অফার থেকে সাবধান

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অফার থেকে সাবধান

সোহেল নওরোজ ১:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

print
অফার থেকে সাবধান

মারুফ মামা দিল-দরিয়া মানুষ। কথায় কথায় বলেন- আমার শরীরের পুরোটাই কলিজা। কোনো খাদ পাবা না। মামার দরদ বিষয়ে লিখতে গেলে বড় ভলিউমের একখানা বই হয়ে যাবে। বইয়ের নাম দেওয়া যাবে- তার মতো আর নেই কেউ দরদি! মামা নতুন স্মার্টফোন নিয়েছেন। সময় মামা-চাচা বোঝে না। সবার হাতে স্মার্টফোন ধরিয়ে দেয়।

প্রথম দিকে মামা ফোনের দিকে কেবল তাকিয়ে থাকত। ইদানীং ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেছেন। বিপদ মূলত তারপর থেকেই শুরু হয়েছে।
মামার দুটো সিমে প্রতিদিন গড়ে ১৫-১৬টা এসএমএস আসে। মামা সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পড়েন। অফার দেখলেই মামার বুক হুহু করে ওঠে। তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পারেন না। টকটাইম, ইন্টারনেট, এসএমএস কিনে একাকার করে ফেলছেন।

মামি ঘটনা টের পেয়ে মামাকে চেপে ধরলেন, ‘সমস্যা কী তোমার! মোবাইলের একটা অফারও বাদ দিচ্ছ না? একটার পর একটা কিনছ!’
মামা গলা ঝেড়ে শান্ত স্বরে বলেন, ‘বিষয়টাকে এভাবে দেখছ কেন? কেউ যদি তার বাড়িতে তোমাকে নেমন্তন্ন করে তুমি কি ফিরিয়ে দিতে পারবে?’
মামি গলার ঝাঁজ আরেকটু চড়িয়ে বলেন, ‘ফোন কোম্পানি তোমার কেমন আত্মীয় শুনি, রোজ তোমাকে দাওয়াত দিচ্ছে?’

মামা বুঝিয়ে বলেন, ‘এটা তুলনা করার জন্য বললাম। ওরা এত কষ্ট করে এসএমএস পাঠায়, আমি যদি সেগুলো অবজ্ঞা করে না পড়ি, তাহলে কি ভালো দেখায়? তাছাড়া যেসব ছেলে-মেয়ে এগুলো পাঠায় তাদের দিকটাও ভাবা দরকার। আমরা কেউ যদি না কিনি, তাহলে এরা খেয়ে-পরে বাঁচবে কীভাবে?’

মামি তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। তবে তেলের পরিমাণ একটু বেশি হয়ে যায়, ‘ভালো তো চালিয়ে যাও, ফোন দিয়ে জেনে নাও আরও কী কী অফার আছে। প্রয়োজনে বেতনের পুরোটা দিয়ে অফার কিনে ফেল। ওদের খাওয়ানোর দায়িত্ব যখন কাঁধে তুলে নিয়েছ তখন তুমি ভাত না খেয়ে সারা মাস অফার খেয়ে থাকো।’
মামা তর্কে যান না। পৃথিবীতে নারী জাতিকে বোঝানোর চেয়ে কঠিন কাজ আর নেই। কত বাঘা বাঘা মানুষ ফেল মেরেছে, তিনি কোন ছার!
সেদিন সকালে উঠেই মামা হইচই ফেলে দেন। তার ফোনে ডাটা নেই! অথচ দুদিন আগেই ৫ জিবি ইন্টারনেটের অফার কিনেছিলেন।

মামি সুযোগ বুঝে ছুটে এলেন। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই বুঝলেন এখানে কোনো ঘাপলা আছে।
মামা নাশতা করতে বসেছেন। মামি এক কাঁদি কলা নিয়ে হাজির। বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই এক কাঁদি কলা তোমাকে পাঁচ মিনিটে খেতে হবে।’
মামার চোখ ছানাবড়া, ‘পাগল হয়ে গেলে নাকি! একটা মানুষের পক্ষে পাঁচ মিনিটে এতগুলো কলা খাওয়া সম্ভব নাকি?’

মামি যেন এ কথার অপেক্ষাতেই ছিলেন। ছোঁ মেরে মামার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বললেন, ‘মোবাইল কোম্পানি তোমাকে তাই খাওয়াচ্ছে। ৫ জিবি ডাটার মেয়াদ দিচ্ছে দুদিন। তুমিও গিলছ! কলা খেতে পারবা না বোঝ, এটা বোঝ না!’

মামা কিঞ্চিৎ লজ্জা পেলেন বলে মনে হলো। তবে মামির সামান্য কথায় অফারের পেছন ছাড়লেন না।

কয়েক দিনের মধ্যেই মামিকে দেখিয়ে দেওয়ার সুযোগ এলো। মামা পত্রিকার বিজ্ঞাপন মামিকে দেখালেন, ‘এই দেখো। হুলস্থুল ব্যাপার! ৫ টাকায় ৫ জিবি ইন্টারনেট দিচ্ছে। মেয়াদও ৩০ দিন! ৫ টাকায় এক গ্লাস পানিও কেনা যায় না। ৫ জিবি ইন্টারনেট দিচ্ছে ভাবতে পারো!’

মামি ভাবতে পারলেন না। তাই খুঁটে খুঁটে বিজ্ঞাপন দেখলেন। মামার মুখে বিজয়ের হাসি। তা স্থায়ী হলো না মামির চিৎকারে, ‘তোমাকে এখনি চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এদের শর্ত পড়তে হলে এছাড়া উপায় নেই।’

মামার মুখ চুপসে গেল। ‘শর্ত প্রযোজ্য’ লেখাটা এতই ছোট, চোখে পড়েনি। তিনি শর্ত পড়ে রীতিমতো গর্তে পড়ে গেলেন- তিনশ’ টাকায় ৫ জিবি কেনার পরের ৫ জিবি মাত্র ৫ টাকায়!