প্রযুক্তির ফাঁদ, জীবন বরবাদ

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রযুক্তির ফাঁদ, জীবন বরবাদ

কবির কাঞ্চন ৮:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

print
প্রযুক্তির ফাঁদ, জীবন বরবাদ

সুশীল বাবু নতুন করে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট কিনেছেন। সারাজীবন এনালগ মোবাইলে আঙুল চাপতে চাপতে হাঁফিয়ে উঠেছেন। ছোটখাটো চাকরি করেন বলে শৌখিনতাকে এতদিন জলাঞ্জলি দিয়েছেন। নিজে ভালো মোবাইল সেট চিনতে পারবেন কি-না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তাই অফিসের পিয়ন সিরাজকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে গিয়েছিলেন। পিয়ন পদে চাকরি করলেও প্রযুক্তি বিষয়ে সুখ্যাতি আছে সিরাজের।

সামর্থ্যরে মধ্যে ভালো একটি মোবাইল সেট কিনে বাড়ি ফেরেন তিনি। প্যাকেট খুলে মোবাইল সেটটি বের করার পর আঙুল চাপতে থাকেন। একটি টিপতে আরেকটিতে টিপে ফেলছেন। স্বামীর হাত থেকে মোবাইল সেটটা কেড়ে নিয়ে স্ত্রী বলতে লাগলেন, এতক্ষণ ধরে কী করছ? এদিকে দাও। আমি চেষ্টা করি।
স্ত্রী বলল, মোবাইল ফোন টেপাটেপি করতে করতে সব শেখা হয়ে যায়। দেখো, ক’দিন পরে তুমিও দক্ষ হয়ে যাবে। তবে সাবধান। উল্টাপাল্টা কিছু যেন না হয়।
-মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে উল্টাপাল্টার কী সম্পর্ক!
-সম্পর্ক আছে। কিন্তু সাবধান। ফেসবুকে অযথা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট রিসিভ করো না। বিশেষ করে মেয়েদের!
-ওহ, এই কথা! আমাদের কি আর সেই বয়স আছে?
-যে যুগ পড়েছে। কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। চোখের সামনে রোজ কত অঘটনই তো ঘটছে।

পরদিন অফিসে পৌঁছে সুশীল বাবু নিজের চেয়ারে বসে প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল সেটটা আলতোভাবে বের করে নরম আঙুলে টিপতে লাগলেন। পাশের কলিগদের দৃষ্টিগোচর হলে সবাই চেয়ার থেকে উঠে এসে মোবাইল সেটটা দেখে খুব প্রশংসা করতে থাকেন। সুশীল বাবু খুশি হন।

ফেসবুকে নিজের মন্তব্য লিখে সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে তিনি আনন্দিত। বন্ধু তালিকায় সব বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতি রয়েছে। আনন্দ বেশিদিন টেকে না। তার ক্ষেত্রেও সেরকম কিছু ঘটল। হঠাৎ একদিন তার ফেসবুক আইডি থেকে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। লগইন করার পর বন্ধুরা মেসেঞ্জারে ছবিগুলো পাঠিয়ে তাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে থাকে। সিরাজের নম্বরে কল করেন তিনি। সে তড়িঘড়ি করে সুশীল বাবুর বাসায় চলে আসে।
এরপর সুশীল বাবুর ফেসবুক আইডিতে ঢুকে স্ট্যাটাস লিখল সিরাজ- প্রিয় ফেবু বন্ধুরা, আমার আইডি হ্যাক হয়েছে। কিছু আপত্তিকর ছবি/ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন না।

স্ট্যাটাস দিয়ে সিরাজ মাথা নিচু করে ভাবতে থাকে। ততক্ষণে সুশীল বাবুর মোবাইলে একের পর এক কল আসতে শুরু করে। তিনি সবাইকে একই রকম সান্ত্বনা বাক্য শুনিয়ে স্বস্তি খুঁজছেন!