মূল্য অতি ঊর্ধ্বগতি

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

মূল্য অতি ঊর্ধ্বগতি

আলম তালুকদার ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৯

print
মূল্য অতি ঊর্ধ্বগতি

রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন, ‘গতিতে জীবন মম স্থিতিতে মরণ’। এই বাণীকে সবাই এতটাই পছন্দ করে, আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় গতিময় থাকতেই হচ্ছে। তবে কবিগুরু শুধু গতির কথা বলেছেন, ডানে না বামে, সামনে না পেছনে নাকি উপরে না নিচের দিকে গতি বাড়াতে হবে তা কিন্তু খোলাসা করে বলেননি! কেন? এর জবাব পাওয়া যাবে তার একটি গানের মধ্যে ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’! এই জন্য আমরা কে কোন দিকে গতি বাড়াব তা তিনি নিরূপণ করে যাননি।

আমরা নিজেরা নিজেরাই এই মহান স্বাধীন ইচ্ছা যখন তখন বাস্তবায়ন করতে পারব। গাছ থেকে ফল নিচের দিকে পড়ার জন্য বড় হতে থাকে। ফল উপরের দিকে উজায় না! মানুষ আগে ছোট থাকে তারপর সে উপরের দিকে লম্বা হতে থাকে। একসময় আর উপরে বাড়তে পারে না। পাখি উপরে উঠে আবার নামে বিমান উঠে আবার নামে। ঢিল উপরের দিকে ছুড়লে আবার নিচে নেমে আসে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আছে সেসব জিনিসের দাম যদি একবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায় তা আর নামতে চায় না, নামতেই চায় না। জ্বর উঠলে মানে ১০৪ ডিগ্রি উঠার পর কিন্তু একসময় নামতেই হয়। কিন্তু দ্রব্যমূল্য একবার ‘হটটঙে’ মানে উপরে উঠলে কিছুতেই নামে না, নামে না!

এক কৃষক বউয়ের খুব জ্বর। বেশ কিছুদিন হয়ে যায় জ্বর ছাড়ে না। গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ। ডাক্তার কবিরাজও সহজলভ্য নয়। সে খুব চিন্তিত। তো এক দিন প্রচণ্ড রোদে ধান কাটতে গেছে। দুপুরবেলা বিশ্রামের জন্য কাঁচিটা রোদে ফেলেই গাছতলায় বসে জিরানি দিচ্ছে। বেশ খানিক পরে সে কাঁচিতে হাত দিয়ে দেখে মহাগরম হয়ে গেছে। হাতই দেওয়া যাচ্ছে না। তখন এক বয়স্ক কৃষক বলে, ‘বেটা তোর কাঁচির জ্বর আইছে, তাড়াতাড়ি পানিতে চুবা। দেখবি ঠাণ্ডা হয়া গেছে’। তো সে তাই করে হাতেনাতে ফল পেল। সে সন্ধ্যায় বাড়িতে গিয়ে বউকে জোর করে কোলে তুলে পুকুরের পানিতে আচ্ছামতোন চুবাইছে মানে ডুবাইছে। তার কথা হলো এত গরম কাঁচি যদি পট করে ঠাণ্ডা হয়া যাইতি পারে, তাহলে আমার গরম বউ ঠাণ্ডা হবি না কেনে’?

হাঁ হাঁ হাঁ। এমন সহজ বুদ্ধি তো সবার হয় না। বাজারের জিনিসপত্র পানিতে ডুবাইলে জ্বরের মতো দাম কমবে না! যাক কথা সেটা নয়। কথা হলো, সবকিছুকেই একসময় থামতে হয়। রাগ উঠলেও একসময় থামতে হয়। কিন্তু ওই যে আগেই বলছিলাম জিনিস যদি দামজ্বরে মানে ঊর্ধ্বগতির দামজ্বরে আক্রান্ত হয়ে একবার কয়েক ডিগ্রি উপরে উঠে যায় তা আর নামবে না, নামবেই না! এই ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম প্রযোজ্য নহে! কারণ কী? একমাত্র কারণ হলো, এটা মানুষ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তো দ্রব্যমূল্য কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার কায়দা কী? জবাবে একজন ভুক্তভোগী রাগে ক্ষোভে বলেছিলেন, ‘একমাত্র উপায় হলো বাজারে না যাওয়া এবং না খেয়ে থাকা। সাত দিন কেউ বাজারে না গেলে কিছু কেনাকাটা না করলে এমনিতেই বাজার দরের পতন হবে’! অর্থনীতির ভাষায় তো তাই। চাহিদা বেশি সরবরাহ কম! দাম বাড়বেই। আবার সরবরাহ বেশি চাহিদা কম। দাম কমবে। উৎপাদন বেশি হলেও যদি সরবরাহ ঠিক না হয় তাহলেও দাম বাড়বে। কিন্তু সব যদি ঠিক থাকে তারপরেও দাম বাড়ে? তাহলে বুঝতে হবে সিন্ডিকেট জনগণের মহান সেবায় নিয়োজিত আছেন। এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যারা আছেন তারও অতি মুনাফার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে। খোলাবাজার অর্থনীতিতে দাম নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন বটে। যাক সিরিয়াস কথা আমার জন্য নয়।

একবার প্রচণ্ড গরমে এক বানর ঠাণ্ডা শরবত খাওয়ার জন্য এক শরবতের দোকানে গিয়ে এক গ্লাস শরবত পান করে দাম কত জিজ্ঞেস করলে বলা হলো, ৫০ টাকা গ্লাস। ৫০ টাকা! এত দাম? জীবনে এই প্রথম শুনলাম!

দোকানিও কম না। সে বলল, জীবনে এই প্রথম কোনো বান্দরকে দাম জিজ্ঞেস করতে শুনলাম!