অনলাইনে ঈদ শপিং

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

অনলাইনে ঈদ শপিং

মোহাম্মদ অংকন ১২:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ০৪, ২০১৯

print
অনলাইনে ঈদ শপিং

মিসেস জরিনা এলাকার জনপ্রিয় নেত্রী। প্রচারণায় পিছিয়ে থাকার কারণে পরপর দুবার নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেছেন। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন না। প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ার একমাত্র কারণ এটাই। নির্বাচনে হারতে তো হবেই। তিনি এখন বুঝে গেছেন, নির্বাচনে ভোট এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাইলে হবে না, ফেসবুকে চাইতে হবে!

ফেসবুকে তিনি এখন মস্ত বড় সেলিব্রেটি। একে তো নেত্রী, তারপর আবার ফেসবুক সেলিব্রেটি। তাই ঘর থেকে বের হলেই ফ্যান-ফলোয়ারদের ভিড় বেড়ে যায় সেলফি তুলতে। সেলফি নিয়ে তার কোনো ভয়ভীতি নেই, তবে সেলফি তুলতে গিয়ে কারও হাতের ঘষা, মুখের ঘষা লেগে মুখের মেকাপ যদি উঠে যায়! এমন দুশ্চিন্তায় অন্তরালে থাকেন। ভার্চুয়ালি বেশ সক্রিয়, এতেই তার প্রচারণা ভালো চলছে।

এদিকে ঈদ চলে এসেছে। সবাই কেনাকাটা করতে যাচ্ছে শহরের বড় বড় মার্কেটে। ফেসবুকে চেকইন দিচ্ছে। শপিংয়ে গিয়ে ব্যাগপত্র হাতে নিয়ে সেলফি তুলে আপলোড দিচ্ছে। কে কয়টা পোশাক কিনল, তাও পোস্ট করছে। এসবই জরিনার নজরে পড়ছে বেশ। তারও ইচ্ছা করছে শপিংয়ে যেতে, কিন্তু একদম নিরুপায়। সেলিব্রেটি বিড়ম্বনার অতীত অভিজ্ঞতা তাকে শপিংয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। বিকল্প ভাবনা ছাড়া উপায় নাই। বর্তমানে অনলাইন শপিংয়ের কাটতি বেশ। অনেকেই ঘরে বসে কেনাকাটা করছেন।

যানজটে শপিংমলে যেতে হচ্ছে না। সেলিব্রেটিদের বিড়ম্বনার শিকারও হতে হচ্ছে না। সুযোগটা কাজে লাগানোর মোক্ষম সময় জরিনার। নতুবা তার ঈদ উদযাপন ভেস্তে যাবে। হেটার্সরা তাকে নিয়ে ট্রল করবে। পুরাতন পোশাক পরে ফেসবুক লাইভে আসতে হবে। এটি তার দ্বারা কখনো সম্ভব না। ঈদের দিন লাইভে না এলে ফ্যান-ফলোয়াররা কি মানতে পারবে? নেত্রী হিসেবেও সবার খোঁজখবর নেওয়া কর্তব্য। ফেসবুকের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার বিষয়টা তার জন্য সুযোগেরও ব্যাপার।

অনলাইনে ঈদ শপিংয়ের বিষয়টি জানাতে ফেসবুক লাইভ করলেন। ফলোয়ারদের মতামত নিয়ে অনলাইনে লাখ টাকার পোশাক, কসমেটিকস, জুয়েলারি, লেদার পণ্যের অর্ডার করলেন।

তিন দিন কেটে গেল। কেন এত লেট করছে? সেদিনই বিকালে প্রথম অর্ডার ডেলিভারি হলো। তিনি অর্ডার করেছিলেন ৩০ হাজার টাকা মূল্যের জামদানি শাড়ি। দুর্ভাগ্য, ডেলিভারির প্যাকেট খুলে দেখেন ৩০০ টাকা মূল্যের একটি হলুদ শাড়ি। জরিনা রীতিমতো স্ট্রোক করার পর্যায়ে। পরদিন সকালে দ্বিতীয় অর্ডারের ডেলিভারি হলো। অর্ডার করেছিলেন মেকআপ বক্স, প্যাকেট খুলে দেখেন কীভাবে রূপচর্চা করবেন, তা নিয়ে লেখা একটি চটি বই!

এবারও ট্রোকের পর্যায়ে গেলেন জরিনা। এভাবেই একে একে সব অর্ডারকৃত পণ্য ডেলিভারি হতে লাগল। জুয়েলারি অর্ডার করে পেলেন পিয়াজ, প্রসাধনী অর্ডার করে পেলেন বালুর প্যাকেট, লেদার সামগ্রী অর্ডার করে পেলেন কাপড় কাঁচার সাবান ইত্যাদি ইত্যাদি। এহেন অবস্থায় মিসেস জরিনা আধমরা। লাখ টাকা এভাবে জলে যাবে, ভাবতেও পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, আগামীকাল ঈদ!

মুহূর্তের জন্যও ফেসবুক লাইভে আসা হলো না। একটি পোস্টও শেয়ার হলো না। এরপর কি তার ফেসবুকীয় জনপ্রিয়তা থাকতে পারে!