ঈদের পরেও ঈদপিষ্ট

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

ঈদের পরেও ঈদপিষ্ট

আলম তালুকদার ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ০৪, ২০১৯

print
ঈদের পরেও ঈদপিষ্ট

আপনি বা আপনার পরিবার ঈদে বাড়ি গেছেন তো? ধরলাম গেছেন। বেশি বউভাগ্য ভালো হলে কম ভোগান্তিতেই হয়তো গ্রামের বাড়ি গেছেন। গ্রামের পরিচিতিজনদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটিয়েছেন। অথবা যেতেই পারেননি। টিকিট পাননি বলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঈদানন্দ উপভোগ না করে ঈদপিষ্ট হয়েছেন। এ আনন্দযজ্ঞে অনেকের প্রাণ গিয়েছে দুর্ঘটনায়। আপনি আমি বেঁচে আছি। আল্লাহর দরবারে হাজারও শুকরিয়া। এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে গুলি করে মেরেই ফেলেছে। অনেকে আফসোস করছে। এক বন্ধু সব শুনে বলল, ‘ঘটনা এর চেয়েও খারাপ হতে পারত’!

শুনে আরেক বন্ধু রাগে ফেটে গিয়ে বলল, ‘আরে ব্যাটা আমাদের ঘনিষ্ঠ বাল্যবন্ধুকে আরেক বদমাস বন্ধু প্রকাশ্যে নিজের বাসায় গুলি করে মাইরা ফালাইল, তুই বলছিস, ঘটনা এর চাইতে খারাপ হতে পারত! বিষয়টা কী?’

‘পরকীয়া প্রেম না? তো এ ঘটনা যদি গত পরশু দিন ঘটত, তাহলে আমি গুলিতে মারা যেতাম! এ জন্যই বলছিলাম, ঘটনা আমার জন্য এর চেয়েও খারাপ হতে পারত!’ যারা ঈদে যে কোনো কারণে বাড়ি যেতে পারেননি, তারা কিছুতেই মন খারাপ করবেন না! ঘটনা এর চাইতেও খারাপ হতে পারত! বিপদের উপর আপদ আরও ভয়ানক! একবার নাকি বিদ্যাসাগর মহাশয়কে এক ইংরেজ ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্ন করেছিল, হোয়াট ইজ আপদ অ্যান্ড বিপদ? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এই যে বিদেশিদের সামনে চাকরির জন্য আবেদন করেছি এটা আমার জন্য আপদ, বাঙালি হয়ে ইংরেজদের কাছে বাংলা শব্দের অর্থ বলে চাকরির যোগ্যতা প্রমাণ করতে হচ্ছে। এইটা হলো বিপদ!’

আধুনিক সময়ে আমরা ‘শনের’ সনে বন্দি হয়ে গেছি। যেমন এডুকেশন, ইনফরমেশন, হাইপারটেনশন, টেনশন, পেনশন, ইলেকশন, নমিনেশন, রিকমেন্ডেশন ইত্যাদি ইত্যাদি। তো টেনশন কাকে বলে? এ সময়ে যদি আপনি টেনশন হজম না করতে পারেন, তাহলে সোজা কার্ডিও কেস! একটা উদাহরণ দিই। মনে করুন, এক দিন বিকালবেলা নিজের গাড়ি নিজেই চালিয়ে মিরপুর হতে প্রেস ক্লাব যাচ্ছেন। ফার্মগেট এলে, টিপ টিপ বৃষ্টি। এর মধ্যে হঠাৎ এক সুন্দরী ম্যাডাম হাত তুলে লিফট চাইলেন। আপনি সুন্দরীদের কোনোদিন না করতে পারেনি। তাকে গাড়িতে তুলে নিলেন। বেশ ফুর্তিতে গাড়ি চালিয়ে সাকুরার কাছে গেলেই ম্যাডাম পেটের ব্যথায় কাতর! আপনার একটু টেনশন শুরু হলো। তাকে নিয়ে বারডেমে ঢুকলেন। ইমারজেন্সি। আপনি গাড়ি পার্কিং করে সঙ্গে সঙ্গে হাজির আর ক্রমশ টেনশনের কাছে হাজির থাকছেন।

একসময় ডাক্তার বলল অভিনন্দন, আপনি বাপ হতে যাচ্ছেন। শুনেই টেনশন এবার কাঁপিয়া কাঁপিয়া বাড়িতে থাকিল! আপনি বললেন উনি তো আমার কেউ নন! নার্স বলল, ম্যাডাম আমাদের সব বলেছেন। আপনি টেনশন নেবেন না। আরে বলেন কী? চ্যালেঞ্জ। যাক ডিএনএ টেস্ট হোক। আপনি অহেতুক একটা ঝামেলায় পড়ে যাচ্ছেন। মানে টেনশন কাহাকে বলে আর কত প্রকার? তো ডিএনএ টেস্ট হলো। এক ঘণ্টা পর রিপোর্ট এলো, ‘আপনি কোনোদিন বাবা হতে পারবেন না! উহু রে মহা টেনশন? বাবা হতে পারব না! তাহলে কীভাবে দুই সন্তানের বাপ হলাম? টেনশন কাহাকে বলে আর ইহা কত প্রকার ও কী কী।

কপাল খারাপ যদি একবার হয় তাহলে তাকে ফেরানো খুব কঠিন। হাইওয়েতে ট্রাফিক পুলিশ টহল দিতে গিয়ে দেখে এক ইয়ং নাদুসনুদুস ছেলেকে ন্যাংটা করে কে বা কারা বেঁধে রেখেছে। তো পুলিশ কাছে গিয়ে ঘটনা কী জানতে চাইল। তখন ছেলেটি বলল, ‘আজকে আমার দিনটি খুবই খারাপ। জিএফের সঙ্গে ঝগড়া, তারপর গাড়ি নিয়ে রাস্তায়। হাইজ্যাকারের পাল্লায় পড়ে গাড়ি-টাড়ি সব নিয়ে গেছে। ডলার-টলার সব শেষে কাপড়-চোপড়ও সব। ন্যাংটা করে গাছের মধ্যে বেঁধে তারপর চলে গেছে! বলেন, আমার কেমনতর খারাপ দিন যাচ্ছে হে পুলিশ ভাই!

আপনি জনগণের বন্ধু। সব শুনে পুলিশ দ্রুত তার কাপড় খুলতে থাকে আর বলতে থাকে, ‘চিন্তা করে দেখলাম মানুষের এমন খারাপ দিন সবদিনই আসে না! আজকে সত্যিই আপনার ভয়ংকর খারাপ দিন!’ তো আমরা কারও খারাপ দিন প্রত্যাশা করি না। আমরা এককথার মানুষ। সেই তালুকদারের মতো। সে সকাল, বিকাল, রাত, সব সময় গুড মর্নিং বলত।

কারণ কী? সে বলত, আমি এককথার মানুষ, সবসময় এককথা বলি মানে গুড মর্নিং। তো আমারও এককথা। আসুন, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় উচ্চারণ করি মনে রে আজ কহ যে, ভালোমন্দ যাহাই আসুক মন্দ রে লও সহজে!