জুতা-মোজা, গায়ের গেঞ্জি-শার্ট এসব বন্ধুদের কাছ থেকে পেয়েছি। সোজাসাপটা বলতে পারিস আমার সঙ্গে যা আছে সবই বন্ধুদের কাছ থেকে নিয়েছি। শুধু এই যে আমার গায়ের চামড়া দেখছিস এটাই কেবল আমার! তো এসব প্যাঁচাল শুনে এক ঠোঁটকাটা বন্ধু বলল, ‘না ঠিক নহে। তোর গায়ের চামড়াও তোর নিজের না!’

-তাইলে কার চামড়া? কী কস?
-হ ঠিকই কইছি। তোর গায়ে যেটা আছে তা গণ্ডারের চামড়া! হা হা হা। কলকাতার ইডেনে যে পিটানি খাইছে তাতে ক্রিকেটাররা ব্যথাও পায়নি দুঃখও পায়নি। কারণ ওদের হাতে গায়ে পায়ে যা ছিল সব অন্যের বা সরকারের বা জনগণের। গায়ের চামড়াও ছিল উগান্ডার গণ্ডারের। কাজেই গোহারা যে হারছে সেটাও মোটেই গায়ে লাগেনি, মনেও লাগেনি!
আরেকটা ফাল মারতাছে। পুলিশে একজনকে চোর মনে করে প্যাঁদানি দিচ্ছে। কিন্তু লোকটি বেদমসে হাসিতেছে। ইহা দেখে একজন বলছে- ভাই, আপনি তো আজীব! মাইর খাইয়াও হাসতাছেন?
-কী আর করমু। না করলে তো আর মানব না। আর পুলিশ মারতাছে ঘটুরে। আমার নাম তো ঘটু না, আমার নাম অইল গিয়া মটু মিয়া!
আরেকটা আইছে। পাকিস্তান আমলের ঘটনা। তখন চৌকিদার এলেই গ্রাম ফাঁকা হয়ে যেত। সন্দেহ করে একজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাসতেছে। একজন বলছে, তোমার মানসম্মান তো সব গেল। জবাবে বলল, গতবার আমার বাপেরে বাইন্ধা লইয়া গেছিল, তাই মানসম্মান যায়নি, আমারে তো হাতকড়া দিছে খালি!
হে হে হে। হারছে তো হারছে তাও আবার প্রধানমন্ত্রীর সামনে! হে হে হে। বেতন না বাড়াইলে আর চেইতা উঠবে না হে। বাইটামিনের অভাব। পেঁয়াজ ধরতেই পারে না। গোলাপি বল ধরবে কেমতে?!
এই গোহারা হারার পর ক্রিকেটপাগলরা খুব ক্ষুব্ধ। জনতার ভয়ে তো কোনো ক্রিকেটার মার্কেটে যাওয়ার সাহস পায় না। তো একদিন ছদ্মবেশে এক ভায়রা বসুন্ধরায় এসেছে কিছু কেনাকাটার জন্য। ইরানি বোরকা পরিধানে। বেশ লম্বার কারণে তার দিকে সবার নজর। দোকানে দোকানে ঘুরছে আর পছন্দের জিনিস কিনছে। হঠাৎ আরেক বোকাওয়ালির নজর আটকে গেল। হাঁটার স্টাইল পরিচিত। হাত নাড়ানোও পরিচিত। কৌতূহল চরমে। একপর্যায়ে তার মুখোমুখি হলো। দুজনের মুখের পর্দা সরে গেল। দেখে চমকে গিয়ে বলল- ভায়রা ভাই, তুমিও ছদ্মবেশি? না চেনার ভান করে তাড়াতাড়ি কেটে পড়ো। জনগণ চিনতে পারলে গরু পিটনা দেবে।
শেষ করি ছোটবেলার এক রিয়েল জোকস দিয়ে। আমরা তখন প্রাইমারি স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র। তখনকার খেলা হলো, হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা ও ছি কুতকুত।
মাঝে মাঝে পাছার ধরাধরিও হতো। তো একবার আমাদের চেয়ে বেশ সিনিয়র ভাতিজা এই পাছার ধরে তলে পড়েছে মানে নিচে পড়ে হেরে গেছে। এখন সবাই তারে ধুয়ো দিচ্ছে। মানে ক্ষেপাচ্ছে। এমনিতে হারু, তার মধ্যে টিটকারি! তো সে হেরে যাওয়ার একটা কারণ পেশ করেছিল। আমরা তাতে আরও মজা পেয়ে তাকে আরও টিটকারির অনলে দগ্ধ করতাম। সে বেচারা মারা গেছে কিন্তু আমাদের এলাকায় তার কথাটি এখন অমর হয়ে আছে। ওইদিন বলেছিল, ‘আরে নিচে পড়ার কারণ হলো, এই যে আমার পরনে যে লুঙ্গি দেখছিস, এই লুঙ্গিটা আমার না! আমার লুঙ্গি হইলে দেখাইয়া দিতাম’।
কার লুঙ্গি? সে বলল, ‘এটা আমার বাবার লুঙ্গি’!
এই কারণে সেদিন গ্রেট ভাতিজা গোহারা হারছিল! আমাদের ক্রিকেট টিম কেন গোহারা হারে এখন বুঝতাছেন তো? আর ব্যাখ্যা, অপব্যাখ্যার কচলানির দরকার আছে?

 
Electronic Paper