ঘুষ দিলকুশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

ঘুষ দিলকুশ

গোলাম মোর্তুজা ২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

print
ঘুষ দিলকুশ

ঘুষ, দুর্নীতি আর মেগা প্রকল্পের ব্যথায়, আনচানে থাকি আমরা সবসময়। একদিন খ্যাপলাপাড়া গ্রামের আবাল, নিজেকে না করে আড়াল, ছোট, মেজ এবং বড় পাস দিয়ে বাবা সাবাল আলিকে হকচকিয়ে, মচমচিয়ে বলল, ‘আব্বা চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি। পাসও করেছি। কালা ভাইভা হবে, তারপর টাকা লাগবে।’

ছেলে আবালের কথা শুনে, বাবা সাবাল যেন সাবাড় হয়ে ভাগাড়ে পড়লেন, ‘কিছু বুঝি না রে বাবা, হয়ে গেলে নাকি হাবা-গোবা, বোঝাতে পারো না কোনো দাবিসভা। কিচ্ছু বুঝছি না কোথায় টাকা লাগবে?’

বাবার কথায় আবাল রেগে আর মেগে, স্ববেগে মন জ্বালানো আবেগে বলল, ‘বোঝো না? শুধু পাস করে, সম্ভাবনার এ দেশে, রূপকথার আবেশে কর্তাব্যক্তিদের পাশ কাটিয়ে গেলে চলে না। সেখানে লাগে মুটুশদের ভাগে মোটা অংকের টাকা। পাওয়া যায় তাতে নিয়োগ বার্তা। নচেৎ না, দিনে-রাতে, হাহাকারের সঙ্গে বাড়ে চাকরির দেনা।’

আবাল চাকরি নিল, গোপনে ঘুষের বিনিময়ে, আবেদন করে সবিনয়ে! সেদিন চাকরিদাতার ঘরে, ছিল সিসি ক্যামেরাজুড়ে। কেউ দেখতে পায় পাছে, তাই দরজার ওপাশে, খামে করে কী যেন নিলেন শেষে। ঘুষের টাকা নাকি খুচরা হয় না। এই সেই কারণে কারণেই, আবাল আগেই ব্যাংক থেকে বড় বড় নোট করে, পুরে রেখেছিল বাবার টেবিলের ড্রয়ারে।

চাকরিপতি টাকা নিয়ে, অভয়ে-সভয়ে-নির্ভয়ে গিয়ে বসলেন চেয়ারে। এয়ার কন্ডিশনার ছিল সে ঘরে। মনটা হলো তাই ফুরফুরে। ভাবছেন, ‘টাকা না নিয়ে করব কী? আমিও তো দিয়েছি একগাদা, অথচ ছিল বেশ মেধা। সেদিনই ভেবেছিলাম আমিও নেব, ছাড়ব না কাউকেও। নিচ্ছি বৈকি, টাকা ছাড়া আর আছে কী?’ চাকরিপতি আজ মহান বিচারপতি তিনি দিয়েছেন বলেই না নিচ্ছেন!

আর ওদিকে সাবাল আলি দেখে নিল আকাশ কালি। রাস্তায় যেতে যেতে, হাত মোচড়াতে মোচড়াতে বললেন, ‘বাবা, এতগুলো টাকা, দিয়ে হলাম ফাঁকা, খাব না তো ধোঁকা? থাকল কি কোথাও লেখা?’

বাবার কথায় আবাল যেন মাটি থেকে আকাশে পড়ল ‘এ কী বলো বাবা! ঘুষের টাকা সে তো এক দাবার চাল, বয়ে চলে নরমাল। কোনো প্রমাণ থাকে না, লাগে না। যারা টাকা নেন, তারা সততার সঙ্গেই কাজ করেন!’ ছেলের কথার মাথা-মু-ু বোঝে না সাবাল আলি, মনে শুধু দ্বন্দ্বের ঝুলি আমরা যেন সময়ের বলি। এ কথা আর কারে বলি!