নুনের কত গুণ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নুনের কত গুণ

আলম তালুকদার ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০১৯

print
নুনের কত গুণ

নুনের শতক গুণ। নুনের কারণে হয়েছে যুদ্ধ, হয়েছে খুন। যদিও কথাটি আমাদের জানাননি কবি নির্মলেন্দু গুণ! নুনকে আমরা অনেক নামে চিনি- লবণ, নিমক, তিতা ইত্যাদি। তিতা আবার পাঁচ প্রকার- নিম, গুলঞ্চ, বাসক, পলতা ও কণ্টককারী। ইতিহাস বলে, নুনের গুণ সবাই ধারণ করতে পারে না। নিমক খেয়ে অনেকেই নিমকহারামি করেছে। এখনও সমাজে নিমকহারামির অভাব নেই। নিমকের আকাল থাকলেও নিমকহারামির অভাব কোনো দিন পড়বে না বলেই মনে হয়। গত সপ্তাহের গুজবে নিমকহারামি বলেন আর নুনহারামিই বলেন, শুরু হয়া গিয়াছিল! এই তো একটা জোকস আইছে। দুইদিন আগের ঘটনা।

একজনকে দেখলেই পরিচিতজনরা নিমকহারামি বলে গালাগাল দেয়। গুজবের ডালাপালা ছড়িয়ে যখন এককেজি লবণের দাম একশত টাকা হাঁকা শুরু হলো, তখন একজন উতলার সঙ্গে সেই নিমকহারামির দেখা। তাকে জড়িয়ে ধরে কয়েকটা কামড় দিয়া বলে- নিমক বাইর কর তাড়াতাড়ি! বিরাট ঘটনা ঘটে গেল! কেউ কাউকে জানাইতে পারে নাই!

প্রাচীনকালে লবণ দিয়ে মানে ‘সল্ট’ দিয়ে সোলজারদের ‘সেলারি’ পরিশোধ করা হতো। তো সেলারি আর সোলজার শব্দ দুটি নাকি ঐ ‘সল্ট’ শব্দ থেকে এসেছে। ইতালিতে লবণ নিয়ে যুদ্ধও বেঁধে গিয়েছিল। খনিজ লবণ নিয়ে নানান কা- আছে। আমাদের দেশে সামুদ্রিক লবণের আধিপত্য বেশি। পাথুরে লবণ বা হিমালয়ের গোলাপি লবণও আছে। ‘কালা নামাক’ অপরিশোধিত লবণও পাওয়া যায়। বর্তমানে আমরা আয়োডিনযুক্ত লবণ খাই।

উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘রাজা ও তিনকন্যা’র কাহিনী আছে। রাজা কন্যাদের খুব ভালোবাসতেন। একদিন রাজা তার পরীক্ষা করার বাসনা জাগল- কোন কন্যা কেমন ভালোবাসে! প্রথম দুই কন্যার জবাবে রাজা মহাখোশ হলেন। ছোট কন্যা যাহা বলিল, রাজা রাগান্বিত হয়ে তাকে বনবাসে পাঠালেন। সে বলেছিল- ‘বাবা, আমি তোমাকে লবণের মতো ভালোবাসি’। তারপর তো মেলা সময় বহিয়া গেল। একসময় রাজা রাজত্ব হারিয়ে নিজেই বনবাসে গেলেন। সেই রাজকন্যার দরবারে আশ্রয় নিলেন। ক্ষুধার্ত বাবাকে আদরযত্ন করে নানারকম খাবার দিল, লবণ ছাড়া! রাজা মুখে দিয়ে বুঝলেন, লবণ ব্যতীত খাবার কেমন ‘অখিত’ হয়! এ কাহিনীর আধুনিক ভার্সন আছে। একজনের তিন কন্যা। তারও জানার সখ হলো কোন কন্যা তাকে বেশি লাইক করে। কন্যাদের কোনো আবদার অপূরণ রাখে না বেচারা বাপ। সামনে পহেলা বৈশাখ। একদিন সকালে নাস্তার টেবিলে কন্যাদের পরীক্ষা শুরু হলো। বড় কন্যা বলে, আমি তোমাকে ইলিশ মাছের মতো লাইক করি ড্যাড। মাইঝা কন্যা বলল, ড্যাড আমি তোমাকে লবণের মতো লাইক করি। বাবা দুজনের সময়োপযোগী লাগসই জবাবে খুশি হলেন। এবার ছোটকন্যা তুলুতুলু গুলুগুলু আদুরে কণ্ঠে বলল- ‘বাবা, আমি তোমকে পান্তাভাতের মতো ভালোবাসি!’

পান্তামারি ভালোবাসার কথা শুনে বাবার সেই রাজার মতোই মন খারাপ হয়া গেল। তো কী আর করা? বাপ হয়ে খাইছে ধরা। দুদিন পরে নববর্ষ। তিনকন্যা কন্যার মাসহ রমনা পার্কে তারা সকালেই হাজির। পান্তা ইলিশ খাওয়া হবে। বড় কন্যা ইলিশ নিয়ে এসেছে, মাইঝা কন্যা লবণ নিয়ে এসেছে। শুধু ইলিশ আর লবণ? পান্তা কই? পান্তা ছাড়া কি খাওয়া জমবে! মোটেই জমবে না। কাজেই ছোট কন্যা দৌড়ে গিয়ে এক চাড়ি পান্তাভাত নিয়ে হাজির। প্রমাণ হলো ছোটকন্যার ভালোবাসা একেবারেই পান্তু পান্তু নয়। স্মার্ট বাঙালি ঘরানার ভালোবাসা! হা হা হা।

শেষ করি আমার এক শ্যালিকার বয়ান দিয়ে। তার স্বামীপ্রবর বেশ রাগি। পান থেকে চুন খসলেই রেগে আগুন। কয়েক বছর পরে বাচ্চা একটু বড় হলে প্রতিশোধের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সে উৎফুল্ল। যেদিন স্বামী বেশি রাগারাগি করে, সেদিন ইচ্ছা করেই তরকারিতে লবণ বেশি দিয়ে স্বাদ নষ্ট করে দেয়। খাওয়া মুখে দিয়েই বেচারা স্বামীর চেহারা বদলে যায়। কিছুদিন পরে স্বামী বুঝিতে সক্ষম হইল, রাগিলে তরকারিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আপস ছাড়া উপায় নাই গোলাম হোসেন! অবশেষে তাই। আর কিছু নাই!