হিড়িকের লিরিক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

হিড়িকের লিরিক

গোলাম মোর্তুজা ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
হিড়িকের লিরিক

অকল্পনার সব রঙে আঁকা আমাদের বাংলাদেশ। নদী বণ্টনের নেইকো শেষ। খুন, হত্যা, গুম পড়েছে ধুম। চারিদিকে দুঃখের চুম। কিছুদিন পর সব সমান। নেতা-নেত্রীর বাগাড়ম্বর বয়ান। ইলশে-গুঁড়ি বৃষ্টিতে নাকি ইলিশ বেড়াতে আসে। তাই বৃষ্টির আগে ইলিশ ধরার হিড়িক। মজুদদাররা তখন গায় লিরিক।

বকনপুর গ্রামের বলদা ব্যবসা করে গলদার। শুরুতেই করেছিল গলদ। বাবা বলেছিলেন, কিছু গাছ লাগাও ফলদ। সেদিন বাবার কোনো কথায় শোনেনি। ইলিশের ব্যবসা করবে বিশেষ টাইমলি। বলদা ব্যবসা বোঝে। ইলিশ কিনে রাখল হিমায়িত ঘরের মাঝে।

বাংলা নববর্ষে মাতোয়ারা হবে হবেই দেশবাসী। ইলিশ বিক্রি তখন রাশিরাশি। বলদা হেসে তাই কুটিকুটি, বর্ষবরণের আগে ব্যবসা ফাটাফাটি।

আবার একই গ্রামের নেপু। অনেক দৌড়-ঝাঁপ আর বাবার পাঁচবিঘা জমি কেটে-ছেঁটে-মেপে বিক্রয় বরে চাকরি নিয়েছে শহরে। গোটা গ্রাম আজ শুধু নেপুময়। বলে বেড়ায়, নিজের চেষ্টায়, ঘাম ঝরায়ে, চাকরি পাড়াতে। ওর কথা কাঁচামিঠা ফ্লেভার বটে, সময়ও চলে মিথ্যের বাটে-বাটে। চাকরি পাওয়ার পর ধারণা জন্মায়, বসকে তেল মারলেই হবে পদোন্নতির জয়।

এই ভূয়োদর্শনবাজ নেপু মিয়া একদিন বসকে বলে, ‘আপনে খান বাজারের সস। আমরা খাই বাড়ির ভেজালমুক্ত টমেটো সস। ইলিশটাও খাই বাড়িরই, করে রইরই। বস বললেন হেসে, ‘এভাবেই চলছে বারো মাসে। আপনাদের গ্রামের ইলিশ একটি দিয়েন। সামনেই নববর্ষ। মনে আসছে হর্ষ।’

নববর্ষ আসছে আহা রে, ইলিশের দাম চড়ে বাজারে। বলদার ব্যস্ততা, হিমায়িত ইলিশ টাকার বার্তা। নেপু চলল বাজারে, ইলিশের মরসুম যায় বুঝি ফুরিয়ে। নেপুকে দেখে বলদা নেয় ডেকে। বলে, ‘আসেন এদিকে ইলিশ আছে চকচকে। বেছে বেছে নিন সুখে।’ বলদার কথায় নেপুকে আর কে সামলাই। হেব্বি ওর বড়াই। বলে, ‘একটা বড় দেখে দিন, টেস্ট হওয়া চাই অমলিন। বসকে দেব, খুশি যেন হয় উনার স্ত্রীও।’ ইলিশের দামে নেপুর কণ্ঠ থামে। বলে, ‘কী বলব আপনাকে, লজ্জা লাগছে আমাকে।’

বসের কাছে গিয়ে নেপু বলে, ‘স্যার, নিন আমাদের বাড়ির পুকুরের তাজা ইলিশ, যা ছিল সব হয়েছে ফিনিস। পরের মাসও লাগবে, তবেই তা মিটবে।’ নেপুর কথার আগা-মাথা বোঝে না কিছু বসটা। বস বলেন, ‘জানতাম ইলিশ নদীতে হয়। আজকাল পুকুরেও হয়। বেশ! যখন নিয়েই এনেছেন তখন দিন!’