দুই কুড়ি দশ

ঢাকা, রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

দুই কুড়ি দশ

আলম তালুকদার
🕐 ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

দুই কুড়ি দশ

৫০! সংখ্যাটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের সামনে কী ভাসে বা আসে? প্রথমেই আসে ‘হাফ সেঞ্চুরি’। তারপরে আসে ‘গোল্ডেন জুবিলি’! শেষে আসে ৫০-এর মন্বন্তর, মানে দুর্ভিক্ষ! আমাদের আলোচ্য বিষয় বিপদ বা আপদের নয়- মজার এবং আনন্দের। ৫০ সংখ্যা বাংলাওয়াশ-পূর্তি, মনবোঝাই ফুর্তি। এক কম হলে অনেকেই সন্দেহ করতে পারত। সে ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। ৪৯ উল্টালেও সমস্যা।

এই রে, জোকস চিমটি মারছে। এক শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে সংখ্যা লিখে মজা করছে। তিনি ২৪ লিখে আবার উল্টো লিখলেন- হলো ৪২, এভাবে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ লিখে উল্টা করে লিখে বোঝালেন, বুঝলে কেমন মজা। এক দুষ্টু বলল- ‘স্যার, আমি নম্বর দিই?’

‘হ্যাঁ, দাও।’
‘লেখেন ২২, ৩৩, ৪৪, ৫৫!’
আরেকজন বলল, ‘স্যার, ৫০!’
স্যার লিখলেন ০৫। তখন বিটলা ছাত্রটি বলল, ‘আপনার বয়স ০৫! আমারও তাই! হি হি হি।’

আসলে খোলা কাগজের বাংলাওয়াশের বয়স দুই সপ্তাহ কম ৫০ সপ্তাহ। অন্যভাবে যদি বলি দুই কুড়ি দশ। ইতোমধ্যেই এর নাম যশ এবং রস দশ দিকে গড়াইয়া গড়াইয়া যাইতেছে। পাঠকরা মজা পাইতেছে।

শিবরামকে মনে পড়ে। একবার হর্ষবর্ধন আর গোবর্ধন ট্রেনে যাবে মামাবাড়ি। রেলস্টেশনের কাছাকাছি এসে দেখে একটা জাদুঘর। হাতে বেশ সময়। ঢুকে গেল ভেতরে। ঢুকেই ঠাণ্ডা হাওয়া পাওয়া গেল। আরামের চোটে হর্ষদা একটা সিগারেটে আগুন দিয়ে আরামসে টান দিতে থাকে। এর মধ্যে নিরাপত্তা প্রহরী এসে ৫০ টাকা জরিমানা করেছে। রশিদও কেটে ফেলেছে। কী আর করা। ৫০ টাকা দিতেই হবে। তো ১০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিলে প্রহরী বলল, ভাংতি দেন। কিন্তু ভাংতি নেই! মহাসমস্যা। কী করা যায়। হর্ষবর্ধন ছোটভাইকে বলে, তুই একটা সিগারেট ধরা। তোর ৫০ টাকা জরিমানা হবে। তাহলে আর ভাংতির প্রয়োজন হবে না। টায় টায় শোধবোধ!

শিবরামকে আবার মনে পড়ে। এই ৫০-এর কারণেই। এক সুখী দম্পতির বিবাহের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। বুড়োবুড়ির বয়স কত এবার হিসাব করেন। নাতির পরে পুতিও এসেছে। তারা শেষকালে গয়া-কাশি ভ্রমণে গেলেন। ছয় মাস পরে কলকাতার বাসায় ফিরে এসে দরজায় নক করেছেন। বড় ছেলের বউ দরজা খুলে দেখে, একজন ২৫ বছরের মহিলা একটি শিশু কোলে দাঁড়িয়ে।

তাদের দেখে বলল, ‘কী চাই? কাকে চাই?’
মহিলা বিস্মিত হয়ে বলল, ‘বউমা, আমাদের চিনতে পারছ না? আমি তোমার শাশুড়ি আর আমার কোলে তোমার শ্বশুর’!
বউমা আরও বিস্মিত হয়ে বলল, ‘সে কী? আমি কী দেখেছি আর কী শুনছি? কী বলছেন? মতলবটা কী?’

তার চিৎকারে বাসার সবাই বের হয়ে এসেছে। সবার সামনে মহিলাটি বলল, ‘শোনো, আমি তোমাদের শাশুড়ি আর আমার কোলে তোমাদের শ্বশুর। আমরা কাশিতে গিয়ে এক কবরাজি ওষুধ খেয়েছি। ওষুধের কারণে আমার এবং ওর বয়স কমে গেছে। আমি এক বোতলের অর্ধেক খেয়েছিলাম বলে আমার বয়স অর্ধেক কমেছে। তোমাদের শ্বশুর পুরো বোতল একবারে খেয়ে শিশু হয়ে গেছে! হা হা হা। দরজা ছাড়ো, ভেতরে যেতে দাও। বোতলে দুধ দাও। তোমাদের শ্বশুরকে খাওয়াতে হবে না?’

আর দরকার আছে? আমি কত আনন্দে লেখি কিন্তু খোলা কাগজের সম্পাদক ড. কাজল ৫০ টাকাও অনুদান ঘোষণা করার সাহস পান না। কারণ তার বয়স নাকি এখনও ৫০ পূর্ণ হয়নি। হলে পাওয়া যাবে বলে শফিক ফিক ফিক করে জানাইছে! আনন্দটা কেমন? এক ধনী ব্যবসায়ী প্রায় প্রতি রাতে কাবে যাবে মদ খাবে আনন্দ করবে তারপরে বাসায় আসবে। প্রতি রাতে বউয়ের সঙ্গে খিটিরমিটির। তো এক সন্ধ্যায় তার বউকে জোর করে কাবে নিয়ে বারে বসে হুইস্কির অর্ডার দিয়েছে। তো হুইস্কি একটু মুখে নিয়ে মুখটা একেবারে ‘চুঙ্গা’ করে ফেলেছে। বউ বলছে, ‘এসব মানুষে খায়? জঘন্য!’

স্বামী এবার বলতে থাকে, ‘এবার তাহলে বোঝ! তুমি মনে করো আমি কত আরামে, আনন্দে এসব ছাইপাস খাই! কত কষ্ট করে খেতে হয় এবার নগদে বুঝলে তো?’ বউরা বুঝতে চায় না! লেখকদের কষ্টও অনেকে বুঝতে চায় না, হে!

 
Electronic Paper