হাজার টাকার পিয়াজ

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

হাজার টাকার পিয়াজ

আবু সাইদ ৭:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

print
হাজার টাকার পিয়াজ

অফিস শেষে কী কী বাজার করতে হবে জানতে গিন্নিকে কল করলেন হারুন সাহেব। প্রথমে ফোনটা রিসিভ হলো না। কিছুক্ষণ পর আবার দিলে রিসিভ হলো। রিসিভ করেই সালাম ঠুকলো তার শ্যালকের স্ত্রী ফারজানা। হারুন সাহেব ভাবলেন, শ্যালক স্ত্রীসহ হয়তো বাসায় বেড়াতে এসেছে। তিনি সালাম নিয়ে বললেন, ফারজানা কখন এসেছ?

-দুলাভাই আমরা আসিনি। আপাই তো আমাদের বাড়িতে এসেছেন!
-কেন, কেন?
-জানি না। আপা এসে ফ্রেশ না হয়েই ফোন রেখে উত্তরপাড়ায় কী যেন আনতে গেছেন। বলে গেছেন এসেই নাকি বাড়ি ফিরবেন।

-তোমার আপা এলে তাড়াতাড়ি বাসায় পাঠিয়ে দিও। ফোনটা রেখে ভাবতে লাগলেন, কেন স্ত্রী তাকে না জানিয়ে ৩০ কিলোমিটার দূরে বাপের বাড়ি গেল? দুশ্চিন্তা করতে করতে বাড়ি ফিরলেন তিনি। ঘরফেরা পাখির মধুর কলতানও তার বুকে শেলের মতো বিঁধতে লাগল। ঠিক সেই সময় মলিন বদনে ছোট্ট একটি পুটলি হাতে স্ত্রী বাসায় প্রবেশ করলেন। হারুন সাহেব ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন- জানু, বাপের বাড়িতে গিয়েছিলে কেন?

-পিয়াজ কিনতে।
-পিয়াজ কি এখানকার বাজারে পাওয়া যায় না?
-পাওয়া যায়।

হারুন সাহেবের স্ত্রী বলতে শুরু করলেন কেন বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন। টেলিভিশন অন করেই খবর পান পিয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা হয়েছে। অমনি মনে পড়ে যায়, বাপের বাড়ির কথা। সেখানে প্রচুর পিয়াজ উৎপাদন হয়। ভেবেছিলেন গ্রামে পিয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরটা পৌঁছায়নি।

অল্প দামে পিয়াজ কিনতে ৮৭০ টাকা দিয়ে সিএনজি ভাড়া করে সেখানে গিয়েছিলেন। গিয়ে দেখেন প্রযুক্তির কল্যাণে খবরটা তারা আগেই জানে! শহরে-গ্রামে দামের কোনো পার্থক্যই নেই। তাই সেখান থেকে পিয়াজ না কিনেই ফেরেন। পথে স্থানীয় বাজার থেকে ১ কেজি পিয়াজ ১৩০ টাকায় কেনেন।

স্ত্রীর এহেন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে মৃদু হেসে হারুন সাহেব বললেন, তাহলে ১ কেজি পিঁয়াজের দাম কত পড়ল?
আমতা আমতা করে স্ত্রী বললেন, ওই ওই ওই ১০০০ টাকা!