গজবের গুজব

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গজবের গুজব

গোলাম মোর্তুজা ৪:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯

print
গজবের গুজব

দেশ চলে চক্র আর হাজারো চক্রান্তের বাঁকে বাঁকে। গজবের বিষে হারায় দিশে। ফিরে ফিরে তা আসে, সোনার বাংলাদেশে। বিরলপুর গ্রামে, গাছ ভরে আছে জামে। এখানে কিছু মানুষের ক্রোধও আছে জমে-মরমে। এ গ্রামের ইবলিশ ইদ্রিশ বাপে খেদানো, মায়ে তাড়ানো সন্তানসদৃশ। গ্রামের এমন কোনো গাছ নেই যে গাছের ফল পেড়ে নিজের মনে করে না খেয়েছে।

মালিক তেড়েছে, সে হেসেছে নতুন উদ্যমে অকাজ-কুকাজ করেছে। আজ সেই কি না পাতি নেতার ছাতি ধরে বেড়ায়। গ্রামে চুরি বেড়েছে- ওই-ই করিয়ে ছেড়েছে। ও আজ রটনা রটায় বিভ্রান্তি ছড়ায়- সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়-মনগোড়ায়-হাত নাচায়। দেশে ছেলেধরা বের হয়েছে- পদ্মা সেতুতে কল্লা লাগছে এ ধরনের নানা কথা বয়ে বেড়ায়- বলে বেলায় গ্রামের মোড়ে মোড়ে গুজব রটায়। গ্রামের সাধারণ মানুষ ‘হ্যাঁ, তাই নাকি, কী সব্বনাশি, কলির কাল এসেছে বৈকি’ প্রভৃতি বলে বলে যে যার মতো কাজে ব্যস্ত হয়।

বিনয় গ্রামের একজন বাসিন্দা, আর্থিকভাবে থাকে মন্দা। মাঝে মাঝে এ গাঁ ও গাঁ ঘুরে বেড়ায়। ছোটবাবু পেলেই মন ভরায়। বিয়ের দশ বছর পরেও সন্তানের মুখ দেখতে ও দেখাতে পারেনি চেষ্টা করেও। মানুষ যেমন ঘর বদলায়, বর বদলায়, সুর বদলায়, স্বর বদলায় এমন কোনো কিছুই বদলানোর মিহি বা মোটা সাহস দেখানোর দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। বিনয় বিনয়ের সঙ্গে গ্রাম বদলায় ছোটশিশু পেলে কাজ তার আদর করায়।

বিরলপুরের তল্লাটে- সবাই চেনেন একই মলাটে। আজ বিনয় গেল তিন গ্রামের পরের গ্রামে হেলেদুলে হেঁটে পুরোদমে। সে গ্রামে গেছে ছড়িয়ে, ‘ছেলে ধরে নিচ্ছে হাতিয়ে।’ বিনয় স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ ক’জনা এলো হাঁকিয়ে। বিনয় ছিল হাসিখুশি, পড়ল কিছু ঘুষি। বিনয় বলল, ‘আমাকে মারছ কেন? আমি বিরলপুরের বিনয়।’

বিনয়ের কথায় সবাই পেটায়। শরীরের রক্ত ফিনকি দিয়ে ছোটে, পাড়ার লোকেরাও মারকুটে-দাপুটে। ওর শরীরটা হয়ে গেল ভাঙাচোরা রাস্তার মতো। একজন বলল, ‘হয়েছে। আর মারিস না। নড়ে না তো- মরে গছে হয়তো। থামো সবে, পুলিশ আসবে। ওরা ফিরল ঘরে, আবার একটা করে লাথি মেরে মেরে।

বিনয়ের শরীর থেকে প্রাণটা সাঁই করে বের হয়ে গেছে। জনতার মুহুর্মুহু মোচড়ে রাস্তা সরগরমে, বিরলপুর গ্রামের আজ ব্যথায় সব চরমে। কে করবে এ দেশে সে প্ল্যান, সবার মাঝে স্বস্তির বাতাসে ফিরবে প্রাণ।