নাপিতের সাক্ষাৎকার

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

নাপিতের সাক্ষাৎকার

কাল্পনিক সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মুহা. তাজুল ইসলাম ১:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
নাপিতের সাক্ষাৎকার

নরসুন্দর নরহরি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সাক্ষাৎ করলেও সাক্ষাৎকার দেননি কখনো। প্রথমবারের মতো কাঁচি দূরে রেখে চুল নিয়ে নানা কথা বললেন তিনি...

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্টাইল করে চুল কাটার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন...
বিষয়টির সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ জড়িত। এই যেমন ধরুন পাশের গ্রামের কুলসুম মজনুকে কিন্তু মালিঙ্গা কাট দেখেই বিয়ে করেছিল। আমার বিয়েও হেয়ার স্টাইলের কারণেই হয়েছে!

আপনার মাথায় তো চুলই নেই, পুরো টাক!
জি, আমার বউ আবার আবুল হায়াতের ফ্যান। তার একটাই কথা ছিল, সে টাক ছেলে ছাড়া বিয়ে করবে না। আমার মাথায় চুল গজালে নাকি বউ আমাকে ছেড়ে চলে যাবে!

উত্তর কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বাধ্যতামূলকভাবে কিম জং উনের মতো করে চুল কাটার নির্দেশনা রয়েছে। এ ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন!
আমাদের দেশে এমনটি করলে কিন্তু ভালোই হতো। বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাফ পাস নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এমন নিয়ম থাকলে চুল দেখেই ভাড়া আদায় করা যাবে। আইডি কার্ড তো সবসময় সঙ্গে থাকে না!

অনেকে মতামত দিয়েছেন, স্টাইল করে চুল-দাড়ি কাটায় ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে...।
জি, জ্ঞানী ব্যক্তিরাও বুঝেছেন, চুলেরও অনেক গুণ রয়েছে। এই যেমন কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা আইনস্টাইনরা তো চুল বা দাড়ির প্রভাবেই নিজ কর্মে সফল হয়েছেন।

চুল কাটার ব্যাপারে সচেতনতার জন্য কোন পদ্ধতি আপনার কাছে সঠিক মনে হয়, আমাদের দেশের মতো মাইকিং করা নাকি উত্তর কোরিয়ার মতো সারাদিন টিভিতে প্রচার?
মাইকিং তো অনেক হলো, এখন টিভিতেও বিষয়টি আসা উচিত বলে মনে করি। বিশেষ করে বাতাবিলেবুর বাম্পার ফলন প্রোগ্রাম কিংবা মাহফুজুর রহমানের সঙ্গীত সন্ধ্যার সময়, কারণ ওই সময়ে দর্শক বেশি থাকে!

চুলবিষয়ক আদেশকে কীভাবে দেখছেন?
শুনেছি বিদেশে চুল কিংবা দাড়ি কাটার ওপর প্রতিযোগিতা আছে। ভেবেছিলাম আমার কাটা চুল-দাড়ি বিশে^র বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতা থেকে পুরস্কার এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এখন তো সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল!

সব শেষে আপনার যদি আর কিছু বলার থাকে...।
পুরুষের অধিকার চাই। চুল কাটার ব্যাপারে নারী-পুরুষ, সবার জন্য সমান নির্দেশনা চাই!