চোর দেশের শোর

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

চোর দেশের শোর

গোলাম মোর্তুজা ২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০১৯

print
চোর দেশের শোর

চোরে চোরে, চালে চালে মাসতুতো ও পিসতুতো ভাই, লাল-সবুজাভ এ দেশে অভাব তো নেই। তারাই থাকে ভালো-টালো। সাধারণের শুধু হাপিত্যেশে জীবন জ্বলে আর জ্বালো।

পকেটখালী গ্রামের ছ্যাবলা কানন মৃত্যু পথযাত্রী বাবা সিরাতের কাছে থেকে সকল জমি-জিরাত চাপ ও ম্যাপ করে লিখে নিল মন ভরাল। ভিটা সমেত ছোট ভাই বঞ্চিত, বোনেরও কিছুই নেই সঞ্চিত। ছ্যাবলা কানন, করে জমি হরণ, কিনল চোরাই মোটরবাইকও। গ্রামের অদূরে এক বন কর্মকতাও ছিল। উনাকে ছ্যাবলা কানন একদিন বলল, ‘স্যার, বনের গাছ বেশি হয়ে গেছে, কিছু গাছ কাটা-ছাঁটা লাগবে।

এতে বনেরই সৌন্দর্য বাড়বে। এতে আপনার বড় পকেটে, আর কিছু আমাদের কেটে কাটা ছোট পকেটে ঢুকবে। ছ্যাবলা আগেও ছ্যাবলামি করে বন কর্মকর্তাকে বলেছিল লাভবান প্রস্তাব, আখের গোছান স্যারজান। আজ মন পরেছে নানা সাজ। ব্যাপক সফল করিৎকর্মা বন কর্মকর্তা বিন ভরটাজ, মগজে-সজাগে ভাবছেন একটি কড়চা তুলবেন চাকরির খরচা। চোখ পিটপিট করতে করতে বললেন, ‘সাবাস, বানাবো একটি আবাস! আছি রাজি, ভাগ হবে আধাআধি। রাতে করবা নীরবে কাটাকাটি, আমরা ঘুমিয়ে তখন ফাটাফাটি। পরে সরকারকে বোঝাবো সোজাসুজি, কখন কী হলো আমি ওসব না জানি।’

বন কর্মকর্তা লোক সাচ্চা। বাড়িতে তিন বাচ্চা। ওদের জন্য কিছু করার সাধ মনে বহুত আচ্ছা। ধরা পড়লে নিজে দেবে না গচ্চা তাই ছ্যাবলাকে হ্যাবলা ভেবে বললেন, ‘শোন, সরদার কানন (প্রথম পরিচয়ে ছ্যাবলা নিজেকে সরদার কানন বলে পরিচয় দিয়েছিল) যদি ধরা পড়ে চৌদ্দ শিকের ভেতরে লাল ভাত খেলেও আমার নাম বলবে না ভুলে। থাকবে তুমি দেবে। পরে তোমাকে মুক্ত করবো অন্য কোনোভাবে কারসাজি আছে তো ভবে।

করাতের আঘাতে-রাত-বিরাতে কাটা হলো গাছ দ্রুতগতিতে। সেখানে আরও ছিল কাঠ, সাজানো ঠাটবাট। সততার সঙ্গে সরদার কাননে কাঠ তুললো হাতে-হাতে ট্রাকে। ট্যাক চললো এঁকেবেঁকে, যারা নেবে তাদের পথের বাঁকে।

চুরি কাঠ হলো পাচার, হিস্যা বুঝে নিলো সবাই সবার। মুআল্লিম্ মুরতাদ বিন ভরটাজ কলমে-কাগজে-ফাইলে প্রমাণ করিয়ে দিলেন, বনদস্যুরা সব কাঠ ও কিছু গাছ কেটে নিয়ে গেছে। পাহারা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে এ কাননে।