ঠকানোর কৌতূহলে

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

ঠকানোর কৌতূহলে

গোলাম মোর্তুজা ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
ঠকানোর কৌতূহলে

শরতের কাশফুল কিংবা শিউলিঝরা প্রাঙ্গণ সবই আজ নিরস, জীবনের মুহূর্তগুলো কালোবাজারির চক্রে হয়ে যাচ্ছে অবশ। ফারাক্কাও করে দিল আগলা। আসন বেদনাতে আমরা অনেকটাই পাগলা। ফরিয়াদপুর গ্রামের শুকনা দুম্বা সব পরীক্ষাতে খেয়ে ডাব্বা। অতঃপর ব্যবসা- দূর হলো বেকার সমস্যা। বুকের ভেতরে আশা, করবে একটি ভালো বাসা। টাকা নেই, বাবা আছেন।

কিছুদিন পরে বাবাও নেই বাবার জমি আছে। ভাইবোনদের ঠকিয়ে শুকনা দুম্বা গর্ব করে বলে, ‘আজ আমি জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছি নিজের চেষ্টায়। যোগ দিয়েছি ব্যবসায়। স্বামীর কথা শুনে স্ত্রী বলে গুণ গানে, ‘তুমি যে কী জিনিস, দু-দশ গ্রামে নেই তোমার সদৃশ।’ স্ত্রীর কথা শোনামাত্রই দুম্বা একেবারে মহাখাপ্পা। সরল সোজা কিসিমের স্ত্রী পেয়ে যায় মহালজ্জা।

শুকনা দুম্বা পেয়ে যায় বড় হওয়ার পন্থা। নাম লেখায় শহুরে ব্যবসার কুচক্রী মহলের দরবারে। একদিন সে মহলে বসল সভা, শহরের সভ্যদের এ কি বিভা! মূল হোতা বলল, ‘আজ আমাদের বিশেষ সময় এসেছে। এ দিনটির জন্য আছি বেঁচে। টাকা আর টাকা নেব পিয়াজ বেচে। বাজারে মারতে হবে এক ঝটকা। পিয়াজ রাখেন আটকা।’ কুচক্রী নেতা ‘বাবু মালটা’ গোপন ঘরে সাদা পোশাকে থাকা কালো মানুষগুলো করল ঠোঁট বাঁকা। শুকনা দুম্বা আওয়াজ দিল হাম্বা।

বলল, ‘আমার অন্দর ঘরে পিয়াজ আছে মণ হাজারে হাজারে। এবার ঠেলা বুঝবে সরকারে। সাধারণের বেলা কাটবে হাহাকারে। তাতে কিইবা যায় আসে। যাক সব পরবাসে।’

দুম্বার কথা শুনে সবাই হাসে খিলখিলিয়ে। বাবু মালটা বলে, ‘আমাদের হতে হবে যতাত্মা। কোনো কাজ করবে না যথেচ্ছা। রাতারাতি বাড়বে দাম। বাড়বে ইনকাম। আস্তে আস্তে ছাড়ব। বাজার গরম করব। গরিবের কথা ভাবলে তো আর আমাদের চলবে না। মন হাসবে না। আমাদের শুধু আমাদের কথায় ভাবতে হবে।নিজে বাঁচলে বাপ-মা ও গ্রামের নাম হবে সরবে।’

সেদিন আর হয়নি কথা, বৈরী হয়ে গেল আবহাওয়াটা। বৃষ্টি বৃষ্টি, ঝুমবৃষ্টি। সে কি অনাসৃষ্টি। বাজারে পিয়াজের আগুন- সিন্ডিকেটের এলো ফাগুন। একদিন সরকার বাহাদুরের এক কর্ণধার বললেন, হেসে-কেশে, সংবাদ সম্মেলনে এসে, ‘অনেক পিয়াজ আছে আমাদের মজুদ। এদেশ আমাদের প্রাণের লাল-সবুজ।’

হাস্যকর কথায় দেশবাসী কূল না পায়। এ যে বড়ই সিন্ডিকেট, জ্ঞানী-গুণী ও নানা মুনি করে ইন্ডিকেট!