মাঠ থেকে টেলিভিশনে

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মাঠ থেকে টেলিভিশনে

হামীম রায়হান ৮:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

print
মাঠ থেকে টেলিভিশনে

হঠাৎ সুবেল দৌড়াতে দৌড়াতে বাসায় এলো। আরমান ভাইয়ের জরুরি তলব! খুব জরুরি মিটিং! আমি দেরি না করে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ি। ও, আরমান ভাই হলো আমাদের পাড়ার সুপারস্টার! পাড়ার বড় ভাই যাকে বলা যায়। ভাইয়ের বিবিধ কাজ! বর্তমানে তিনি মাঠের ওপারে চারতলা বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় আসা নতুন ভাড়াটিয়া রূপা নামের মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

যদিও ভাই এখনো প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেননি। অবশ্য ভাইয়ের প্রেমে পড়াটা কোনো বিষয় না। এ পর্যন্ত তিনি অনেকের প্রেমেই পড়েছেন। কিন্তু প্রেম তার ওপর কখনো পড়ে না!

আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে উপস্থিত। দেখি ভাই বেশ চিন্তিত।
‘কী ব্যাপার? কোনো সমস্যা!’
আরমান ভাই বলেন, ‘দেখ আমাদের শরীরের অবস্থা! কেমন যেন মুটিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের শরীর নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার!’
বুঝতে পারলাম না ঘটনা কী? হঠাৎ ভাইয়ের এত শরীর সচেতন হওয়ার কারণ কী!

আরমান ভাই আবার বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাই বিকালবেলা নিয়ম করে খেলাধুলা করব। যেহেতু এখনকার সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট তাই আমরা রোজ বিকেলে পাড়ার মাঠে ক্রিকেট খেলব। কী বলিস তোরা?’
আমরা এককথায় রাজি। এবার বুঝতে পারলাম ভাইয়ের মাঠে যাওয়ার কারণ।

তারপর আমরা গিয়ে মাঠ পরিদর্শন করলাম। আরমান ভাই মাঠ পছন্দ করলেন বিল্ডিংয়ের কাছেই। ওখান থেকে স্পষ্ট দোতলা দেখা যায়।
পরদিন বিকেলে আমরা সবাই ব্যাট বল নিয়ে মাঠে হাজির। আরমান ভাইও নিজের নামে জার্সি পরে হাজির! শুরু হলো খেলা। দারুণ খেলছেন আরমান ভাই। ভাই জোরে জোরে আওয়াজ করছেন। এত আওয়াজের কারণ হলো যদি দোতলার বারান্দায় কেউ আসে। ভাই কিছুক্ষণ পরপর দোতলায় দেখছেন। আমরাও তাকাচ্ছি। আমরাও জোরে আওয়াজ করছি। এতে কাজ হলো। এক অল্প বয়সী মেয়ে বারান্দায় এলো। হাতে মোবাইলে ছবি বা ভিডিও করছে।

ভাই তো এবার আকাশে! সত্যি বুঝি প্রেমটা হয়ে গেল! ভালো লেগেছে তাই ছবি তুলছে। ভাইও সুন্দর সুন্দর পোজ দিতে লাগলেন। আমরাও বেশ মজা করে খেললাম।

খেলার পর ভাই সবাইকে সেলিম চাচার দোকানে বেশ পেট পুরে খাওয়ালেন। আমরাও খেয়ে আরমান ভাইয়ের জয়গান করে যার যার বাড়ি ফিরে গেলাম। পরদিন সবাই যথারীতি মাঠে হাজির। কিন্তু আরমান ভাইয়ের কোনো দেখা নেই। সমস্যা হলো না তো! ভাই তো সবার আগে আসার কথা। আমরা খেলা শুরু না করে ভাইয়ের খবর নিতে বেরোলাম। সেলিম চাচার দোকানে গেলাম প্রথমে। ভাইয়ের আড্ডা ও প্রাইভেট চায়ের দোকান ওটাই! দোকানে গিয়ে যা শুনলাম, তাতে আমাদের রক্তও হিম হয়ে গেল।

‘থানার নতুন এসপি ওই দোতলায় বাসা ভাড়া নিয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে আরমান ভাই ওই রাস্তায় ঘুরঘুর করছেন। কাল তোমাদের বিদায়ের পর রাত আটটার দিকে থানার নতুন এসপি পুলিশ ফোর্স নিয়ে দোকানে আসেন। ভাইকে আলটিমেটাম দিয়ে যায়, এরপর আরমান ভাইকে ও পথে দেখলে থানায় নিয়ে আদর-আপ্যায়ন করা হবে!’

এমন কথা শোনার পর কি কেউ আর ও-পথে যাওয়ার সাহস পাই! ভয়ে আত্মগোপনে গেলেন। আমরাও আপাতত পরিস্থিতি ঠা-া না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট খেলা টিভি পর্যন্তই রাখলাম!