সচিত্র জলচিত্র

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

সচিত্র জলচিত্র

গোলাম মোর্তুজা ৫:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯

print
সচিত্র জলচিত্র

অপরিকল্পিত নগরায়ণ- যাচ্ছে জীবন যেখানে জীবন। প্রকল্পের নাটাই, চলছে সদাই, কাজের বেলায় নাই বালাই। ঠন্ঠনাঠন্ ড্রেনেজ প্রকল্প। অতিকথনে সবই অল্প-স্বল্প-গল্প।

আক্কেল বস প্রকল্প প্রধান। সারা বছর চেয়ারে বসে বসে শুধু তা দেন। সরেজমিনে কাজের অভাব নেই। কাগজ-কলমে কোনো দিনই পড়েননি চাপে। মন ফুরফুরে রাখার জন্য নিজের চেম্বারে বিরাট অবয়বের একটি এলইডি টিভিও ঢুকিয়েছেন- মান বাড়িয়েছেন-কাওকে ঠকিয়েছেন।

প্রকৃতির সময়োচিত বর্ষণে যখন চারদিক থইথই তখন আক্কেল বস মিটিংয়ে বসেন। সে কী হইচই, সতর্ক করেন পইপই। কাজে মনোযোগ দিতে বলেন। মাহিনা হালাল করতে বলেন।

আজ বেশ ক’দিন থেকে টানা বৃষ্টিপাত। রাস্তাঘাট ডুবে টইটুম্বুর। খানা-খন্দ আর ড্রেনের কোনো অস্তি নেই, মানুষের মনে স্বস্তি নেই। এখানকার সকল ড্রেন সারা বছর আত্ম অবহেলায়, স্বেচ্ছাচারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হেলায়। নাগরিক জীবন হয়ে যায় অসহায়। জনগণের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আক্কেল বস আক্কেল করে ডাকলেন সবাইকে নিজ কক্ষে- বসও নিজ অক্ষে। মিটিংয়ে এসেছিলেন গণ্য-মান্য আর আচরণে জঘন্য ব্যক্তি, পশুবৎ লালসা ভেতরে সুপ্তি। বসেছিলেন প্রকল্পবাজরা, সাজিয়েছিলেন টাকার পসরা।

হঠাৎ করে আক্কেল বস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার ভঙ্গিমায় বললেন, ‘আপনারা জানেন বর্ষা গুটিগুটি পায়ে এসেছে আমাদের দরবারে, ড্রেন ভরে গেছে পানির সম্ভারে। কাজের গতি বাড়াতে হবে। জনগণকে বোঝাতে হবে আমরা বসে নেই। দেশ প্রধানকে দেখাতে হবে আমরা কত করিতকর্মা- দেশপ্রেমিক যেই। সবাই করে যান নিজ নিজ কাজ, সকাল দুপুর সাঁঝ।

কাজ চলছে ঊর্ধ্বশ্বাসে- দারুণ প্রতাপে। প্রকল্পের টাকা তসরুপাতে-অসাধারণ প্রলাপে-প্রলেপে। কান্তি দেবনাথ ব্যক্তি এ শহরের একজন সচেতন, তৈরিও করেছেন বেশ সুন্দর নিকেতন। বাড়ির পাশ দিয়ে আদি ড্রেন। বছর চলে যায় কেউ আসে না, ড্রেন ভরে যায় কেউ যাচে না। আজ সকাল থেকে কী যে হয়েছে শহরের অবাধ্য লেংচা কুকুরগুলো আওয়াজে আওয়াজে শহরটাকে মাতিয়ে তুলেছে।

এক প্রকার বিরক্ত ও বিব্রত হয়েই কান্তি সাহেব বের হলেন বাড়ির বাইরে। ঠিক ড্রেনের কাছে একটি বস্তা ভাসছে। একদল কুকুর পানির মধ্যে দিয়েই লাফাতে লাফাতে বস্তা টানছে। ভীষণ গন্ধ। মানুষ পচা গন্ধ। কুকুররাই বস্তা খুললো। মানুষগুলো দাঁড়িয়ে- পানি মাড়িয়ে দুর্গন্ধ শুকলো। প্রশাসন এলো। পরিচয় শনাক্ত হলো না। আর কিছু বলাও গেল না!