সিক্রেট সিনক্রিয়েট

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

সিক্রেট সিনক্রিয়েট

গোলাম মোর্তুজা ১২:২২ অপরাহ্ণ, জুন ০৪, ২০১৯

print
সিক্রেট সিনক্রিয়েট

করম আলি কলম চালাতে শেখেনি বলে করিমগঞ্জে একটি বেকারি বিপণি খুলে বসেছেন। পরিবারে থাকার মধ্যে আছে এক ছেলে এক মেয়ে আর একমাত্র বৌ নূরবালা। নূরবালার নূরের পরশে সবাই থাকে হরষে। সেমাই ঈদের (ঈদুল ফিতর) আর মাত্র কটা দিন বাকি। এবার একটা ছক আঁকি। ছেলেমেয়েদের আবদার এবার ওরা গ্রামের বস্তাপচা সস্তা দামের পোশাক পরিধান করবে না। তারা এবার শহরের দামি বহরের পোশাক গায়ে জড়াবে মনটারে ভরাবে আনন্দে-রঙে-ঢঙে।

বড় ছেলে জহর বাবার উদ্দেশে ঢালল কথার নহর ‘ও আব্বা শুনো ঈদের জামা-প্যান্ট বারবার কিনে দাও গ্রাম থেকে। এবার সবার পোশাক কিনে দিতে হবে শহর থেকে।’

ছেলে জহর পঞ্চম শ্রেণিতে। কিন্তু দেহ ও মনে আছে বাড়বাড়ন্তে। জহরের কথা যেন জহরের (বিষ) মতোই লাগে। শহরের বাজার মানে অনেক টাকা অল্প কিছুতেই পকেট ফাঁকা। তারপরও আছে রাস্তাঘাটে ঝক্কি আর দোকানদারদের ঝামেলা। যাক সব চিন্তা আর টিন্তা পেছনে ফেলে এবার সবার জন্য যাবেই শহরের মলে, ধুত্তর শপিংমলে।

পরদিন সকালে করম আলি খড়ম পায়ে ঢুকিয়ে শহরে যাওয়ার ঢঙে মুখিয়ে। শহরের উদ্দেশে জহরকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হলেন। প্রথমে হেঁটে, পরে লোকাল বাসে। বাসের ভেতরে লোকের সবার ধাক্কা, কারও মনে ভয়ের নেই তোয়াক্কা। বাস গিয়ে দাঁড়াল শহরের মাছস্ট্যান্ডে। সামনে যাওয়া যাচ্ছে না। কোনো মন্ত্রী যাবেন নাকি এ রাস্তায় তাই বন্ধ সব হঠাতি।

বাস থেকে নেমে করম আলি জহরের দু’হাত ধরল চেপে ‘বাবা এবার কোন পথে যাই। আমি তো এ পথ চিনি না।’ বাবার কথায় কর্ণপাত করল না জহর। একনজর দেখে নিল প্রাণের শহর। কজনকে জিজ্ঞেস করে, বিশ মিনিট হেঁটে, ওভারব্রিজে উঠে নেভার মাইন্ডে যাচ্ছিল ওরা। এ ব্রিজ থেকে নামলেই শহরের কাপড়ের দোকান সময়ের আনচান। রোদে পুড়ে মনটা খটখটে হয়ে গেছে জহরের ‘আব্বা পানি খাব।’

রাস্তার ধারেই ভ্যানে এক অভিনব কায়দা-কানুনে, পানি বিক্রয় চলছে জমজমাট-সুখভরাট। এক গ্লাস পানি চাইতেই পানি বিক্রেতা ইয়া বড় এক গ্লাসে-লেবু মিশিয়ে কমলার রং ঢেলে মুখের সামনে ধরল। জহর এক লহমায় শরীরের যাতনায় ঢকঢক করে পানি পান করল। টাকা নেই পকেটে। একটা টাকাও নেই। পকেটের তলা কাটা। পাশেও ছাঁটা। বাজল বুঝি বারোটা!