সিরিয়াল বনাম নেকলেস

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬

সিরিয়াল বনাম নেকলেস

হোসাইন মোহাম্মদ মোশাররফ ২:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

print
সিরিয়াল বনাম নেকলেস

সেহেরি খেয়ে ঘুমানোর পর সকালবেলাই ঘুমটা কড়া করে আসে। কিন্তু আজ সকাল সকাল আরামের ঘুমে বাগড়া বাজিয়ে দিল পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন। সকাল সকাল আবার কী হলো? চিল্লাচিল্লি করে বারোটা বাজাচ্ছে! ঘুম চোখেই রুমের বাইরে এলাম। ধীরে ধীরে আবিষ্কার হলো কারণ। পিকলুদা আর ভাবি ঝগড়া করছে। কিন্তু কী নিয়ে?

আবিষ্কার করতে লাগল কিছু সময়। পিকলুদা ও ভাবির ঝগড়া এবার ঈদে টিভির সিডিউল নিয়ে। ভাবি বলছেন, ‘দেখ, এবার কিন্তু তুমি টিভির রিমোট ধরবা না। খেলা দেখা লাগবে না। বেশ কিছু সুন্দর সিরিয়াল দিবো এবার টিভিতে।’

পিকলুদা বললেন, ‘না। আমাকে খেলা দেখতেই হবে, বিশ্বকাপ বলে কথা। সারা বছর তো সিরিয়াল দেখোই। তাছাড়া আমি তো আর সারা দিন দেখব না’।

‘তারপরও তুমি দেখতে পারবা না। ওই সময়েই মজার সিরিয়ালগুলো থাকে।’

কী করবে পিকলুদা? জোর গলায় কথা বলতে পারছে না। বললেই ভাবি গো চিৎপটাং বাপের বাড়ি, ভাই থাকবে একাকী। পিকলুদা মনে মনে চিকন বুদ্ধি আঁটছে। কী বুদ্ধি আঁটছে! তা জানা গেল কিছুক্ষণ পর- ‘আচ্ছা। তোমার টিভির রিমোটই আর ধরব না, ইচ্ছামতো সিরিয়াল দেখো। তবে একটা শর্ত আছে। তুমি এবার যে নেকলেসটা চাইছিলা সেটা পাবা না।’

‘আচ্ছা। নেকলেস দেওয়া লাগবে না।’ সিরিয়ালের জন্য নেকলেসের আবদার শেষ! কিন্তু পিকলুদা খেলা না দেখে থাকবে কী করে!

দু’দিন বাদেই ভাবি হতবাক! রুমের ভেতর টিভি চলছে। খেলার শব্দ ভেসে আসছে! জোর পায়ে ভাবি রুমে এগিয়ে গেল- ‘কী হলো! তোমার তো এমন কথা ছিল না।’

‘যেমন ছিল তেমনি হচ্ছে। আমি তোমার টিভির কিছু তো ধরি নাই।’

‘তাহলে!’

‘নতুন আরেকটা টিভি কিনে আনলাম। তোমার নেকনেস নিতে ৫০ হাজার টাকা লাগত। যেহেতু তোমার নেকলেস লাগছে না সেহেতু সেই টাকা থেকে নতুন আরেকটা টিভি আনলাম। তোমার রিমোটে তুমি, আমার রিমোটে আমি!’