হরদম যুদ্ধ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

হরদম যুদ্ধ

গোলাম মোর্তুজা ৩:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

print
হরদম যুদ্ধ

যুদ্ধদিন ফুরোয় না। চলে সাধনা-আরাধনা। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি যুদ্ধ করে পেতে চাই আত্মশুদ্ধি- নিরবধি। মুগ্ধতার প্রতিচ্ছবি যাদের থাকে না কপালে, যুদ্ধ জয়ে ফেরেও চলে যায় বিফলে। অকারণে জীবনের ব্যাকরণে ওরা চলে রণে। ফরাসপুর গ্রামের ফরসা আলি (কাকের মতো কালো বলেই এমন নাম) বাবা খুররম আলি, সারা জীবন যুদ্ধ করেও পেল কালি আর আলিঝুলি। ছেলে ফরসা আলির বয়স পুঁইশাকের ডগার মতো তরতর করে বেড়ে যাচ্ছে।

তাই ছেলের সঙ্গে হরদম যুদ্ধ করে গ্রামের এক ছাদ ফুটা ও রংচটাঅলা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ছেলের সে কী হৈচৈ অবৈধ বাড়াবাড়ি পারলে ছিঁড়ে ফেলে বাবার কাঁচাপাকা দাড়ি। আজিব আল্লাহর সৃষ্টি ফরসা করে অনাসৃষ্টি। ফরসা বাবাকে খামোশ করে বলে দেয়, ‘আমি নেতা হব। তুখোড় নেতা। নেতা হওয়ার জন্য শিক্ষা লাগে। যতটুকু লাগবে তা এমনি হয়ে যাবে।’

ছেলের কথায় খুররমের লাগল বুঝি বল্লম। গ্রামবাসী হাজির হলো। বোঝাল সকলে, ‘নেতা হতেও বুদ্ধি ও শিক্ষা লাগে রে।’ ফরসা অবশেষে মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্কুলে যায় ক’বছর ধরে। এর মধ্যে সে সময়ের সঙ্গে লড়ে-প্রাণপণে অবতীর্ণ নেতার ভাবে। স্কুলে-বাইরে কয়েকজনকে কিল-ঘুষিও মেরেছে। ওর জীবনের ইতিহাস সে কথায় বলে। চারদিক হয়ে যায় খবর, নেতা তৈরি হয়ে জব্বর। দশ ক্লাস পার হলো। পরীক্ষার হলের পরোপকার শিক্ষার্থীদের সাহায্যে। কেউ সাহায্যের হাত না বাড়ালে পরীক্ষার হলেই, ‘এবার বের হ’। ফরসা পরীক্ষা ও পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যুদ্ধ করে দশ ক্লাস পাস-ভাবের আবাস।

গ্রামবাসী অবাক-খুররম আলি হলেন সবাক, ‘ছেলে আমার পাস করেছে এবার-জয় জয়কার।’
খুররম আলি এক কাকডাকা ভোরে, ছেলেকে ডাকলেন মৃদুস্বরে, নইলে ছেলেই বাবাকে, জর্জরিত করবে ধমকে- ‘বাবা ফরসা, পাস তো দিলা, এবার কী করবা ভাবছিলা?’ বাবার কথা শুনে ও বলল, ‘শহরের কলেজে পড়ব, টাকা লাগবে রেডি কর। যা করবার আমিই করব।’ ছেলের কথায় বাবার কিছু বলার নেই। বিড়বিড় করে বিড়ি হাতে ধরে বলল, ‘যেই না ছাত্র, অন্যের দেখা পাত্র। অকালকুষ্মাণ্ড। সে আবার পড়বে কলেজে। পড়ার মানহানি হবে যে।’ বাবার কথা শুনতে পায়নি ছেলে।

কিছু দিনের মধ্যে ফরসা কলেজে হলো ভর্তি। সে কী ফিরিস্তি। টাকা দিতে দেরি দেখে বাবাকে দিল খিস্তি!