যুদ্ধ কত প্রকার ও কী কী

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

যুদ্ধ কত প্রকার ও কী কী

আলম তালুকদার ৫:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

print
যুদ্ধ কত প্রকার ও কী কী

মূলের সঙ্গে মুলামুলি করার আগে আসুন আমরা জেনে নিই যুদ্ধ বিশেষ্যটির কতরকম বিশেষ্য আছে বা প্রতিশব্দ আছে। যেমন- রণ, সমর, সংগ্রাম, আহব, বিগ্রহ, যুদ্ধবিগ্রহ, যোধন, জঙ্গ, সংযুগ, সমীক, প্রঘাত, আয়োধন, সংস্ফোট, প্রতিদারণ, অভ্যামর্দ, সর্ম্মদ, সংখ্য, যুধ। সংঘর্ষ, লড়াই, সংঘাত, ঝগড়া, সমরানল, রণদামামা। মারামারি, পিটাপিটি, ধস্তাধস্তি, হানাহানি, লড়ালড়ি, কিলাকিলি, ঘুষাঘুষি, রক্তারক্তি। বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান, বিপ্লব। এ যুদ্ধ শব্দের প্রতিশব্দ যে কত তা লিখতে গেলে সব কাগজ শেষ হয়ে যাবে। আকাশে, বাতাসে, সমুদ্রে যেসব যুদ্ধ হয় সেসব যুদ্ধে আর গেলাম না।

দুনিয়ায় মানুষে মানুষে যুদ্ধ, দেশে দেশে যুদ্ধ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে যুদ্ধ, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যুদ্ধ, আবার পরিবারের যুদ্ধ এমনকি নিজের মধ্যেও প্রতিনিয়ত যুদ্ধ হতে থাকে! বিশ্বযুদ্ধ বছর বছর হয় না, এ পর্যন্ত মাত্র তিনটা হয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত সব দেশেই একরকমের যুদ্ধ চলতেই থাকে।

সরকারি বিরোধী দলের মধ্যে অদৃশ্য একটা যুদ্ধ লেগেই থাকে। আবার সরকারি সরকারি যুদ্ধও লেগে থাকে। কে কাকে ল্যাঙ মেরে উপরে যাবে তারও একটা যুদ্ধ আছে। পরিবারের মধ্যে কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিয়েও যুদ্ধ থাকে। এটা তো গেল একপ্রকারের যুদ্ধ। আরেক প্রকার যুদ্ধ আছে জন্মের পর থেকেই শুরু। বাঁচার লড়াই, টিকে থাকার লড়াই, সুস্থ থাকার লড়াই।

এ পৃথিবীতে যোগ্যরাই টিকে থাকে। নানারকম অসুখ বিসুখের বিরুদ্ধে লড়াই। বাস্তব জীবনে কামাই রুজি করার লড়াই। বিয়ের পরে সংসারে শান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াই। মা-বাবা হওয়ার লড়াই। সন্তানকে যোগ্যতর করার লড়াই। স্কুলে ভর্তির লড়াই। চাকরির লড়াই, ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই, রাজনীতিতে টিকে থাকার লড়াই। আদর্শের লড়াই। কে বেশি ভিআইপি তার লড়াই। কে বেশি যোগ্য বা ক্ষমতাবান তার লড়াই। তার মানে যেদিকে তাকাই আর যেদিকেই যাই শুধু যুদ্ধ বা লড়াই! স্বামী-স্ত্রীর লড়াইয়ের কথা আর বলার কী দরকার? এটা তো বাইটামিন মার্কা যুদ্ধ। এই রে জোকস ফাল মারিছে!

এক স্বামী তার বন্ধুদের খুব গর্ব করে শোনাচ্ছে- আরে তোমাদের মুখে খালি বউয়ের বদনাম। শোনো আমার সঙ্গে আমার বউয়ের কোনো বিরোধ নেই, যুদ্ধও নেই।

কেমন? কেমন? একটু বুঝাইয়া কও।
বুদ্ধি আর কৌশল বুঝলে? সংসারের ছোটখাটো বিষয়গুলো আমার বউ সামলায়। আর বড় বড় বড় সব আমি।
ছোটগুলো কী কী?

এই যেমন কার কী লাগবে, কোন বাজার করতে হবে কি খাব না খাব, সব তার সিদ্ধান্ত। আমার হাত খরচও সে নির্ধারণ করে দেবে। কাজেই নো ঝগড়াঝাটি। তো বড় সিদ্ধান্ত কী? এই যেমন চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ হবে কি না? পাক-ভারত যুদ্ধ হবে কি না? দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, এ বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো আমি নিয়ে থাকি। কাজেই বউয়ের সঙ্গে আমার নো কেওয়াজ, নো আওয়াজ! আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এবং আসল যুদ্ধ হলো নিজেকে চেনা। যে নিজেকে চিনতে পারে সেই আসল মানুষ। কিন্তু এটা সবার জন্য সম্ভব নয়।

প্রতিটি মানুষের ভেতরে সব সময় যুদ্ধ চলতেই থাকে। এটাকে বলা হয় কামনা বা ইচ্ছার দ্বন্দ্ব। অনেক কাজ সামনে কোনটা আগে করা হবে? এ নিয়ে মনের মধ্যে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চলতেই থাকে। কোন কামনা চরিতার্থ করা হবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাও এক কাজের কাজ। আয় কম, ব্যয় বেশি। তো কোনটা করা হবে? প্রেম করব নাকি করব না? লেখাপড়া করব নাকি করব না। ঘুষ খাব নাকি খাব না?

মিথ্যা বলব নাকি বলব না? ইত্যাদি কামনা বাসনা নিত্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে মানবমনের গহ্বরে! রোগ-বালাইয়ের বিরুদ্ধে মানুষের নিত্যযুদ্ধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে এডিস নামক এক ক্ষুদ্র মশা আমাদের করুণ দশা করে দিয়েছে। এ কামান বন্দুক আণবিক বোমা কোনো কাজে আসছে না! এ জগতের সব প্রাণী বৃক্ষরাজি সবাই যুদ্ধ করেই বেঁচে আছে। যুদ্ধ করতে করতে একসময় ফুরিয়ে যাবে। অন্যরা এসে সে স্থান দখল করে নেবে। এটাই মানুষের নিয়তি!