বুদ্ধির জোর

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

বুদ্ধির জোর

শফিকুল ইসলাম শফিক ২:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

print
বুদ্ধির জোর

সারা দেশে নির্বাচন মৌসুমের মহাধুম। পদপ্রার্থীদের প্রচারণায় পায়ের জুতা ক্ষয় হয়ে গেছে। নতুন জুতা কিনেই বা কী লাভ? আকাশছোঁয়া জিনিসপাতির দাম, জুতার বাজারেও আগুন। আহার-নিদ্রা যেমন হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। বাপ-দাদার যুগ থেকে শুনে আসছি প্রচারে প্রসার।

এ কথা মেনে নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট চাইতে হয়। রাস্তায় রাস্তায় মাইকে পদপ্রার্থীদের জন্য গানের উচ্চ আওয়াজ। গানের সুরে নাচতে ভীষণ ইচ্ছে করে। নাচতে না জানলে যেন দিনটাই মাটি হয়ে যায়। নির্বাচনের গান বলে কথা। এত সুন্দর গান আর কী হয়!

গ্রামের ছেলে আবুল। বেশ কয়েক বছর ধরে শহরে থাকে। সে এখানকার ভোটার নয়। পদপ্রার্থীদের এ কথা বোঝানো বড় মুশকিল। তারা ভোটারদের মুখে কিছু না শুনে সরাসরি দলীয় মার্কা হাতে ধরিয়ে দেন। বলেন, সব কথা শুনব। ভোটের পরে আসুন! এখন যার যার প্রতীকে ভোট নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। ইতোমধ্যে ভোট নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নির্বাচন এলে বোঝা যায়, এটি ব্যস্ত শহর। যতদূর চোখ যায়, ধাঁধানো রঙিন পোস্টার চোখে পড়ে সবার। পোস্টারগুলো শহরে এক আকর্ষণীয় সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, যা ছড়িয়ে যায় চারদিকে।

বিকালবেলায় বাসায় কারও ঘুমানোর সাধ্য থাকে না। বিছানায় একটু কাত হলেই দরজায় পদপ্রার্থীদের বারবার ডাক শোনা যায়। এ ডাক শুনতে ভালোই লাগে। ছোট-বড় সবাই কান পেতে থাকে প্রতিদিন। আবুল অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা ব্যাচেলর বাসা ভাড়া পেল। নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকে। বাড়ির প্রধান দরজা লক করা থাকে না। বাড়িওয়ালা থাকেন তিনতলায়। পদপ্রার্থী যে কেউ এলে দরজায় শব্দ বাজে। আবুল দরজার কাছে যায়। বারবার তিনতলায় গিয়ে বাড়িওয়ালাকে ডেকে আনে। বাড়িওয়ালার মতো আজ সেও খুব অতিষ্ঠ।

হঠাৎ এক দিন আবুলের মাথায় একটি বুদ্ধি এলো। সে দরজায় একটি নোটিস টাঙিয়ে রাখল। তাতে লেখা ‘আমি নিচতলায় ভাড়া থাকি। এখানকার ভোটার নই। বাড়িওয়ালা তিনতলায় থাকেন। যে কোনো ভোটের প্রয়োজনে সেখানে যেতে পারেন।’

পরদিন থেকে তিনতলায় ওঠার ঝামেলায় পদপ্রার্থীরা পোস্টার ফেলে শিগগিরই যাওয়ার রাস্তা মাপে। আবুল ভাবল, বুদ্ধির জোর থাকতে হয়। নইলে এত দিন কান ঝালাপালা হয়ে যেত!