নৌকা সার্ভিস

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

নৌকা সার্ভিস

হামীম রায়হান ৬:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯

print
নৌকা সার্ভিস

রাস্তাঘাট সবই জলের নিচে। সারা শহর এখন জলের আওতায়! চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মনে হচ্ছে সমুদ্রের মাঝে কোনো দ্বীপে বসবাস করছেন মোখলেস সাহেব। তিনি সিটি করপোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার। বড় সাহেবের কড়া নির্দেশ-পরিস্থিতি যেমনই হোক, সবাইকে অফিসে আসতে হবে। জনগণের প্রতিষ্ঠান এটি; সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাই মুখ্য। কোমর পানি ভেঙে অফিসে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। সেদিন তো ম্যানহোলে পড়তে পড়তে বেঁচে গেলেন। মোখলেস সাহেব যে ফ্ল্যাটে থাকেন, সবার একই দশা! তাই ফ্ল্যাট কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি জরুরি সভা ডাকলেন।

যথাসময়ে সবাই এসে উপস্থিত। সবার উদ্দেশে মোখলেস সাহেব বললেন, ‘দেখুন, শহরের অবস্থা ভালো না। চারদিক পানি আর পানি। আমরা সবাই চাকরিজীবী। অফিসে যেতেই হয়। এ বন্যায়ও ছুটি নেই। পানিতে রাস্তা দেখা দায়। প্রতি বছরই এমন ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই ভেবে দেখলাম, যৌথভাবে কয়েকটা নৌকা কিনব। দুটো নৌকা আমাদের অফিস ও বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য। অন্যগুলো পাবলিক বাসের মতো শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ভাড়ায় চলবে। এতে কিছু বাড়তি আয়ও হবে আমাদের।’
একজন বলে উঠলেন, ‘নৌকার মাঝি কোথায় পাব?’

‘সেটাও ব্যবস্থা করে রেখেছি। আমাদের গ্রাম থেকে নিয়ে আসা হবে মাঝি। তারা কার ড্রাইভারদের নৌকা চালানোর প্রশিক্ষণ দেবে। তাদের ভাটিয়ালি গানও শিখতে হবে। ড্রেস কোড হবে লুঙ্গি ও ফতুয়া।

যেন গ্রামীণ আবহ পাওয়া যায়। নদীতে ভ্রমণের ফ্লেভার পাওয়া যাবে। সিটি করপোরেশনের অনুমতির ব্যবস্থা আমি করব। নিশ্চয়ই সিটি করপোরেশনও নৌকা কেনাকে উৎসাহিত করবে।’

সবাই ভেবে দেখলো, মোখলেস সাহেবের কথায় যুক্তি আছে। ইঞ্জিনিয়ার বলে কথা। না ভেবে কিছু বলবেন না। তার প্রস্তাবে রাজি হলো সবাই।

সবার সম্মতিতে সভা শেষে তিনি আবার বললেন, ‘এ সার্ভিসের নাম দেবো সিটি সার্ভিস। যে কেউ রিজার্ভ করতে চাইলেও পারবে। আমাদের সবার উচিত এ জলাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে মাছ শিকার ও সাঁতার শিখে নেওয়া। শরীরে একটু চুলকানি হলেও এগুলো জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।