জুয়াখেলার দিনরাত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

জুয়াখেলার দিনরাত

গোলাম মোর্তুজা ২:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০১৯

print
জুয়াখেলার দিনরাত

ঘটনা যায় ঘটনা আসে, এ রঙের বাংলাদেশে। আলোচনা-সমালোচনা কিছুদিন চলে তোড়জোড়ে। তারপর সব যায় ভেসে সভ্যতার অতল গহ্বরে।

পাকাপোক্ত গ্রামের সুরবেফু হাসবেন, খেলবেন আর গাইবেন- এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। অথচ হলো কী! উনি হাসলেন কিন্তু বাঁকা হাসি। কারও গলায় পড়বে ফাঁসি। নিজে খেলবেন না, কিন্তু খেলাবেন। জীবনের ভাবসঙ্গীত গাইবেন না, গাওয়াবেন। গ্রাম ছেড়ে তাই শহরে। কোনো বড় নেতার শান্ত, শীতল ছায়াতলে। বড় নেতা সবুজ চৌধুরী (বয়স প্রায় সাতান্ন, অথচ সবুজ) উনি আবার ছাত্রদের নেতা।

বললেন, ‘শোন সুর আজ থেকে তুমি অসুর। বড় নেতা হলে প্রশাসনের নজর থাকে আড়ালে-আবডালে। তাই কাজটা শুরু করতে পারছি না, শুরু করবে তুমি, যা লাগে দেব ভর্তুকি। রাতারাতি হবে টাকার কুমির। খাবে-দাবে কলকলাবে সুন্দর হবে ভেতর বাহির।’

বড় নেতার ছক, শুনে তো অবাক। নেতা আবার বললেন, ‘তুমি থাকবে সামনে, আর আমি থাকব পেছনে। কোটি কোটি টাকা ক্যাসিনে।’

বড় নেতার কাণ্ড, সুরও ভণ্ড, শুরু হলো ক্যাসিনোকাণ্ড। খদ্দের আসে, খদ্দের যায়; লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা কামায়। সুর লাভ পায় ঢের, বড় নেতারও নেই হেরফের। জমে ওঠে সে খেলা। মদ, জুয়া, নারী, আর কী-ই বা আছে বলতে না নারী! প্রশাসন দেয় হাতছানি, সুর ওদের দেয় কাড়িকাড়ি। সুরবেফু নাম পরিবর্তন করে হয়ে যায় ‘সিরিয়াস বেফু, বড় নেতাও বগলে রাখে অসুরের ভেঁপু। সিরিয়াস শহরে শুরু করে তাণ্ডব, টাকা আর টাকা ঘরে বসে না একদণ্ড। বড় নেতা ছায়া, কীসের এত ভয় ভায়া! ভাঁওতাবাজিতে ওই সেরা। একদিন পুলিশ এসে দিল ঘেরা। কিছু লাখ টাকা আর ওদিকে বড় নেতার ধাক্কা- তাতে সবই হলো ফাঁকা। বড় নেতার এক অনুষ্ঠানে সিরিয়াস গেল নেতার তরে। ওকে দেখে নেতা একথা ওকথা, হাসতে হাসতে টাকার কথা।

সিরিয়াস বলল, ‘স্যার সব পৌঁছে যাবে, তবে প্রশাসনটা একটু ঝামেলা করছে। আপনি দেখবেন সে ব্যাপার, আপনার জন্য আমার জীবন কোরবান।’

আবার চলে ব্যবসা-সিরিয়াস বোঝে সুদকষা। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। একদিন প্রশাসন র‌্যাব, ওকে ধরে গটমট। গা-জরি কথা শোনেনি ওরা, টাকার চেয়ে দেশ বড় মানে তারা। থলে থেকে একে একে বিড়াল বের হলো, ক্যাসিনো সংস্কৃতির কী হলো!