হেডফোন বিড়ম্বনা

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

হেডফোন বিড়ম্বনা

আশিক মাহমুদ রিয়াদ ৬:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯

print
হেডফোন বিড়ম্বনা

দুপুরে চোখ বুজে কানে হেডফোন লাগিয়ে ঝাঁকানাকা গান শুনছি আর মাথা ঝাঁকাচ্ছি। সঙ্গে আমার শরীরটাও দুলছে। দাদি এসে এ কর্মকাণ্ড দেখে ঝাড়ু দিয়ে ঝপাং করে আমাকে মারতে লাগলেন। কেন মারলেন বুঝতে পারলাম না। ঝাড়ুর বাড়িতে গান শোনা থমকে গেল। ঝাড়ু দিয়ে একটা না কয়েকটা বাড়ি দিলেন। আমি হতভম্ব চোখে দাদির দিকে তাকাতেই আতঙ্কিত গলায় বললেন, ‘তুই ঠিক আছিস তো? কিছু হয়নি তো? ডাক্তার ডাকব?’

আমি রেগে বললাম, ‘ফাজলামি পেয়েছ? এতক্ষণ ঝপাং ঝপাং করে ঝাড়ুর বাড়ি দিয়ে এখন কি-না সহানুভূতি দেখাচ্ছো?’
দাদি রাগী গলায় ধমকালেন, ‘আমি তোকে কারেন্টের হাত থেকে বাঁচালাম।’

‘কারেন্ট! কোথায় কারেন্ট?’
‘কেন, ওই যে তোর কানে। তারের মতো। আর তুই তো কারেন্টে শক খাওয়ার মতো করছিলি।

বুঝতে বাকি রইল না; কেন ঝপাং ঝপাং করে ঝাড়ুর বাড়ি খেলাম। এ জন্যই হয়তো গুরুজনরা বলেন, এসব জিনিস কানে লাগাইলে অকালে কান যাবে। আজ কানের বদলে আমার গেল পিঠের ছাল!

কিছুদিন পরের কথা। রাস্তায় হেডফোন কানে দিয়ে গানের তালে হেলতে দুলতে রাস্তা পার হচ্ছি। এ সময় কোত্থেকে এক ফটোসাংবাদিক এসে আমার ছবি তোলা শুরু করল। ভাবলাম সেলিব্রিটি হয়ে গেছি হয়তো। রাস্তার মাঝখানে সুন্দর করে এক্সপ্রেশন দিয়ে দাঁড়ালাম। হঠাৎ এক অটোওয়ালার গালির আওয়াজ পেলাম- ‘অই ভাই, খাইয়াদাইয়া কাম নাই? রাস্তার মাঝখানে দাঁড়াইয়া আছেন ক্যান?’

হেডফোন কান থেকে খুলে বললাম, ‘কী হয়েছে? রাগছেন কেন?’ এককথায় দু’কথায় অটোওয়ালার সঙ্গে তর্কাতর্কির পর হাতাহাতি হয়ে গেল। আমার মুখ কেটে গেল, ঠোঁট ফাটল।

এর দুইদিন পর যথারীতি কলেজ থেকে হেডফোন কানে দিয়ে ফিরছিলাম। বাসার কাছে বাবাকে দেখলাম লাঠি হাতে দাঁড়ানো। কাছে যেতেই তিনি লাঠি দিয়ে সজোরে মারলেন। মাথার চুলগুলো বড় বড় ছিল বলে তিনি চুল ধরে আমাকে টানতে টানতে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলেন। বললেন, ‘রাস্তাঘাটে মাস্তানি করো? ছবিসহ আজ পত্রিকায় তোর নামে খবর বেরিয়েছে। দেখ হারামজাদা!’

এমন বিড়ম্বনায় নিজেই একসময় বিরক্ত হয়ে হেডফোন ব্যবহার বাদ দিলাম। আমার গার্লফ্রেন্ড ইয়ানা হেডফোনের পাগল। তার কাছে সব রঙের হেডফোন আছে। প্রতি ছয় মাস পরপর আমার তাকে হেডফোন গিফট করতে হয়। কাছে গেলে আমাকে হেডফোন কানে গুঁজে বসে থাকতে হয়। একদিন কড়াকড়িভাবে বলে দিলাম, ‘এ রকম হেডফোন প্রেম আমার দরকার নেই।’

ইয়ানা খুব রাগ করেছিল আমার কথায়। অতঃপর আমাদের ব্রেকআপ হয়ে গেল!