দশদিন ছাত্রের একদিন শিক্ষকের

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

দশদিন ছাত্রের একদিন শিক্ষকের

সুজন মজুমদার ২:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০১৯

print
দশদিন ছাত্রের একদিন শিক্ষকের

আবুল স্যার। তিনি ধর্মীয় শিক্ষক। স্যারকে সবাই ভয় পাই। স্যারের ক্লাসে সবাই আতঙ্ক থাকে। তিনি খুব হট মেজাজের লোক। পড়ালেখা ছাড়া অন্যকিছু তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

পাপ্পু সবচেয়ে খারাপ ছাত্র। কিন্তু সবচেয়ে দুষ্টু বালক। পাপ্পু স্যারের মারের ভয়ে অনেক সময় স্কুল মিস করে। আজ মনে করেছিল স্যার আসবে না তাই স্কুল পালাল না। কিন্তু উল্টোটা ঘটল। এখন তো স্যারের পড়া দিতেই হবে। স্যারের মার থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায় তাৎক্ষণিক বুদ্ধি বের করল।
পাপ্পুকে আবুল স্যার বললেন, হাত দাও। পাপ্পু উচ্চকণ্ঠে বলে উঠল, ‘স্যার পড়া পারি।’
‘কীভাবে সম্ভব? তুই তো আমার ক্লাসে কোনো দিনও পড়া পারিসনি।’
‘স্যার, গতকাল থেকে শপথ নিয়েছি। অন্তত আপনার পড়া শিখব।’
পাপ্পু প্রথম দুইতিন লাইন বলার পর আর মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না।
স্যার বললেন, ‘কী হলো?’
তারপর পাপ্পু শুরু করলো গুনগুন। পাপ্পু কী বলছে সে নিজেও জানে না। স্যার শুধু দেখছেন পাপ্পু ঠোঁট দুটো নাড়ছে। এইভাবে ৪/৫ মিনিট ঠোঁট দুটি নাড়তে থাকে। তারপর পাপ্পু উচ্চকণ্ঠে বলল স্যার, শেষ!
‘ঠিক আছে। বসো।’
পাশে বসা থাকা রানা বলে, ‘কি রে তুই এগুলো কী বললি, কিছুই তো হলো না!’
‘স্যার যে কানে কম শোনেন তা আজ প্র্যাকটিস করে নিলাম।’
একদিন পর। আজ আবার ক্লাসে ঢুকলেন আবুল স্যার। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাস নীরব হয়ে গেল। আবুল স্যার সবাইকে বললেন, ৫ মিনিট পড়া দেখে নাও। ৫ মিনিট শেষ। পাপ্পু গতকালের মতো গুনগুনিয়ে চালিয়ে দিলো। পাপ্পু মহাখুশি।
গ্রীষ্মের লম্বা ছুটি পড়েছে। ছুটির মধ্যে আবুল স্যার কানের অপারেশন করেছেন। আবুল স্যার এখন সব শোনেন। কিন্তু পাপ্পু জানে না স্যার যে কানের অপরেশন করেছেন।
এক মাস পরে। ক্লাসে এক এক করে সবার পড়া নেওয়া হচ্ছে। স্যার পাপ্পুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পড়া পারো?’
‘জি, স্যার।’
পাপ্পু আগের স্টাইলে বলতে লাগল। কিছুক্ষণ পর উচ্চকণ্ঠে বলে উঠল ‘স্যার, শেষ।’
আবুল স্যার তেলে বেগুনে লাল হয়ে গেছেন ‘তার মানে তোর পড়া পারার এই রহস্য!’
‘স্যার, আপনি কীভাবে জানলেন?’
‘আমি কানের অপারেশন করিয়েছি।’
পাপ্পুর কান ধরে বেঞ্চ থেকে বের করলেন। আবুল স্যার বললেন ‘তাহলে তুই এতদিন ধরে আমাকে ফাঁকি এবং পড়া চুরি করলি।’
বেত হাতে নিয়ে উত্তম-মধ্যম দিতে লাগলেন স্যার।
পুরো ক্লাস রুমে শোনা যাচ্ছে পাপ্পুর আর্তচিৎকার ‘ও মা গো, ও আব্বা গো, আমারে বাঁচান!’