ভ্যাবাচ্যাকার চ্যাপ্টা চাঁদ

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

ভ্যাবাচ্যাকার চ্যাপ্টা চাঁদ

গোলাম মোর্তুজা ২:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

print
ভ্যাবাচ্যাকার চ্যাপ্টা চাঁদ

জীবনের চারপাশে ঘুরেফিরে বারো মাসে আসে দু’ঈদ-দু’চোখ হারায় তখন নিদ, অনেক টাকওয়ালা-টাকাওয়ালার বাড়িতে অভাবের দায়ে, সময়ের নায়ে কাটে সিঁধ। জবরদস্ত ব্যাপারী এ রঙে ও রঙ্গে ভরা সংসারের সবার প্রতি তৃষ্ণা বোধ করে জামা-কাপড় সবই কিনেছেন। সবাই তাই ধন্য, বাবাই অগ্রগণ্য।

হঠাৎ সটান হয়ে পরিবারের ছোট ছেলে বলল, ‘আব্বা, আমার জন্য কী ধরনের চামড়ার স্যান্ডেল নিয়ে এসেছ? পায়ে লাগাতে, দু’মিনিট চলতে ভরাম করে গেল ছিঁড়ে, কাল ঈদে কী পায়ে দেব লোকের ভিড়ে? যাও বাজারে যাও, লোকটাকে কানমলা দাও। বদলে যাও, বদলায়ে দাও। বদল করে নিয়ে এনে দাও।’ ছেলে জবরের সব জব্বর কথা শেষ হতে না হতে মা ছামিয়ানা এলেন। দোপাটি দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় স্বরে বললেন, ‘সেমাই-চিনি নিয়ে এসেছ। তবে মিস করে কিসমিস নিয়ে আসোনি। যাও নিয়ে আসো, ভুল করে শেখো।’

সুযোগ পেলে সবাই জ্ঞান দেয় বৌ দেয়, ছোট ছেলেও দেয়। জবরদস্ত ব্যাপারী, বাড়িতে লাগিয়েছিলেন অনেক গাছ সুপারির। তিনি সেদিকেই তাকালেন, মনটাকে ভরালেন। শরীরের সঙ্গে একপ্রকার জবরদস্তি করে বের হলেন বাজারে। বাজারে লোক হাজারে হাজার, সরগরম কেনাবেচা। ‘ঈদ কাল হচ্ছে-হবে’ এ আওয়াজে, জমজমাট সমাজ। অল্প সময়ের ব্যবধানে, সময়ের আহ্বানে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল এ নগরে-বন্দরে-কন্দরে।

জবরদস্ত ব্যাপারী ছেলেদের উদ্দেশে বললেন, ‘তোরা বাইরে গিয়ে ঈদের চাঁদ দেখে আয়। আর একটা কথা, চাঁদ দেখে সবাই একবার সালাম দিস চাঁদকে। আবার কবে না কবে চাঁদকে দেখা যায়।’ বাবার কথা শুনে সবাই করল বলাবলি, আমরা জানি কীভাবে নিতে হয় সালামি।

চাঁদ দেখার আগে আমজনতা ইফতারিতে আম খেতে খেতে ভেবেছিলেন, ‘কালই ঈদ হবে।’

চাঁদ দেখে ছেলেরা পটকা ফুটাল, আনন্দে ভাসল, চাঁদও হাসল, মেঘও ডুবল।

চাঁদ দেখা কমিটি হলেন দাপুটে! সরকার বাহাদুর রয়েছেন সাপোর্টে। জনগণকে ভ্যাবাচ্যাকায় ফেলতে, হাজার বছরের পুরনো-মাকড়সায় জাল বোনানো মেশিন নিয়ে বসলেন কাহিনী বানাতে। জাঁদরেল কমিটি প্রধান কিছু ফোনে চেঁচায়ে, কিছু দিনিজীবী (দিনের বেলায় যিনি চিন্তা করেন) কিছু রাতিজীবী ও কিছু হক-কানি-আমলিদের সঙ্গে পরামর্শ করে চ্যানেলে বললেন সম্মেলনে, ‘ঈদুল ফিতর হচ্ছে আরও এক দিন পর।’ প্রধানের চটকদার কথা শুনে, দেশবাসী পড়ে গেল আনচানে।

জবরদস্ত খুশির ঠেলাতে, আনন্দে ভুসি উড়াতে উড়াতে স্ত্রী ছামিয়ানাকে বললেন, ‘এই শুনেছ? কাল ঈদ হচ্ছে না, রোজা রাখতে হবে। পরশু ঈদ হবে। এইমাত্র শুনলাম।’ ছামিয়ানা বেগম সুখের সামিয়ানা টাঙিয়ে শুকরান আলহামদুলিল্লাহ বলে বললেন, ‘বেশ।’

রাত যত গভীর হয় সংবাদ তত ঘনীভূত হয়। চাঁদ দেখা কমিটি জমাট রাতে, ভরাট কণ্ঠে, আবেগে-স্ববেগে, দ্ব্যর্থহীন ভাষায়, দরাজে হাঁকায়, ‘সকলের সঙ্গে কথা বলে, চাঁদ দেখতে পাওয়া সাপেক্ষে এ কমিটি আবার এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে আগামীকাল ঈদ হচ্ছে। ঈদ মোবারক।’

ঘোষণার সঙ্গে সেদিন ছিল না লেনাদেনা। অনেকেই ঘুমিয়ে, নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। অনেকেই আবার সাহরিও খেয়েছিলেন।

শুধু দেখা কমিটির জন্য এ বিড়ম্বনা। আমরা আপনাদের কোনোদিন ভুলব না!