গরমে যা কিছু চরমে

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

গরমে যা কিছু চরমে

ইব্রাহীম রাসেল ৩:২৯ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৯

print
গরমে যা কিছু চরমে

ঘামছে শরীর, পুড়ছে দেহ। গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবনজুড়ে এক চরম অস্থিরতা। নেয়ে-খেয়ে-শুয়ে-বসে-কাজকর্মে কোনো কিছুতেই স্বস্তি নেই। বিশ্রী তাপদাহে শরীর ঘামে ভেজে। ঘাম থেকে তৈরি হয় গন্ধ। গন্ধগুণে কখনো কপাল হয়ে যায় মন্দ। চাকরির ভাইবা পরীক্ষায় এমন ঘামযুক্ত গন্ধ অবস্থায় প্রবেশ করলে কর্তৃপক্ষ আপনাকে প্রশ্ন করার আগেই বিদায় জানাবেন। যে কারণে অতিরিক্ত যারা ঘামে তাদের টেনশন চরমে। কিছু কিছু ঘামের গন্ধ এতটা জঘন্য হয় যে কেউ কেউ নাক নিয়ে পড়ে যান বিপদের চরমে। আবার লোডশেডিংয়ে এসি বন্ধ হলেও রাগ ওঠে চরমে। এ গরমে আক্কাস আলী যেসব চরম বিষয়ের মুখোমুখি হলেন, চলুন, দেখে আসি।

অফিসে যাওয়ার জন্য আক্কাস আলী বাসা থেকে বের হলেন। প্রতিদিনকার মতো রিকশা চেপে অফিসের কাছে এসে ২০ টাকা ভাড়া দিতে গেলেন, অমনি রিকশাওয়ালা বায়না ধরল ৪০ টাকার। কারণ জানতে চাইলে রিকশাওয়ালা বলে, যা গরম পড়ছে মামা, তাতে ২০ টাকায় খ্যাপ দেওয়া যায় না। আক্কাস আলীর অক্কা পাওয়ার মতো অবস্থা। তাই বলে একেবারে ডাবল! তার মানে গরমে রিকশা ভাড়াও চরমে! অফিসে ঢুকতে যাবেন, দেখেন পিয়ন শার্টের দু’তিনটা বোতাম খুলে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। 

পিয়নকে উদ্দেশ করে আক্কাস আলী বললেন, তুমি অফিসের নিয়মকানুন জানো না। এভাবে শার্ট খুলে রেখেছো কেন? পিয়ন জবাব দেয়, স্যার! থাকেন তো এসি রুমে বসে। আমার তো থাকতে হয় গেটে। এখানে তো আর এসি নাই। যা গরম পড়ছে নিয়ম মানি কখন?

অফিসের ভেতরে ঢুকে আক্কাস আলী দেখতে পেলেন আর এক ভিন্ন চিত্র। এসি চলছে, তবু দু’তিনজন সহকর্মী গায়ের শার্ট খুলে ফ্যান চালিয়ে শুকাচ্ছেন। কলিগদের উদ্দেশে বললেন, কী করছেন আপনারা? অফিসে এভাবে শার্ট খুলে শুকাচ্ছেন! এখনি তো ক্লায়েন্টরা এসে পড়বে। কলিগদের পক্ষ থেকে উত্তর আসে, ভাই! বাসে ঝুলে আসতে আসতে গরমে পুরো শার্ট ভিজে শেষ। এগুলো পরে কী অফিস করা যায়!

আক্কাস আলী বলেন, তাই বলে অফিসের নিয়ম ভেঙে? তারা জবাব দেয়, আর ভাই নিয়ম! গরমে অতিষ্ঠ জীবন!

আক্কাস আলী বুঝলেন গরমে অনিয়মও চরমে!

কিছুক্ষণ পর ফাইল হাতে বসের রুমে গেলেন সাইন করানোর জন্য। রুমে প্রবেশ করে আক্কাস আলী দেখলেন বস চেয়ারে চিত হয়ে শুয়ে বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে কপাল টিপছেন। আক্কাস আলী সাইনের কথা বলাতে বস উত্তেজিত হয়ে বললেন, আর সময় পেলেন না সাইন নেওয়ার?

বসের কিছু একটা হয়েছে ভেবে ভয়ে ভয়ে কাচুমাচু সুরে জিজ্ঞেস করলেন, স্যার, কোনো সমস্যা?

বস বললেন, সমস্যা কী একটা? কটার কথা শুনবেন। বাচ্চাগুলোর স্কুলে এসি নেই। গরমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দুটোর গায়েই ঘামাচিতে ভরে গেছে। সে এক সমস্যা। ওদিকে বউ খেয়ে খেয়ে শরীরটাকে এত মোটা বানিয়েছে যে এই গরমে কাপড়-চোপড় ঠিকভাবে রাখতে পারছে না। বাসার পাশের বিল্ডিংয়ে আমার ফ্ল্যাটের সোজাসুজি ফ্ল্যাটে ব্যাচেলররা থাকে। গরমে তো বউয়ের পোশাক-আশাকের ঠিক নাই। সব নিয়েই ভীষণ টেনশন।

আক্কাস আলী অনুধাবন করলেন, গরমে টেনশনও তবে চরমে!

অফিস শেষ করে বাসায় ফেরার পথে মাছ বাজারে ঢুকলেন আক্কাস আলী। ঘুরে ঘুরে মাছ দেখে এক মাছওয়ালার মাছ বাম হাতে টিপে দেখে বললেন, নরম হয়ে গেছে।

দাম কত? মাছওয়ালা জবাবে বলল, নরম হলেও স্যার দাম চরম। গরমে মাছ এনে বেশিক্ষণ রাখা যায় না। বরফ দেখেন না তাড়াতাড়ি গইলা যায়। মাছের আমদানি কম বলে বাজার গরম। নরম মাছের দাম শুনে এবার আক্কাস আলীর মাথা গরম। সবজি কিনতে গিয়ে দেখলেন আরও খারাপ অবস্থা। ৮৯-৯০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। অবশেষে বুঝলেন গরমে বাজারও চরমে।

বাসায় খালি হাতে ফিরলে এবার বউ গরম। বউ বলল, বাজার না নিয়ে এসেছো। বাসায় কোনো বাজার নাই। রান্না করব তোমার মাথা? এমনিতেই যে গরম, রান্নাঘরে বেশিক্ষণ থাকাই দায়। কবে থেকে একটা এসি কিনতে বলি তাও কেনার নাম নাই। এভাবে কী সংসার করা যায়?

গরমে বউয়ের মাথাও চরমে। যা খুশি বলে যাচ্ছে। আক্কাস আলী পোশাক পাল্টে গামছা কাঁধে ওয়াশরুমে ঢুকলেন। গোসলের জন্য সাওয়ার ছেড়ে দেখলেন সারা দিনের প্রখর রোদে পানিও প্রচণ্ড গরম হয়ে আছে। এবার গোসলের অবস্থাও চরমে!