প্রশ্ন ভয়ঙ্কর

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

প্রশ্ন ভয়ঙ্কর

আবু সাইদ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
প্রশ্ন ভয়ঙ্কর

বুকের ব্যথা বাড়লে স্ত্রী ও ছয় বছর বয়সী ছেলে শিহাবকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেন বেলাল সাহেব। ছেলের বয়স ৬ বছর হলেও সে খুব কৌতূহলী বালক। কথায় কথায় প্রশ্ন করে বেকায়দায় ফেলে দেয়। চিকিৎসক বেলাল সাহেবকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললেন, তেমন কিছুই হয়নি। সামান্য কিছু ওষুধ খেলে এবং কিছু নিয়ম-কানুন পালন করলেই চলবে। তবে নিয়ম-কানুনগুলো কঠোরভাবে পালন করতে হবে। চুল পরিমাণও যেন এদিক-সেদিক না হয়।

শুনে শিহাব প্রশ্ন করল- বাবা, চুল পরিমাণ কী?
খুব কম পরিমাণ।
ও। সেটা বললেই হতো।
চিকিৎসক শিহাবের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। শিহাবের মা কিছুটা লাজুক বদনে চিকিৎসককে বললেন, ছেলেটা না একটু বেশি কথা বলে!

সেই রোগের পর থেকে মালেক সাহেব চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত সকাল-বিকেল হাঁটেন।

একদিন শিহাব জেদ ধরল বাবার সঙ্গে হাঁটতে যাবে। মনমেজাজ ভালো থাকায় তিনি শিহাবকে সঙ্গে নিলেন। কিছুদূর যেতেই অনেক লোককে একত্রে জড়ো হওয়া দেখে শিহাব বাবাকে বলল, ওখানে কী হয়েছে, দেখে আসি।
সেখানে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, কী সমস্যা?
জবাবে লোকটি বলল, চুলোচুলি।

এ কথা শুনেই শিহাব বাবাকে আবার প্রশ্ন করল, চুলোচুলি কী, বাবা?
মেয়েদের ঝগড়া।
মেয়েদের ঝগড়াকে চুলোচুলি বলে?
না।

মেয়েরা যদি চুল ধরে টানাটানি করে ঝগড়া করে তবেই তাকে চুলোচুলি বলে।
ছেলেরা চুল ধরে ঝগড়া করলে?

কিছু না। এই বলে মালেক সাহেব হাঁটা ধরলেন। কিছুদূর যেতেই শিহাব দেখল, দু’জন লোক খুব তর্ক ও রাগারাগি করছে। এর মধ্যে একজন সম্পূর্ণ টেকো। টেকো লোকটি রেগে অন্যজনকে বলছে, তুই আমার চুল ছিঁড়িস!

শিহাব বাবাকে বলল, ওই টেকো কাক্কুর মাথায় তো চুলই নেই। তবে তার চুল ছেঁড়ার কথা বলছে কেন?
ছেলের প্রশ্নে মালেক সাহেব থ মেরে গেলেন। বললেন, এ চুল মাথার চুল নয়।
তবে কোন চুল, বাবা?

মালেক সাহেব বিরক্ত হয়ে বললেন, জানি না। তোর মাকে জিজ্ঞেস করিস!
বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলেন তিনি।